Bartaman Logo
১০ জুন, ২০২৬
বর্তমান / রাজ্য

ভাগীরথীর বিভিন্ন ঘাটে মহাসমারোহে গঙ্গাপুজো

ভাগীরথীর বিভিন্ন ঘাটে মহাসমারোহে গঙ্গাপুজো
  • ৬ জুন, ২০২৫ ০৪:০০
Prefer us on Google

সংবাদদাতা, নবদ্বীপ: বৃহস্পতিবার নবদ্বীপে ভাগীরথীর বিভিন্ন ঘাটে মহাসমারোহে অনুষ্ঠিত হল গঙ্গাপুজো। পুজোকে কেন্দ্র করে এদিন প্রতিটি ঘাটে মেলা বসে। এদিন ভোর থেকে রানিরঘাট, বড়ালঘাট, পোড়াঘাট, ফাঁসিতলা ঘাট, শ্রীবাসঅঙ্গন ঘাটে পুণ্যস্নানের জন্য বহু মানুষ ভিড় করে। শুধু নবদ্বীপ নয়, পার্শ্ববর্তী কৃষ্ণনগর, ধুবুলিয়া সহ আশপাশের বিভিন্ন এলাকার মানুষ ও বহু ব্যবসায়ী পুজো দিতে আসেন। দূর-দূরান্ত থেকে অনেকেই জলপথে নৌকায় গঙ্গা প্রতিমা নিয়ে এসেছিলেন। এরপর পোড়াঘাট, শ্রীবাসঅঙ্গন ঘাট, ফাঁসিতলা ঘাট সহ বিভিন্ন ঘাটে সেই প্রতিমাগুলি পুজো করা হয়। কৃষ্ণনগর ঘূর্ণির দাসপাড়া, হালদার পাড়া সহ বেশকিছু এলাকা থেকে অনেকে নৌকা করে সপরিবারেও হাজির হয়েছিলেন গঙ্গাপুজো করতে। কেউ কেউ আবার নৌকার মধ্যে গঙ্গাপুজো করেন। এদিন নৌকার মধ্যে পুজোর আয়োজনের পাশাপাশি ভোগ রান্নাও হয়।

Advertisement

এদিন রানির ঘাটে নবদ্বীপ ব্যবসায়ী সমিতির তরফে পুজো করা হয়। আবার বড়ালঘাটে ফেরিঘাট কর্তৃপক্ষ এবং শ্রীবাসঅঙ্গন ঘাটে পূর্বস্থলী-নবদ্বীপ-সমুদ্রগড় সব্জি ভেন্ডার সমিতি গঙ্গাপুজো করে। এদিন রাজ্যের বিভিন্ন প্রান্ত থেকে পুণ্যার্থীরা পুণ্যস্নানে ভিড় করেছিলেন। প্রতিটি ঘাটেই ছিল কঠোর পুলিসি নিরাপত্তা। জলপথে ছিল নদীয়া জেলা বিপর্যয় মোকাবিলা দপ্তরের ক্যুইক রেসপন্স টিমের নজরদারি।
রানির ঘাটের মেলায় প্লাস্টিক খেলনার দোকান নিয়ে বসেছিলেন মাজদিয়া বালির গর্ত এলাকার কামনা হালদার। তিনি বলেন, বাড়িতে প্রতিবন্ধী ছেলে আছে। স্বামী টোটো চালান। যেখানেই মেলা বসে, সেখানেই চলে যাই। এখানে ভালোই বিক্রি হচ্ছে।
কৃষ্ণনগরের ঘূর্ণি পুতুল পট্টি থেকে এসেছিলেন দেবাশিস হালদার। তিনি বলেন, পরিবারের ২০জনকে নিয়ে এসেছি। বুধবার রাত ১২টায় আমরা কৃষ্ণনগর দাসপাড়া থেকে নৌকা করে বের হয়েছি। বাড়ির মহিলারা সকালে গাড়ি করে এসে পৌঁছেছেন। এরপর চলে ভোগরান্না পর্ব। পুজোর শেষে সকলের মধ্যে প্রসাদ বিলি করা হবে।
কৃষ্ণনগর দাসপাড়া থেকে এসেছিলেন অসিত দাস। তিনি বলেন, এখানে আমার শ্বশুরবাড়ি। আমরা ৪০জন নবদ্বীপে এসেছি। কৃষ্ণনগর দাসপাড়া ঘাট থেকে বুধবার রাত সওয়া ১২টায় প্রতিমা নিয়ে বাড়ির পুরুষরা মিলে বের হই। বাড়ির মেয়েরা সকালে এসেছে। আমাদের সঙ্গে ডগর বাজনা ছিল। পুজোয় খুব আনন্দ হয়। পূর্ব বর্ধমান জেলার পূর্বস্থলীর বাসিন্দা কানাই সাহা বলেন, সব্জি ভেন্ডার সমিতির পক্ষ থেকে পুজো করছি। প্রায় ৬০বছর ধরে শ্রীবাসঅঙ্গন ঘাটে পুজো হয়ে আসছে। নবদ্বীপ ব্যবসায়ী সমিতির ভারপ্রাপ্ত সাধারণ সম্পাদক কমল অধিকারী বলেন, ৬১বছর ধরে সমিতির গঙ্গাপুজো হয়ে আসছে। পুজো শেষে দুপুর ১২টার মধ্যে প্রতিমা বিসর্জন দেওয়া হয়। -নিজস্ব চিত্র

Advertisement
সম্পর্কিত সংবাদ