Bartaman Logo
১০ জুন, ২০২৬
বর্তমান / কলকাতা

মেয়ের স্কলারশিপ-স্ত্রীর গয়না বিক্রির টাকায় জুয়া, বসিরহাটে মোরগ লড়াইয়ে সর্বস্বান্ত বহু

মোরগ লড়াই খেলাকে কেন্দ্র করে জুয়ার আসর। এর কবলে পড়ে সর্বস্ব খুইয়ে সর্বস্বান্ত বহু আদিবাসী ও তপশিলি সম্প্রদায়ের মানুষ।

মেয়ের স্কলারশিপ-স্ত্রীর গয়না বিক্রির টাকায় জুয়া, বসিরহাটে মোরগ লড়াইয়ে সর্বস্বান্ত বহু
  • ১২ ফেব্রুয়ারি, ২০২৬ ০৪:০০
Prefer us on Google

সংবাদদাতা বসিরহাট: মোরগ লড়াই খেলাকে কেন্দ্র করে জুয়ার আসর। এর কবলে পড়ে সর্বস্ব খুইয়ে সর্বস্বান্ত বহু আদিবাসী ও তপশিলি সম্প্রদায়ের মানুষ। এই অভিযোগ উঠছে বসিরহাট মহকুমার সন্দেশখালি ও হিঙ্গলগঞ্জ এলাকায়। একশ্রেণির মানুষ এই জুয়ায় এমনভাবে মজেছেন যে, স্ত্রী’র গয়না ও মেয়ের স্কলারশিপের টাকা দিয়েও বাজি লড়েছেন। স্থানীয় এক আদিবাসী মহিলা জানান, গয়না না দেওয়ায় তাঁর স্বামী তাঁকে মারধর করেছেন।

Advertisement

বসিরহাট দক্ষিণের বিধায়ক ডাঃ সপ্তর্ষি বন্দ্যোপাধ্যায় বলেন, ‘আমরা এই বিষয়ে খোঁজখবর নেব। যদি ঘটনা সত্যি বলে প্রমাণিত হয় তাহলে প্রশাসন তাঁর বিরুদ্ধে কড়া ব্যবস্থা নেবে।’ বসিরহাটের বাসিন্দাদের অভিযোগ, স্থানীয় রাজনৈতিক নেতারা এই অবৈধ কাজে মদত দেন। সে কারণে দিনেদুপুরে খেলার মাঠে নেশার জিনিস দেদার বিক্রি হয়। প্রশাসনও সব দেখে নির্বাক। প্রান্তিক মানুষদের দিন আনা দিন খাওয়া পরিবার। তাঁদের কাছে এই জুয়া দুঃস্বপ্নের মত ভয়ংকর হয়ে দাঁড়িয়েছে। কিছু অসাধু মানুষ নিজেদের ব্যবসায়িক স্বার্থে এই বেআইনি কাজ চালিয়ে যাচ্ছে। প্রশাসন অবিলম্বে এর বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নিক।
জুয়ার বিষয়টি বাদ দিলে মোরগ লড়াই অবৈধ নয়। বাংলার প্রাচীন খেলাগুলির অন্যতম। অনেকের মতে, ছ’হাজার বছর আগে পারস্যে এই খেলার শুরু। পরে তা চীন, ভারত সহ বিভিন্ন দেশে ছড়িয়ে পড়ে। এখন এই খেলা আদিবাসী জনগোষ্ঠীর মানুষই মূলত ধরে রেখেছেন। এই এলাকা ছাড়া নদীয়ার গয়েশপুর, পুরুলিয়া, বাঁকুড়া, ঝাড়গ্রাম সহ সুন্দরবন সংলগ্ন অঞ্চলে বেশ জনপ্রিয়। খেলার নিয়ম কঠিন। দেশি মোরগকে ৬ থেকে ৮ মাস বিশেষভাবে প্রশিক্ষিত করা হয়। ক্রমশ হিংস্র করে তোলা হয় প্রাণীটিকে। লড়াইয়ের ময়দানে প্রতিপক্ষ মোরগকে এক ঝাপটায় কাবু করে দেওয়ার শক্তি জোগাতে চলে ট্রেনিং। মোরগের পায়ে একটি ধারালো ছুরির মতো ফলা বেঁধে দেওয়া হয়। লড়াইয়ের সময় প্রতিপক্ষ মোরগকে সেই ফলার ঘায়ে ক্ষতবিক্ষত করতে পারলে জিত হাসিল। বিশেষ উৎসব ও অনুষ্ঠানে তপশিলি ও আদিবাসী সম্প্রদায়ের মানুষ মোরগ লড়াইয়ের আসর বসায়। সকলে তা উপভোগ করে। এটাই তাঁদের সংস্কৃতি। কিন্তু এখন অসাধু কিছু মানুষের অবৈধ কাজকর্মে তার তাল কেটেছে। চলছে লাগাতার জুয়া। সর্বস্ব খুইয়ে বসছে মানুষ। গার্হস্থ্য হিংসার ঘটনা পর্যন্ত ঘটছে।  নিজস্ব চিত্র

Advertisement
সম্পর্কিত সংবাদ