নয়াদিল্লি: অক্টোবরের মাঝামাঝি নিউজিল্যান্ডে যাবে টিম ইন্ডিয়া। খেলবে তিন ফরম্যাটেরই সিরিজ। মোট ১২টি ম্যাচ। দীর্ঘ সফর ঘিরে কোচ গৌতম গম্ভীর বেশ সতর্ক। ক্রিকেটারদের চোটমুক্ত রাখার জন্য তিনি ওয়ার্কলোড কমানোর উপর বাড়তি জোর দিচ্ছেন। জিওহটস্টারকে দেওয়া সাক্ষাৎকারে টিম ইন্ডিয়ার কোচ সাফ জানিয়েছেন, টেস্ট সিরিজকেই বাড়তি গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে। তাছাড়া সিরিজের মাঝে সময় খুবই কম। সীমিত ওভারের ক্রিকেট থেকে আচমকা লাল বলে মানিয়ে নেওয়া কঠিন হয়। তাই গিল-লোকেশের মতো কয়েকজন সিনিয়র ক্রিকেটারকে সীমিত ওভারের সিরিজে বিশ্রাম দেওয়ার ভাবনা রয়েছে। কোচ হিসাবে আমি সব সময়ই চাইব, সেরা ক্রিকেটারদের মাঠে নামাতে। কিন্তু সেটা হয়ে ওঠে না। তাই তিন ফরম্যাটে ঘুরিয়ে ফিরিয়ে খেলাতে হবে। সেটা জরুরিও।
গম্ভীরের কোচিংয়ে ভারতীয় দল টেস্টে খুব একটা সাফল্য পায়নি। বিশ্ব টেস্ট চ্যাম্পিয়নশিপের ফাইনালে ওঠার লড়াই কঠিন হয়েছে শ্রীলঙ্কায় একটি টেস্ট ড্র হওয়ায়। নিউজিল্যান্ডের বিরুদ্ধে দুই ম্যাচের টেস্ট সিরিজেই ভারতের টেস্ট চ্যাম্পিয়নশিপ ফাইনালে খেলা না খেলা ঠিক হয়ে যাবে। সেই কারণে গম্ভীর পাখির চোখ করেছেন ওই সিরিজকে। একই সঙ্গে তিনি জানিয়েছেন, ‘নতুন যারা আসছে তাদের কাছে টেস্ট ক্রিকেটের গুরুত্ব তুলে ধরা দরকার। স্রেফ টি-২০ উপর নির্ভর করে ভালো টেস্ট খেলিয়ে দেশ হওয়া যায় না। লাল বলে দাপট দেখাতে পারলে তবেই শক্তিশালী ক্রিকেট খেলিয়ে দেশের মর্যাদা অর্জন করা যায়। তাই পাঁচদিনের ক্রিকেটকে দিতে হবে বাড়তি গুরুত্ব।’
গত কয়েক মাসে ভারতীয় দল চোট সমস্যায় ভুগেছে। শ্রীলঙ্কা সফরে একাধিক ক্রিকেটারকে ছাড়াই খেলতে হয়েছিল। তবে তা নিয়ে আপোশ করা হবে না বলে মন্তব্য করেছেন কোচ গম্ভীর। তিনি জানিয়েছেন, ‘আমাদের এখন একমাত্র লক্ষ্য বিশ্বকাপ। তার জন্য ওয়েস্ট ইন্ডিজ সিরিজ থেকেই প্রস্তুতি শুরু করে দিতে হবে। বিশ্বকাপে কোনও আনফিট ক্রিকেটারকে খেলানো হবে না। অর্ধেক প্রস্তুত হয়ে ভালো পারফর্ম করা যায় না।’ একই সঙ্গে হার্দিক পান্ডিয়া ও বুমরাহকে যে বিশ্বকাপে দরকার, সেটাও স্পষ্ট করে দিয়েছেন গম্ভীর। তিনি বলেন, ‘দক্ষিণ আফ্রিকার মাটিতে এই দুই ক্রিকেটার আমাদের জন্য খুবই গুরুত্বপূর্ণ হবে। বুমরাহ চোট সারিয়ে ফিরেছে। হার্দিকও তৈরি হচ্ছে। ওদের দশ ওভার বদলে দিতে পারে ম্যাচের ভাগ্য।’
ইংল্যান্ডের বিরুদ্ধে টি-২০ সিরিজে সঞ্জু স্যামসনকে বাদ দিয়ে বৈভবকে খেলানো নিয়ে মুখ খুলেছেন গিলদের হেডস্যার। গম্ভীরের কথায়, ‘সঞ্জুকে বাদ দেওয়াটা সত্যিই কঠিন সিদ্ধান্ত ছিল। সারারাত ঘুমোতে পারিনি। ওকে সেকথা আমি জানিয়েও ছিলাম। বিশ্বকাপের সেরা ক্রিকেটারকে বাদ দেওয়া সহজ ছিল না। কিন্তু দলের স্বার্থে আমাকে বেছে নিতে হয়েছিল বৈভবকে। ও দারুণ ফর্মে ছিল। তবে সঞ্জুর সঙ্গে কথা বলে মনে হয়েছিল, ও ব্যাপারটা সহজেই নিয়েছে।’