Bartaman Logo
১০ জুন, ২০২৬
বর্তমান / কলকাতা

কুম্ভকে পিছনে ফেলেছে গঙ্গাসাগরের আয়োজন, বাবুঘাট দেখে খুশি যোগীরাজ্যের রঘুরাম ও ছত্তিশগড়ের কেশবরা

পানীয় জলের ব্যবস্থা, নিরাপত্তার আয়োজন থেকে আম জনতার জন্য সরকারি সক্রিয়তা— সবেতেই কুম্ভের তুলনায় গঙ্গাসাগর মেলাকে এগিয়ে রাখছেন যোগীরাজ্যের বাসিন্দা কিংবা বিজেপি শাসিত ছত্তিশগড়ের বাসিন্দারা।

কুম্ভকে পিছনে ফেলেছে গঙ্গাসাগরের আয়োজন, বাবুঘাট দেখে খুশি যোগীরাজ্যের রঘুরাম ও ছত্তিশগড়ের কেশবরা
  • ১২ জানুয়ারি, ২০২৬ ০৪:০০
Prefer us on Google

নিজস্ব প্রতিনিধি, কলকাতা: পানীয় জলের ব্যবস্থা, নিরাপত্তার আয়োজন থেকে আম জনতার জন্য সরকারি সক্রিয়তা— সবেতেই কুম্ভের তুলনায় গঙ্গাসাগর মেলাকে এগিয়ে রাখছেন যোগীরাজ্যের বাসিন্দা কিংবা বিজেপি শাসিত ছত্তিশগড়ের বাসিন্দারা। গঙ্গাসাগরকে কেন্দ্র করে বাবুঘাটে প্রতি বছরই তৈরি হয় গঙ্গাসাগরের ট্রানজিট পয়েন্ট। সেখানে ভক্তদের জন্য যাবতীয় ব্যবস্থা করে রাজ্য প্রশাসন। সেখানকার আয়োজন দেখে সন্তুষ্ট ভিনরাজ্যের বাসিন্দারা।

Advertisement

উত্তরপ্রদেশের প্রয়াগরাজের বাসিন্দা রঘুরাম প্রায় আশি ছুঁইছুঁই। দলবলের সঙ্গে সস্ত্রীক এসেছেন তিনি। এই নিয়ে পাঁচবার গঙ্গাসাগরে এলেন রঘুরাম। ১৪ জানুয়ারি মকর সংক্রান্তিতে পুণ্যস্নান করে বাড়ি ফিরবেন। শুধু তিনি নন, তাঁর সঙ্গে এসেছেন এক ঝাঁক পুণ্যার্থী। কেউ প্রথমবার, কেউ আবার প্রতি বছরই আসেন। আয়োজন দেখে ‘অবাক’ রঘুরাম। বলেন, কুম্ভে গিয়েছি। নিজের রাজ্যের বদনাম করব না। কিন্তু, এখানে প্রতি বছরই দেখি, আয়োজন দিনের পর দিন আরও ভালো হচ্ছে। কুম্ভে এত মানুষ মারা গেল। ভিআইপিদের জন্য আলাদা ব্যবস্থা। আম জনতা ঠিকমতো পরিষেবা পায় না। অথচ এখানে সুষ্ঠু ব্যবস্থাপনা। কোনও অসুবিধা হয় না। 
ইতিমধ্যেই গঙ্গাসাগর মেলা ও স্নানকে কেন্দ্র করে পুণ্যার্থীদের ভিড় জমতে শুরু করেছে কলকাতার বাবুঘাট লাগোয়া ট্রানজিট ক্যাম্পে। রাজস্থান, অন্ধ্রপ্রদেশ, বিহার, উত্তরপ্রদেশ, মধ্যপ্রদেশ, হরিয়ানা, গুজরাত সহ বিভিন্ন রাজ্যের পুণ্যার্থীদের এখন ঠিকানা কলকাতা। বাবুঘাট যেন হয়ে উঠেছে এক টুকরো ‘মিনি গঙ্গাসাগর’। কেউকেউ আবার একে ‘মিনি ভারত’ও বলেন। ছত্তিশগড়ের রায়পুর বাসিন্দা কেশব, পরশুরামের কথায়, কুম্ভে গিয়ে দেখেছি, অনেক ক্ষেত্রেই চূড়ান্ত অব্যবস্থা। ভিআইপি এলে পুলিশ আম জনতার কথা ভুলে যায়। সেখানে শৌচালয়ে জল ছিল না, অভিযোগ জানিয়েও লাভ হয়নি। এমন বহু অভিজ্ঞতা আছে। অথচ এখানে গত তিন বছর ধরে আসছি। সব ঠিকঠাক। তাঁদের কথায়, নিয়মিত সাফাই হচ্ছে। অস্থায়ী বাথরুমগুলিতে ২৪ ঘণ্টা জল মিলছে। খাবারের ব্যবস্থাও রয়েছে। আয়োজনে কোনও খামতি রাখেনি এখানকার প্রশাসন। 
আর কয়েকদিন বাকি সংক্রান্তির। হাজারো পুণ্যার্থীর ভিড়। বিভিন্ন ধর্মীয় প্রতিষ্ঠানের তৈরি লঙ্গরখানায় চলছে বিনামূল্যের ভোজন। কোথাও খিচুড়ি, তো কোথাও ভাত-ডাল, আবার কোথাও সবজি-পুরি। রবিবারই অনেকে রওনা হয়েছেন সাগরে।
এই শিবিরকে কেন্দ্র করে শুরু হয়েছে মেলা। ছোট হকাররা পসরা নিয়ে বসেছেন। কেউ শাড়ি, কেউ ব্যাগ, কেউ বেল্ট, খেলনা, সিঁদুর, কম্বল, দেবদেবীর ছবি বিক্রি করছেন। শিবিরের একাধিক জায়গায় ঘাঁটি গেড়েছে সাধু-সন্তরাও। চলছে যজ্ঞের পালা। থিকথিক করছে ভিড়। রাজস্থানের শর্মিলাদেবী থেকে উত্তরপ্রদেশের সুভদ্রাদেবী, বিভিন্ন রাজ্যের মানুষের সহাবস্থান এখানেই।

Advertisement
সম্পর্কিত সংবাদ