নিজস্ব প্রতিনিধি, চুঁচুড়া: ভাঙন কবলিত শ্রীরামপুরের জন্য বড়সড় পদক্ষেপ করল রাজ্যের সেচদপ্তর। গঙ্গা ভাঙন প্রতিরোধে প্রায় সাড়ে ১২ কোটি টাকা বরাদ্দ করেছে সরকার। বরাদ্দ মেলায় উল্লসিত শ্রীরামপুর পুরসভার কর্তারা। তাঁদের দাবি, ক্রমেই বিপজ্জনক হয়ে উঠছিল শ্রীরামপুরের গঙ্গা ভাঙন। শুরুতেই রাজ্য সরকার হস্তক্ষেপ করায় এই শহরের বাসিন্দাদের উদ্বেগের অবসান হবে। শ্রীরামপুর পুরসভা সূত্রে জানা গিয়েছে, পরিস্থিতি সরেজমিনে খতিয়ে দেখে ইতিমধ্যেই যাবতীয় পদক্ষেপ করা হয়েছে। সেচদপ্তরই গঙ্গা ভাঙন প্রতিরোধের কাজ করবে। জুন মাসের মাঝামাঝি এই কাজ শুরু হবে। শ্রীরামপুর পুরসভা তাদের অন্যান্য সহযোগিতার পাশাপাশি কাজের তত্ত্বাবধান করবে।
পুরসভা সূত্রে জানা গিয়েছে, গঙ্গা ভাঙন নিয়ে পুরসভার তরফে স্থানীয় সাংসদ কল্যাণ বন্দ্যোপাধ্যায়ের কাছে আবেদন করা হয়েছিল। তিনি রাজ্যের সেচমন্ত্রীকে চিঠি দেওয়ার পাশাপাশি দফায় দফায় তদ্বির করেছেন। তার জেরে প্রায় ১২.৫৬ কোটি টাকা বরাদ্দ করেছে সেচদপ্তর। এ নিয়ে শ্রীরামপুর পুরসভার চেয়ারম্যান ইন কাউন্সিল সদস্য সন্তোষ সিং (পাপ্পু) বলেন, ঐতিহ্যের শহর শ্রীরামপুরকে একটু একটু করে গ্রাস করছিল গঙ্গা। আমরা শুরুতেই পরিস্থিতির ভয়াবহতাকে চিহ্নিত করি। তা নিয়ে পরিকল্পনা করে সেচদপ্তরের কাছে প্রস্তাব পাঠানো হয়। আমাদের সাংসদ তারপর দফায় দফায় তদ্বির করেন। রাজ্য সরকার পরিস্থিতির গুরুত্ব বুঝে প্রথম পর্বে প্রায় সাড়ে ১২ কোটি টাকা দিয়েছে। এই মাসেই কাজ শুরু হবে। বস্তুত কেন্দ্রীয় সরকার গঙ্গা ভাঙন প্রতিরোধে কোনও কাজ করেনি। সেকারণে আমরা রাজ্যের কাছে বারবার আবেদন করেছিলাম। শুরুতেই সমস্যা না মেটালে কী হয়, তা আমরা অতীতে অন্য এলাকায় দেখেছি।
পুরসভার চেয়ারম্যান গিরিধারী সাহা বলেন, শ্রীরামপুরের বড় অংশই গঙ্গা লাগোয়া। প্রথমেই পদক্ষেপ না করলে ভাঙন আরও ভয়াবহ আকার নিতে পারত। আমরা সাংসদ ও রাজ্য সরকারের কাছে কৃতজ্ঞ যে, তাঁরা দ্রুত পদক্ষেপ করেছেন। এবার ভাঙন রোধের কাজ শুরু হলে শহরবাসী স্বস্তি পাবেন।
স্থানীয় ও পুরসভা সূত্রে জানা গিয়েছে, ২০১৯ সালে শ্রীরামপুরে আচমকা গঙ্গার ভাঙন তীব্র হয়ে ওঠে। সম্প্রতি একাধিক এলাকায় পাড় ধসে যাওয়ার মতো ঘটনা ঘটেছে। শ্রীরামপুর ফেরিঘাটের একপাশে তীব্র ভাঙনের দাপট দেখে আতঙ্কিত হয়ে উঠেছিলেন পুরকর্তারা। স্থানীয় সমীক্ষায় ধরা পড়ে ৭, ১০, ১১, ১৩, ১৭ ও ১৮ নম্বর ওয়ার্ডের গঙ্গা লাগোয়া এলাকা ধসপ্রবণ হয়ে উঠেছে। এই পরিস্থিতিতে পুরসভা থেকে স্থানীয় সাংসদ, সব মহলেই তৎপরতা শুরু হয়। তার জেরে সম্প্রতি ভাঙন প্রতিরোধের জন্য রাজ্য টাকা বরাদ্দ করেছে। নিজস্ব চিত্র