Bartaman Logo
১০ জুন, ২০২৬
বর্তমান / কলকাতা

পুজোর পাঁচদিন সব স্টেশনে দাঁড়াবে গ্যালপিং ট্রেন, শিয়ালদহ স্টেশনে গাড়ি পার্কিংয়ে নিষেধাজ্ঞা

পুজোর পাঁচদিন সব স্টেশনে দাঁড়াবে গ্যালপিং ট্রেন, শিয়ালদহ স্টেশনে গাড়ি পার্কিংয়ে নিষেধাজ্ঞা

পুজোর পাঁচদিন সব স্টেশনে দাঁড়াবে গ্যালপিং ট্রেন, শিয়ালদহ স্টেশনে গাড়ি পার্কিংয়ে নিষেধাজ্ঞা
  • ১০ সেপ্টেম্বর, ২০২৫ ১৬:০৯
Prefer us on Google

নিজস্ব প্রতিনিধি, কলকাতা: যাত্রী সংখ্যার নিরিখে দেশের অন্যতম ব্যস্ত রেল স্টেশন শিয়ালদহ। এই স্টেশন দিয়ে দিনে গড়ে ১২ থেকে ১৫ লক্ষ যাত্রী আসা-যাওয়া করেন। পুজোর দিনগুলিতে সেই সংখ্যাটা এক লাফে ১৮ থেকে ২০ লক্ষ ছাড়িয়ে যায়। কলকাতায় ঠাকুর দেখতে আসা মানুষজনের একটা বড় অংশই ট্রেনে সওয়ারি হয়। পুজোর দিনগুলিতে এই বিপুল সংখ্যক জনতাকে সুষ্ঠুভাবে ও নিরাপদে যাতায়াতের ব্যবস্থা করে দিতে একগুচ্ছ সিদ্ধান্ত নিয়েছে রেল। ২৮ সেপ্টেম্বর থেকে ২ অক্টোবর (ষষ্ঠী থেকে দশমী) পর্যন্ত শিয়ালদহ ডিভিশনে চলা গ্যালপিং ট্রেনগুলি আপ-ডাউনে সমস্ত স্টেশনেই থামবে। ফলে পুজোর দর্শনার্থীরা যে কোনও স্টেশন থেকে যে কোনও লোকালে উঠতে বা নামতে পারবেন। সেই সঙ্গে এই পাঁচদিন শিয়ালদহ স্টেশন চত্বরের পার্কিং জোন সম্পূর্ণ বন্ধ থাকবে। যাত্রী নামিয়ে গাড়ি বেরিয়ে যাবে। এই ব্যবস্থা কার্যকর করতে ইতিমধ্যে বিশেষ লেন তৈরির কাজ শুরু হয়েছে স্টেশন চত্বরে। 

Advertisement

যাত্রীদের জন্য রয়েছে আরও সুখবর! পুজোর আগেই খুলে যাচ্ছে শিয়ালদহ স্টেশনের ১ নম্বর প্ল্যাটফর্ম লাগোয়া প্রফুল্ল দ্বার। এই পথ খুলে গেলে পুজোর সময় ‘প্যান্ডাল হপার’দের বিশেষ সুবিধা হবে। দর্শনার্থীদের সুবিধার্থে এই প্রফুল্ল দ্বারের পাশেই খোলা হচ্ছে ৪টি টিকিট বুকিং কাউন্টার। বসছে চারটি অটোমেটিক টিকিট ভেন্ডিং মেশিনও (এভিটিএম)। শিয়ালদহ স্টেশনে টিকিট কাউন্টারের চাপ কমাতে বাড়তি পরিষেবা চালু হচ্ছে। এর মধ্যে রয়েছে ১০টি মোবাইল ইউটিএস, সর্বক্ষণের ১৭টি এভিটিএম। সেই সঙ্গে পুজোর দিনগুলিতে শিয়ালদহ স্টেশনের ২১টি টিকিট কাউন্টার ২৪ ঘণ্টা চালু থাকবে। রেল আরও সিদ্ধান্ত নিয়েছে, এই পাঁচদিন শিয়ালদহ স্টেশনে পার্সেল ট্রলি চলাচল বিকেল ৫টা থেকে সকাল ৭টা পর্যন্ত পুরোপুরি বন্ধ থাকবে। দূরপাল্লার ট্রেনযাত্রীদের রেলের পরামর্শ, পুজোর এই ক’দিন হাতে যথেষ্ট সময় নিয়ে স্টেশনে পৌঁছে যাওয়ার চেষ্টা করুন। নির্দিষ্টভাবে ৯ এবং ১১ থেকে ১৪ নম্বর প্ল্যাটফর্ম থেকে এক্সপ্রেস ও মেল ট্রেনগুলি ছাড়বে ও যাত্রা শেষ করবে। ডিভিশনাল রেলওয়ে ম্যানেজার রাজীব সাক্সেনা নির্দেশ দিয়েছেন, শিয়ালদহ সহ ডিভিশনের সমস্ত স্টেশন ও প্ল্যাটফর্ম থেকে নির্মাণ সামগ্রী সরিয়ে ফেলতে হবে দ্রুত। যাত্রীদের হাঁটাচলার পথ ফাঁকা রাখতেই হবে। 
কোনও অপ্রীতিকর ঘটনা ঘটলে দ্রুত উপযুক্ত পদক্ষেপ গ্রহণের জন্য বাড়তি আররিপএফ বাহিনী সর্বদা প্রস্তুত থাকবে বলে জানিয়েছে রেল। কল্যাণী ও সোনারপুরে বেশ কিছু রেক জরুরি প্রয়োজনের জন্য প্রস্তুত রাখা হবে। শুধু তাই নয়, শিয়ালদহ-কল্যাণী এবং বালিগঞ্জ-সোনারপুর রুটে বেশি রাত পর্যন্ত ঘনঘন ট্রেন চালানো হবে। ট্রেন ইন্ডিকেশন সিস্টেম ও পাবলিক অ্যাড্রেস সিস্টেম সক্রিয় রাখার বিশেষ নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। এছাড়া, পর্যাপ্ত পানীয় জল, প্রাথমিক চিকিৎসা পরিষেবা ও ‘মে আই হেল্প ইউ’ বুথ খোলা হবে। যার মূল উদ্দেশ্য হল লক্ষ লক্ষ যাত্রীর সুস্থ ও নিরাপদ রেলযাত্রা।     

Advertisement
সম্পর্কিত সংবাদ