Bartaman Logo
১০ জুন, ২০২৬
বর্তমান / কলকাতা

রোগাক্রান্ত কুকুর মেরে ফেলায় সায় দিয়েছিলেন স্বয়ং গান্ধীজিও

ইংরেজ শাসনকাল। গান্ধীজির নেতৃত্বে দেশজুড়ে তখন অহিংস আন্দোলনের ঢেউ উঠেছে।

রোগাক্রান্ত কুকুর মেরে ফেলায় সায় দিয়েছিলেন স্বয়ং গান্ধীজিও
  • ১৭ আগস্ট, ২০২৫ ০৪:০০
Prefer us on Google

নয়াদিল্লি: ইংরেজ শাসনকাল। গান্ধীজির নেতৃত্বে দেশজুড়ে তখন অহিংস আন্দোলনের ঢেউ উঠেছে। ১৯২৬ সাল। আমেদাবাদের এক মিল মালিক ছুটে এলেন মহাত্মা গান্ধীর কাছে। জানালেন, ভীষণ বিপদ! কী সমস্যা? জানতে চাইলেন বাপু। মালিক বলেন, ‘আমার মিলের ভিতরে প্রায় ৬০টি কুকুর আশ্রয় নিয়েছে। তাদের মধ্যে বেশিরভাগই জলাতঙ্কে আক্রান্ত। মিলের শ্রমিকরা কাজ করতে ভয় পাচ্ছেন। যে কোনও সময় তাঁদের কামড়ে দিতে পারে সারমেয়গুলি। এই মুহূর্তে আমার কী করণীয়? কুকুরগুলিকে মেরে ফেলব, নাকি ওখানেই থাকতে দেব? আপনি তো অহিংসার কথা বলেন, আমাকে পথ দেখান।’ দীর্ঘক্ষণ চুপ করে থাকলেন গান্ধীজি। বললেন, ‘আমি কুকুরদের ভালোবাসি। এ কথা সত্যি। যে কোনও প্রাণীই আমার প্রিয়। তবে একটা কথা ভেবে দেখুন তো, ভালোবাসা মানে কি দায়িত্ব নেওয়া নয়?’ মিল মালিক তখন দ্বন্দ্বে পড়লেন। প্রশ্ন করলেন, ‘তাহলে কি কুকুরগুলিকে মেরে ফেলা উচিত হবে?’ গান্ধীজি পাল্টা বলেন, ‘কোনও কুকুর রোগাক্রান্ত হয়ে পড়লে তাকে মেরে ফেলা পাপ নয়। বরং তাকে যন্ত্রণা থেকে মুক্তি দেওয়াই কর্তব্য।’ তিনি বলেন, ‘রাস্তায় ঘুরে বেড়ানো কুকুর কোনও সভ্যতা বা সহমর্মিতার নিদর্শন নয়, বরং তা সমাজের অজ্ঞতা ও অলসতার প্রমাণ। আপনি যদি দায়িত্ব না নেন, রাষ্ট্র যদি দায়িত্ব না নেয়, সমাজ যদি দায়িত্ব না নেয়, তাহলে এই প্রাণীগুলির কষ্ট আরও বাড়বে। ওদেরকে অবহেলায় মরতে দেওয়াই সবচেয়ে বড় পাপ।’ মিল মালিক সেদিন উপলব্ধি করেন, গান্ধীজির অহিংসা কোনও দুর্বলতার প্রতীক নয়। বরং মানবতা ও বাস্তবের মিশ্রণ। ‘প্রকৃত অহিংসা মানে কেবল প্রাণ বাঁচানো নয়, বরং কষ্ট থেকে মুক্তি দেওয়াও। কুকুর হোক বা মানুষ, করুণা মানে দায়িত্ব, দয়া নয়।’ গান্ধীজির সেই বাণী ছড়িয়ে পড়েছিল দিকে দিকে। পরে ‘ইয়ং ইন্ডিয়া’ পত্রিকাতেও এই বিষয়ে লিখেছিলেন মহাত্মা। ২০১৫ সালে পশু হত্যা সংক্রান্ত একটি মামলাতে এই প্রসঙ্গ উল্লেখ করে সুপ্রিম কোর্ট। 

Advertisement

সুপ্রিম কোর্টের একটি রায়ের পর দ্বিবিভক্ত সমাজমাধ্যম। কেন? শীর্ষ আদালত জানিয়েছে, রাজধানীর রাস্তা থেকে সরাতে হবে পথকুকুরদের। তারপরই উড়ে আসছে মতামত। পক্ষে, বিপক্ষে। এই আবহে গান্ধীজির বক্তব্য প্রাসঙ্গিক। তাঁর মতে, প্রকৃত করুণার অর্থ কেবল পশুদের ভালোবাসা নয়, সমাজের নিরাপত্তার প্রতিও দায়িত্ববোধ থাকতে হবে। পথকুকুরদের রক্ষা করতে হবে। কিন্তু তারা যদি বিপজ্জনক হয়ে ওঠে সেক্ষেত্রে পদক্ষেপ করাটাই মানবিক কর্তব্য।   

Advertisement
সম্পর্কিত সংবাদ