নিজস্ব প্রতিনিধি, কলকাতা: ভরা শ্রাবণ মাস। ঝমঝম করে বৃষ্টি পড়ছে। তার মধ্যে ত্রিপল, প্লাস্টিক টাঙিয়ে ঠাকুর তৈরি হচ্ছে। মাটি জট কাটিয়ে কুমোরটুলি ফিরছে চেনা ছন্দে। জোরকদমে চলছে প্রতিমা তৈরির কাজ। মূর্তির বায়না আসা আগেই শুরু হয়েছিল। শুক্রবার উল্টোরথের পূণ্য তিথিতে এসেছে আরও অনেক বায়না।
দুর্গার আসতে আর মাত্র ৮৪ দিন বাকি। তাই জলবৃষ্টি উপেক্ষা করে কুমোরটুলি ব্যস্ত দুর্গা তৈরিতে। দুর্গার পাশাপাশি তৈরি হচ্ছে গণেশ মূর্তিও। কারণ সেপ্টেম্বর মাসে গণেশ চর্তুদশী। আর ভাদ্র মাসে রয়েছে বিশ্বকর্মা পুজো। বিশ্বকর্মার মূর্তিও তৈরি চলছে। মাটি জট চলছিল বলে কুমোরটুলিতে ঠাকুর তৈরির কাজ ব্যাহত হয়েছিল। কাজে বিলম্ব ঘটছিল। ফলে বাড়ছিল উদ্বেগ ও উৎকণ্ঠা। সবমিলিয়ে এখন দুর্গা সহ অন্যান্য মূর্তি তৈরির কাজ সঠিক সময় শেষ করে পুজো উদ্যোক্তাদের হাতে তুলে দেওয়াটাই হয়ে দাঁড়িয়েছে শিল্পীদের কাছে চ্যালেঞ্জ।
শুক্রবার কুমোরটুলি ঘুরে দেখা গিয়েছে অধিকাংশ শিল্পীর ঘরে চলছে দুর্গা তৈরির কাজ। শিল্পীরা কার্তিক, সরস্বতী, গণেশ, লক্ষ্মীর কাঠামো বানিয়ে বিচালি জড়িয়ে দিয়েছেন। এবার তার উপর মাটির প্রলেপ দেওয়া চলছে। কোথাও মাটির প্রলেপ দিয়ে মূর্তি গোডাউনে ডাঁই করে রাখা চলছে। মৃৎশিল্পী সংগঠনের কর্তা বাবু পাল বলেন, ‘এবার একচালার সাবেক ঢঙের দুর্গার বায়না ভালো মিলছে। মূলত বাড়ির পুজোই একচালার প্রতিমার বরাত দেয়। শোলার কারুকার্যশোভিত কিছু দুর্গার বায়নাও আসছে।’ মৃৎশিল্পী রাজা পাল জানান, রথের দিন তিনটি প্রতিমার বায়না পেয়েছেন। তার মধ্যে দু’টি বড়ো এবং একটি ছোটো ও একচালার। তৃতীয়ার দিন মণ্ডপে ডেলিভারি দিতে হবে মূর্তিগুলি। শিল্পী চায়না পালের কথায়, ‘বেশ কয়েকটি প্রতিমার বায়না পেয়েছি। তার মধ্যে চারটির কাজ অনেক এগিয়ে গিয়েছে। বায়না এসেছে কলকাতা ও পাশ্ববর্তী জেলাগুলি থেকেও।’ শিল্পী প্রশান্ত পাল বলেন, ‘একটি-দু’টি করে বায়না আসছে। আশা করছি আরও ৬‑৭টির বায়না পাব।’ অন্যান্য শিল্পীদের বক্তব্য, প্রতিমা তৈরির জিনিসপত্রের দাম প্রতিদিন হু হু করে বাড়ছে। তাই বাড়ছে দুর্গার দাম।