নিজস্ব প্রতিনিধি, কলকাতা: রাজ্য প্রশাসন বারবার নির্দেশ দিচ্ছে, কেউ অভিযোগ নিয়ে থানায় গেলে অভিযোগ লিপিবদ্ধ করে তদন্ত শুরু করতে হবে দ্রুত। কিন্তু সরকারের সেই নির্দেশকে বুড়ো আঙুল দেখাচ্ছে পুলিশকর্মীদেরই একাংশ! কারণ, খাস কলকাতায় পূর্ব যাদবপুর থানার বিরুদ্ধে অভিযোগকারীর সঙ্গে অসহযোগিতার অভিযোগ উঠেছে। পার্কিং নিয়ে বচসার জেরে ধারালো কোনো বস্তুর আঘাতে রক্তাক্ত হন কলকাতা পুরসভার গাড়ির চালক সুব্রত মণ্ডল। তাঁর বাম কানের কিছুটা অংশ কেটে ঝুলে যায়। ওই অবস্থায় শুক্রবার বিকালে তিনি পূর্ব যাদবপুর থানার দ্বারস্থ হন। রক্তাক্ত অবস্থায় দেখেও তাঁর অভিযোগ নেওয়ার ক্ষেত্রে থানা অসহযোগিতা করে বলে অভিযোগ। শেষ পর্যন্ত লালবাজারে সিপি-কে ই-মেল করার পর তাঁর হস্তক্ষেপে সমস্যা মেটে। গ্রেপ্তার করা হয়েছে অভিযুক্তকে।
কলকাতা পুরসভার সলিড ওয়েস্ট ম্যানেজমেন্ট বিভাগের গাড়ি চালান সুব্রতবাবু। শুক্রবার তিনি ওই বিভাগের ১২ নম্বর বরোর অ্যাসিস্ট্যান্ট ডিরেক্টর সুজন সরকারকে নিয়ে পূর্ব যাদবপুর থানা এলাকায় যান। গাড়িটি মুকুন্দপুর এলাকায় পার্ক করেছিলেন তিনি। সুব্রতবাবুর স্ত্রী জানিয়েছেন, গাড়িটি যেখানে পার্ক করা ছিল, সেখানে পুলিশের একটি গাড়ি উলটোদিক থেকে এসে পড়ে। পুলিশের গাড়ির যাওয়ার রাস্তা করে দেওয়ার জন্য সুব্রত তাঁর গাড়িটি কিছুটা এগিয়ে নিয়ে গিয়ে একটি বাড়ির উলটোদিকে রাখেন। তখন ওই বাড়ির মালিক বেরিয়ে এসে জানান, এটা ‘নো পার্কিং’ এলাকা। বোর্ড লাগানো রয়েছে। গাড়ি সরিয়ে নিতে হবে। পুরসভার গাড়ির চালক জানান, দুই মিনিটের মধ্যে তিনি গাড়ি সরিয়ে নেবেন। অ্যাসিস্ট্যান্ট ডিরেক্টরের ভিজিট শেষ হলেই তাঁরা বেরিয়ে যাবেন। পুরসভা থেকে এসেছেন বলেও জানান। কিন্তু তারপরেও দু’জনের বচসা চলতে থাকে। তখন আচমকাই শুভ নামে ওই অভিযুক্ত বাড়ি থেকে কাঠের উপর লাগানো ধরালো কোনো বস্তু এনে সুব্রতবাবুর কানে আঘাত করেন। ওই অবস্থায় তাঁকে পুরসভার আধিকারিকই থানায় নিয়ে যান। সুব্রতবাবুর পরিবারের অভিযোগ, থানায় কর্তব্যরত ডিউটি অফিসার কোনো সহযোগিতা করেননি। সঙ্গে সঙ্গে ওই পুর-আধিকারিক ই-মেল করে সিপি-কে গোটা বিষয়টি জানান। মেলে ডিউটি অফিসারের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়ার আবেদনও করা হয়। মেল পাওয়ার পরই নড়েচড়ে বসে লালবাজার। সঙ্গে সঙ্গে থানাকে নির্দেশ পাঠানো হয় অভিযোগ গ্রহণ করে মামলা রুজু করতে। হুলুস্থুল পড়ে যায় থানায়। তড়িঘড়ি অভিযোগ লিপিবদ্ধ করে জামিন অযোগ্য ধারায় মামলা রুজু করে থানা। রাতেই গ্রেপ্তার করা হয় অভিযুক্তকে। এখানেই প্রশ্ন উঠেছে, তাহলে পরিবর্তন কোথায়! নতুন সরকারের আমলেও তো অভিযোগ নিতে গড়িমসি করছে পুলিশ।