নয়াদিল্লি: টিম ইন্ডিয়ার কোচ হিসেবে গৌতম গম্ভীর সাদা বলে যতটা সফল, ততটাই ব্যর্থ টেস্ট ক্রিকেটে। পরিসংখ্যান বলছে, গোতির কোচিংয়ে ১৭টি ওয়ান ডে ম্যাচে জয় ১১, হার ৫, টাই এক। আর ২৭টি টি-২০’তে জয় ২৪, হার ৩। কিন্তু লাল বলের ক্রিকেটে একেবারে উল্টো ছবি। তাঁর অধীনে ১৯টি টেস্ট খেলে দশটিতেই হেরেছে ভারত। জয় ৭, ড্র ২। তার মধ্যে গত বছর ঘরের মাঠে নিউজিল্যান্ডের কাছে ৩-০ হোয়াইটওয়াশের লজ্জাও রয়েছে। সঙ্গে যুক্ত হয়েছে সম্প্রতি দক্ষিণ আফ্রিকার কাছে স্বভূমে ফের চুনকামের কলঙ্ক। দেশের টেস্ট ক্রিকেট ইতিহাসের কলুষিত অধ্যায়। এর ফলে বিশ্ব টেস্ট চ্যাম্পিয়নশিপের পয়েন্ট তালিকায় এক ধাক্কায় টিম ইন্ডিয়া নেমে গিয়েছে ছ’নম্বরে। পাকিস্তানেরও পরে। সাম্প্রতিক সময়ে টেস্ট ক্রিকেটে ভারতের এমন কঙ্কালসার চেহারা দেখা যায়নি। ক্রিকেট বিশেষজ্ঞদের একাংশ তাই টেস্ট ফরম্যাটে কোচ বদলের দাবি তোলেন। তাঁদের যুক্তি, গম্ভীর মূলত সাদা বলের কোচ। তাই লাল বলের জন্য অন্য কাউকে দায়িত্ব দেওয়া উচিত। ক্রিকেট মহলের একাংশের দাবি ছিল, টেস্ট ক্রিকেটে টিম ইন্ডিয়াকে কোচিং করানোর সবচেয়ে আদর্শ ব্যক্তি হলেন ভিভিএস লক্ষ্মণ। শুধু তিনি নন, অনেক প্রাক্তন ক্রিকেটারই টেস্ট দলে গিলদের হেডস্যার হওয়ার ইচ্ছা প্রকাশ করেছিলেন বলেও শোনা যাচ্ছিল।
তবে যতই গম্ভীরের পারফরম্যান্স পাতে দেওয়ার মতো না হোক, তবু তাঁকেই সব ফরম্যাটে কোচের পদে বহাল রাখতে মরিয়া বিসিসিআই। অন্তত সংস্থার সচিব দেবজিৎ সাইকিয়ার কথাতেই তা স্পষ্ট। তিনি জানিয়েছেন, ‘গম্ভীরের সঙ্গে বোর্ডের চুক্তি ২০২৭ পর্যন্ত। আমরা একটা নিয়ম মেনে চলি। মাঝপথে কাউকে সরানো হয় না। তাই টেস্ট ফরম্যাটে টিম ইন্ডিয়ার জন্য নতুন কোচের আলোচনা অর্থহীন।’
বোর্ড সচিব যাই বলুন, বিসিসিআইয়ের অনেক কর্তাই গম্ভীরের কাজকর্মে খুশি নন। বিরাট কোহলি, রোহিত শর্মার মতো সিনিয়রদের সঙ্গে তাঁর বৈমাতৃসুলভ আচরণ নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে। কিন্তু তা নিয়ে প্রকাশ্যে মন্তব্য করা মানে বিপদ ডেকে আনা। সকলেই জানেন, কার ইচ্ছাতে গম্ভীর বিনা পরীক্ষায় ভারতীয় দলের হেড কোচ হয়েছেন। বিজেপির সাংসদ থেকে তাঁর এই উত্তরণে প্রবল রাজনৈতিক অঙ্ক যে জড়িয়ে, তা বলার অপেক্ষা রাখে না। তবে প্রাক্তন ক্রিকেটারদের একাংশের মতে, দক্ষিণ আফ্রিকার কাছে ঘরের মাঠে টেস্টে ধবল-ধোলাইয়ের পর গম্ভীর প্রবল চাপে। ২০২৬ টি-২০ বিশ্বকাপে টিম ইন্ডিয়া ভালো পারফর্ম করলে তবেই চাকরি থাকবে তাঁর। না হলে বিকল্প চিন্তাভাবনা জোরালো হবে ২০২৭ ওডিআই বিশ্বকাপের আগেই।
এদিকে, ঋষভ পন্থও ভারতীয় দলে ক্রমশ কোণঠাসা হয়ে পড়ছেন। দক্ষিণ আফ্রিকার বিরুদ্ধে টেস্ট সিরিজে তাঁর পারফরম্যান্স ছিল খুবই হতাশাজনক। টি-২০ বিশ্বকাপে স্কোয়াডে জায়গা পাননি। এবার নিউজিল্যান্ডের বিরুদ্ধে আসন্ন ওয়ান ডে সিরিজেও তিনি ব্রাত্য থাকতে পারেন। সেই ইঙ্গিত পেয়েই দিল্লির হয়ে বিজয় হাজারে ট্রফিতে খেলেছেন ঋষভ। তাছাড়া লোকেশ রাহুলকে যে গম্ভীর প্রমোট করছেন, তাতে ওয়ান ডে দলে পন্থের জায়গা পাওয়া বড়ই কঠিন।