Bartaman Logo
১০ জুন, ২০২৬
বর্তমান / কলকাতা

ব্যবসায়ীদের পেমেন্ট সংগ্রহের তথ্য নিয়ে লুটেরা গ্যাং ধরল লালবাজার

কলকাতার বিভিন্ন এলাকা ঘুরে খোঁজখবর চলত কোথা থেকে কোন ব্যবসায়ী টাকা নিয়ে যাচ্ছে

ব্যবসায়ীদের পেমেন্ট সংগ্রহের তথ্য  নিয়ে লুটেরা গ্যাং ধরল লালবাজার
  • ৬ অক্টোবর, ২০২৫ ০৪:০০
Prefer us on Google

নিজস্ব প্রতিনিধি, কলকাতা: কলকাতার বিভিন্ন এলাকা ঘুরে খোঁজখবর চলত কোথা থেকে কোন ব্যবসায়ী টাকা নিয়ে যাচ্ছে। এর জন্য নিয়োগ করেছিল টিপারও। ব্যবসায়ী টাকা নিয়ে বেরোনোমাত্র তার পিছু ধাওয়া করে বন্দুক দেখিয়ে লুট করা হতো টাকা। এরপর সোজা চলে যেত ঝাড়খণ্ড। সেখানে কয়েকদিন কাটিয়ে আবার ফিরে আসত রাজ্যে। এভাবে চলছিল অপারেশন। হেস্টিংস থানায় ব্যবসায়ীর কাছে টাকা লুটের পর বেশ কিছুদিন তারা বেপাত্তা হয়ে গিয়েছিল। তারা শহরে ফিরতেই ওই চক্রের পাঁচ সদস্যকে গ্রেফতার করল লালবাজার।

Advertisement

মাসখানেক আগে হেস্টিংস এলাকার এক ব্যবসায়ীকে বাস থেকে নামিয়ে মারধর করে পাঁচ লক্ষ টাকা লুট করে কয়েকজন দুষ্কৃতী। হেস্টিংস থানায় অভিযোগ হয়। পরে এর তদন্তভার যায় লালবাজারের ডাকাতি দমন শাখার হাতে। পুলিশ তদন্তে নেমে এই ঘটনায় জড়িত সন্দেহে একজনকে গ্রেফতার করে। তাকে জিজ্ঞাসাবাদ করে জানা যায়, হাওড়ার শিবপুরের একটি গ্যাং গোটা ঘটনায় জড়িত। গ্যাংয়ের সদস্যরা আসলে ঝাড়খণ্ডের বাসিন্দা। তারা শহরের বিভিন্ন এলাকায় টিপার রেখেছে। তাদের কাছ থেকে খবর নিচ্ছে বিভিন্ন ব্যবসায়ীদের সম্বন্ধে। কোনও ব্যবসায়ী পেমেন্ট সংগ্রহ করলে তার খবর টিপারদের মাধ্যমে অভিযুক্তদের কাছে পৌঁছে যাচ্ছে। ওই ব্যবসায়ীদের চিনিয়ে দিচ্ছে টিপাররাই। এরপর সংশ্লিষ্ট ব্যবসায়ীর পিছু নিয়ে মাঝরাস্তায় তাঁকে ঘিরে ধরছে অভিযুক্তরা। আগ্নেয়াস্ত্র দেখিয়ে তাঁর টাকা লুট করে পালাচ্ছে। মূলত নগদ টাকা লুট হওয়ায় বেশিরভাগ ব্যবসায়ী অভিযোগ জানাচ্ছেন না। এই সুযোগটাই নিচ্ছিল অভিযুক্তরা। 
শেষপর্যন্ত হেস্টিংস এলাকায় এক ব্যবসায়ীকে বাস থেকে নামিয়ে টাকা লুট করাই কাল হল দুর্বৃত্তদের। ওই ঘটনায় অভিযোগ দায়ের হতেই তড়িঘড়ি তদন্তে নামে লালবাজার। পুলিশ সূত্রে জানা যায়, গ্যাংয়ের সমস্ত সদস্য শিবপুর এলাকা থেকে কলকাতায় এসে এই অপারেশন চালিয়েছে। ঘটনার পর তারা সকলেই এলাকা ছাড়া ছিল। তদন্তে উঠে আসে, তারা সকলেই পালিয়েছে ঝাড়খণ্ডে। তারা কলকাতায় ফিরতেই পাঁচজনকে শনিবার রাতে গ্রেপ্তার করে লালবাজার। ধৃতদের জেরা করে তদন্তকারীরা জেনেছেন, লুটের টাকা দুর্বৃত্তরা রেখে আসে তাদের ঝাড়খণ্ডের ডেরায়। এমনকি অপরাধের টাকায় সেখানে সম্পত্তিও কিনেছে তারা। ধৃতদের জেরা করে লুট হওয়া টাকা উদ্ধারের চেষ্টা করছে পুলিশ।

Advertisement
সম্পর্কিত সংবাদ