নিজস্ব প্রতিনিধি, বর্ধমান: এ যেন কোনও ওয়েব সিরিজের কাহিনি— ‘গ্যাংস অব বেরুগ্রাম’। দুই বাহুবলীর গল্প। একদা দুজনে একসঙ্গেই সমস্ত অপারেশন চালাত। পরে আলাদা হয়ে গিয়ে একে অপরের বিরুদ্ধে ঘুটি সাজাতে শুরু করল। ঘটনাস্থল জামালপুরের বেরুগ্রাম পঞ্চায়েত। যেখানে দুই বাহুবলীর দ্বন্দ্ব চরমে উঠেছে। আর এই সুযোগইে সাধারণ মানুষ ক্ষোভ উগরে দিচ্ছেন বাহুবলীদের বিরুদ্ধে।
বেরুগ্রামে একদা সাইকেলে চড়ে বাড়ি বাড়ি ভাঙাচোরা জিনিস কেনাবেচার ব্যবসা করত যে, সাইকেল ভেঙে গেলেও সারানোর পয়সা জুটত না যার, সে-ই এখন ৩০ লক্ষ টাকার গাড়ি চড়ে ঘুরে বেড়ায়। ২০১৩ সালের আগেও পরিবারের আড়াই বিঘা জমি ছিল। এখন তা বেড়ে কয়েকগুণ হয়েছে। বাড়ির ভোলও বদলে গিয়েছে। এলাকায় কান পাতলে শোনা যায়, অবৈধ বালির ঘাট দখল করেই তার এই উত্থান। স্থানীয়দের বক্তব্য, তাকে সন্তষ্ট না করে কেউ দামোদরে বৈধ বালির ঘাটও চালাতে পারেন না। আর অবৈধ বালির ঘাট তো তারই নিয়ন্ত্রণে। দু’ বছর আগেও জামুদহ, শম্ভুপুর এবং চলবলপুর এলাকায় অবৈধ বালির ঘাটের রমরমা ছিল। জামুদহে নদীর চর এই বাহুবলীর সৌজন্যে উধাও হয়ে গিয়েছে।
এই বাহুবলীরই লেঠেল বাহিনীর প্রধান ছিল অপরজন। পরে বসের থেকে পৃথক হয়ে সে নিজেই আর এক বাহুবলী হয়ে ওঠে। দুজনের এই দ্বন্দ্বের সুযোগ নিয়েই গ্রামের বাসিন্দারা নানা অপকর্মের অভিযোগ তুলে সরব হয়েছেন। ফিরোজের বিরুদ্ধে গ্রামের বাসিন্দারা জোর করে জমি দখল, তোলা আদায় সহ বিভিন্ন অভিযোগে এনেছেন। তাঁরা রাস্তায় নেমে বিক্ষোভ দেখিয়েছেন। তৃণমূল সূত্রে জানা গিয়েছে, বেরুগ্রাম পঞ্চায়েতে দলের দুই নেতা শেখ ফিরোজ এবং শেখ সহাবুদ্দিন ওরফে দানির দ্বন্দ্ব তুঙ্গে উঠেছে। দু’জনে একই শিবিরের লোক হিসেবে পরিচিত ছিল। এখন তাঁদের সম্পর্কে ফাটল ধরেছে। একে অপরের বিরুদ্ধে তোপ দাগছেন। ফিরোজের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়ার দাবিতে চককৃষ্ণপুর, শম্ভুপুর, জামুদহ সহ বিভিন্ন গ্রামের বাসিন্দারা একজোট হয়ে বিক্ষোভ দেখিয়েছেন। তাঁদের কারও দাবি, ফিরোজ জোর করে চাষের জমি দখল করেছে। আবার কারও দাবি, তাঁর কাছে অন্যায় ভাবে টাকা আদায় করেছেন। ফিরোজ অবশ্য তাঁর বিরুদ্ধে ওঠা অভিযোগ অস্বীকার করেছেন। তিনি বলেন, এর পিছনে রয়েছে দানির হাত। আমাকে বদনাম করা হচ্ছে। দানি এই কয়েক বছরে কীভাবে এত সম্পত্তির মালিক হয়ে উঠলেন তা তদন্ত করা দরকার। দানি অবশ্য এসব নিয়ে কিছু বলতে চাননি। তিনি বলেন, গ্রামের বাসিন্দারা বিভিন্ন জায়গায় অভিযোগ জমা করেছেন। দল এবং পুলিস সবকিছু তদন্ত করে দেখছে।
তৃণমূল সূত্রে জানা গিয়েছে, দানি তৃণমূলের লোক, বেরুগ্রাম পঞ্চায়েতের সভাপতি। এলাকায় দাপুটে নেতা হিসাবে পরিচিত। ২০১৩ সালে তিনি প্রথমবার পঞ্চায়েত সদস্য নির্বাচিত হন। তখন থেকেই তাঁর দাপট বাড়তে থাকে। স্থানীয়রা বলেন, এবছর প্রশাসনের কড়া নজরদারির ফলে আগের মতো অবৈধ বালির ঘাট চলেনি। অবৈধ বালির ঘাটগুলি বন্ধ করলেই বাহুবলীদের দাপট কমে যাবে। তৃণমূলের এক নেতা বলেন, নেতৃত্ব নজর রাখছে। দলের ভাবমূর্তি নষ্ট করলে কাউকে ছাড়া হবে না।