নিজস্ব প্রতিনিধি, হাওড়া: অবসরপ্রাপ্ত এক সরকারি কর্মীকে ডিজিটাল অ্যারেস্টের ভয় দেখিয়ে ৩০ লক্ষ টাকা আত্মসাৎ করেছে একটি সাইবার গ্যাং। গত মার্চ মাসের এই ঘটনায় মঙ্গলবার উত্তরপ্রদেশ থেকে ওই গ্যাংয়ের এক চাঁইকে গ্রেপ্তার করেছে হাওড়া সিটি পুলিস। ধৃতের নাম কপিল কুমার (৩১)। তাঁর কাছ থেকে বেশ কিছু টাকা উদ্ধার করেছে পুলিস। বুধবার অভিযুক্তকে ট্রানজিট রিমান্ডে নিয়ে হাওড়ার উদ্দেশ্যে রওনা দিয়েছেন সাইবার গোয়েন্দারা। শুক্রবার তাঁকে হাওড়া আদালতে তোলার কথা।
ঘটনার সূত্রপাত গত মার্চ মাসে। পুলিস সূত্রে জানা গিয়েছে, ১২ মার্চ মধ্য হাওড়ার বাসিন্দা ওই অবসরপ্রাপ্ত সরকারি কর্মীকে একটি কেন্দ্রীয় সরকারি এজেন্সির নাম করে ফোন করে সাইবার অপরাধীরা। চাকরি করাকালীন তিনি একাধিক অপরাধমূলক গাফিলতি করেছেন বলে হুমকি দেওয়া হয় ওই প্রবীণ বাসিন্দাকে। ডিজিটাল অ্যারেস্ট করা হবে বলে লাগাতার শাসানি দেওয়া হয় তাঁকে। এরপর বলা হয়, গ্রেপ্তার না হতে চাইলে ৩০ লক্ষ টাকা অনলাইনে দিতে হবে। এমনকী সমস্যার সমাধানের জন্য বিভিন্ন উপায়ও বলা হয় ওই প্রবীণকে। শেষে দলটির কথা মতো ৩০ লক্ষ টাকা দিয়ে দেন তিনি। ঘটনার দু’দিন পর সন্দেহ হয় প্রতারিতের। এরপরেই ওই ব্যক্তি হাওড়া সাইবার ক্রাইম থানায় গিয়ে লিখিত অভিযোগ দায়ের করেন। অভিযোগ পাওয়া মাত্রই তদন্তে নামেন গোয়েন্দারা। পুলিস জানতে পারে, উত্তরপ্রদেশের একটি গ্যাং এর পিছনে রয়েছে। এর আগেও ওই গ্যাংটি অনেকের টাকা আত্মসাৎ করেছে। বিভিন্ন সূত্র ধরে অবশেষে ওই সাইবার গ্যাংয়ের মাথা কপিল কুমারের হদিশ পায় পুলিস।
এরপরেই চলতি সপ্তাহে উত্তরপ্রদেশের সুরজপুরে হানা দেয় হাওড়া সিটি পুলিসের একটি বিশেষ তদন্তকারী দল। মঙ্গলবার রাতে গৌতম বুদ্ধ নগর থেকে অভিযুক্ত কপিলকে গ্রেপ্তার করা হয়। এদিন অভিযুক্তকে সুরজপুর নয়ডার আদালতে তোলে পুলিস। জানা গিয়েছে, ধৃতের কাছ থেকে ৬ লক্ষ ১৭ হাজার টাকা মিলেছে। তাঁকে হাওড়া আদালতে পেশ করার পর নিজেদের হেফাজতে নিয়ে বাকি টাকা উদ্ধার করা হবে। পাশাপাশি গ্যাংয়ের বাকিদের সন্ধান পেতে জিজ্ঞাসাবাদ করা হবে অভিযুক্তকে। অন্যদিকে, উত্তরপ্রদেশ পুলিসও গ্যাংটিকে চিহ্নিত করতে বিভিন্ন জায়গায় খোঁজ চালাচ্ছে।