সংবাদদাতা, দুর্গাপুর: এবছর শিল্পাঞ্চলে যন্ত্রের দেবতার সঙ্গে টক্কর সিদ্ধিদাতার। বিশ্বকর্মা পুজোর পাশাপাশি চতুর্দিকে গণেশ পুজোর রমরমা। মুম্বইয়ের আদলে গড়ে উঠছে সিদ্ধিবিনায়ক গণপতি। বাংলার সিদ্ধিদাতা গণেশের মাথা থেকে মুকুটের জায়গা নিয়েছে অবাঙালিদের পাগড়ি। মৃৎশিল্পীদের দাবি, দুর্গাপুর শিল্পাঞ্চলে গণেশ পুজোর ধুম কয়েকে বছর ধরে লাফিয়ে লাফিয়ে বাড়ছে। দুর্গাপুর শিল্পাঞ্চল হওয়ায় এখানে প্রতিবছরই মহা সমারোহে বিশ্বকর্মা পুজো হয়। কিন্তু ইদানীং হঠাৎই গণেশ পুজোর সংখ্যা বেড়ে গিয়েছে। মৃৎশিল্পীরা গণেশ মূর্তি তৈরি করে দম ফেলতে পারছেন না।
কলে কারখানায় বিশ্বকর্মা যন্ত্রবিদ, স্থাপত্যবিদ ও শিল্পী হিসেবে পূজিত হন। তাছাড়া গাড়ির গ্যারেজ ও স্ট্যান্ডগুলিতেও বিশ্বকর্মা পুজো হয় ধুমধাম করে। তাই দুর্গাপুরের কুমোরটুলিতে সার দিয়ে নানা সাইজের বিশ্বকর্মা মূর্তি বানানোর দৃশ্য চোখে পড়ে এই সময়ে। কিন্তু এবার সারি সারি বিশ্বকর্মার পাশে পাল্লা দিয়ে গণেশ মূর্তি তৈরির দৃশ্য নজর কাড়ছে শহরবাসীর। এর আগেও গণেশ পুজো হতো, কিন্তু এত সংখ্যায় নয়।
দুর্গাপুর কুমোরটুলির মৃৎশিল্পী অভিজিৎ পাল ও অরুণ পাল বলেন, দুর্গাপুর শিল্পশহর হওয়ায় বরাবর বিশ্বকর্মা পুজো হয় ধুমধাম করেই। তবে বিগত কয়েক বছর ধরে গণেশ পুজো হু হু করে বেড়ে চলেছে। বছর দশেক আগে একটি কি দু’টি গণেশ মূর্তির অর্ডার আসত। এখন প্রতিটি মৃৎশিল্পীর কাছে শতাধিক গণেশ তৈরির অর্ডার আসছে। বিশ্বকর্মা ও দুর্গাপ্রতিমা বানানোর চাপের পাশাপাশি এ এক নতুন চাপ সৃষ্টি করেছে। গণেশের সাজসজ্জারও পরিবর্তন এসেছে। মহারাষ্ট্রের মতো গণেশের মাথায় পাগড়ির চাহিদা বেশি। এখন আর চিরাচরিত মুকুট শোভা পাচ্ছে না গণেশের মাথায়। ১ ফুট থেকে ১২ ফুট উচ্চতার গণেশ তৈরি হচ্ছে। ৫০০ থেকে ৩০ হাজার টাকা পর্যন্ত দাম সেসব মূর্তির। দুর্গাপুরের পুরোহিত মিলন চক্রবর্তী ও অসিত চক্রবর্তী বলেন, মহারাষ্ট্রের অবাঙালিদের গণেশ পুজোই প্রধান উৎসব। গণেশের জন্মদিনে অর্থাৎ গণেশ চতুর্থীতে ধুমধামের সঙ্গে পুজো হয়। ঐতিহ্যবাহী পাগড়ি পড়ানো হয় জ্ঞান ও সমৃদ্ধির দেবতা গণেশকে। -নিজস্ব চিত্র