সংবাদদাতা, বজবজ: নোদাখালির মধ্যরায়পুর। গঙ্গার একেবারে কোল ঘেঁষে রয়েছে ২২৭ বছরের পুরনো জায়গাটি। সেটি পরিচিত জাতের মেলার মাঠ নামে। পরে সেখানে ব্রিটিশ বিরোধী আন্দোলন দানা বাধে। এক সময় স্বাধীনতা সংগ্রামীদের গোপন ডেরা গড়ে ওঠে। পরে বিপ্লবীদের স্মরণে এই জায়গার নাম স্বদেশী মেলার মাঠ হিসেবে পরিচিতি পায়। তখন কুড়িদিন ধরে হতো বিশাল মেলা। বিপ্লবীরা ছদ্মবেশ ধারণ করে দোকানদার সেজে পশরা সাজিয়ে দোকান দিতেন। কেনাবেচার আড়ালে চলত নেতাদের সঙ্গে চিঠি চালাচালি। কোথায় ইংরেজদের বিরুদ্ধে কি অপারেশন চালাতে হবে তার নির্দেশ লেখা থাকত চিঠিতে। হতো আগ্নেয়াস্ত্র চালাচালিও। বুড়ুলের গোপন ডেরা থেকে এইসব কাজ পরিচালনা করতেন মাস্টারদা সূর্য সেনের সহযোগী অনুরূপচন্দ্র সেন। অনুরূপ নদীপথে মেলায় আসতেন একদিন অন্তর। এসে বিপ্লবীদের সঙ্গে দেখা করতেন। তাঁদের সংগ্রামে উৎসাহ দিতেন। সাহস জোগাতেন। বিপ্লবী সংগঠনের পরিকল্পনা নিয়ে দোকানের আড়ালে বসে আলোচনা করতেন। মেলার মাঠের কালচারাল সেক্রেটারি রাজকুমার প্রামাণিক জানান, মাঠে বিপ্লবীদের কর্মকাণ্ড শুরুর আগে এক জমিদারের নায়েব কর্মকার পরিবার গঙ্গাপুজো এবং কালীপুজোর প্রচলন করেছিলেন। এই পুজো ঘিরে মেলা হতো। তখন নাম ছিল জাতের মেলা। পরবর্তীকালে এর নিয়ন্ত্রণ বিপ্লবীদের হাতে চলে যায়। ফলে স্বদেশী মেলার মাঠ হিসেবে পরিচিতি পায়। অনুরূপ বুড়ুলে আসার আগে থেকেই ইংরেজদের খাতায় ফেরার ঘোষণা হয়ে গিয়েছেন। তখন মোস্ট ওয়ান্টেড ক্রিমিনাল হিসেবে পরিচিত। কারণ ততদিনে চট্টগ্রাম অস্ত্রাগার লুণ্ঠনকাণ্ডে মাস্টারদার ঘনিষ্ঠ সহযোগী হিসেবে পরিচিত হয়ে গিয়েছেন তিনি। ইংরেজ পুলিস তাঁকে হন্যে হয়ে খুঁজছে। সে সময়ই তিনি অন্যান্য বিপ্লবীদের থেকে ২৪ পরগনার সুন্দরবন অঞ্চলের জলে জঙ্গলে ঘেরা শ্বাপদসঙ্কুল রায়পুর থেকে বুড়ুলের হদিশ পান। বাড়িঘর, বাবা-মা ও আত্মীয়স্বজন ছেড়ে একবস্ত্রে অবিভক্ত বঙ্গের চিটা গং (এখন বাংলাদেশের চট্টগ্রাম) থেকে পুলিশের চোখে ধুলো দিয়ে বুড়ুলে এসে শিক্ষকের ছদ্মবেশ নেন। ঘাঁটি গাড়েন। তার আগে অসহযোগ আন্দোলনে যোগ দেওয়ার জন্য পুলিস আটক করেছিল তাঁকে। বিপ্লবীদের সংগঠন হিন্দুস্থান যুব রিপাবলিকান অ্যাসোসিয়েশনের চট্টগ্রাম শাখার অন্যতম স্থপতি হিসেবে সূর্য সেন, নগেন্দ্র সেন, অম্বিকা চক্রবর্তী, চারুবিকাশ দত্ত’র সঙ্গে এক সারিতে তাঁর নাম উচ্চারিত হতো। দক্ষিণেশ্বর বোমা কারখানা তৈরির কাণ্ডেও তাঁর নাম জড়ায়। এখনও মেলা মাঠ বিখ্যাত। এখনও কালীপুজো, গঙ্গাপুজো হয়। নিজস্ব চিত্র



