ইন্দ্রজিৎ কর্মকার, কান্দি: মুর্শিদাবাদ জেলায় হাজার হাজার শিবভক্ত গাজন উৎসবে মেতে উঠেছেন। কেউ ১১দিন, আবার কেউ টানা একমাস ব্রহ্মচারী ব্রত পালন করেছেন। কঠোর ব্রত পালনের পাশাপাশি মহাদেবকে তুষ্ট করতে রাতভর বন্দনা, শিবনৃত্য করেছেন তাঁরা। জেলার বিভিন্ন প্রান্তে গাজন উৎসব হলেও কান্দি শহরে প্রাচীন রুদ্রদেব মন্দিরে টানা ১১দিন ধরে গাজন উৎসব ঘিরে উন্মাদনা দেখা দিয়েছে। এটাই জেলার সবচেয়ে বড় গাজন উৎসব। এছাড়া, বহরমপুর শহরের ভাগীরথী ঘাট, চক ইসলামপুর, সাগরদিঘি, কান্দি মহকুমার রায়াবাটি, দত্তবরুটিয়া, পল্লিশ্রীগ্রামের গাজন উৎসবও সাড়া ফেলে। এসমস্ত জায়গায় হাজার হাজার শিবভক্ত গাজন উৎসবে মেতে ওঠেন। কান্দি ও সালারের দত্তবরুটিয়া গ্রামে গানের মেলাও বসেছে। রুদ্রদেব মন্দিরের গাজন উৎসব বহু পুরনো। মন্দির কমিটি জানিয়েছে, চড়কের ১১দিন আগেই এখানে গাজন উৎসব শুরু হয়। প্রতিদিন গভীর রাত থেকে ভোর পর্যন্ত শিবনৃত্য চলে। নির্দিষ্ট এলাকার শিবভক্তের দল নৃত্য ও শিববন্দনা করেন। এক-একটি দলকে ‘পাতা’ হিসেবে ডাকা হয়। ‘ধুলসেন পাতা’র দল রাস্তার ধুলো উড়িয়ে শিববন্দনা ও শিবনৃত্য করেন। ‘লাউসেন পাতা’ লাউয়ের মতো শরীরের আকৃতি গঠন করে নৃত্য করে। ‘জলকুমড়ি পাতা’র দল মুখোশ পরে নৃত্য করে। ‘মায়ের পাতা’ ভূত সেজে নৃত্য ও ভয়ানক শব্দ করে। ‘কালিকা পাতা’ মড়ার খুলি নিয়ে তাণ্ডব নৃত্য করে। এছাড়া, দেইসিনা পাতা, চামুণ্ডিপাতা, বেরপাতা ইত্যাদি নানা নামের দল শিবনৃত্য করে। চৈত্রের শেষ ১১দিন রোজ রাত ১২টায় মহাদেবের বিগ্রহ মন্দিরের বারান্দায় ভক্তদের সামনে আনা হয়। এরপর সেখানে অসংখ্য ভক্ত ওই বিশেষ শিবনৃত্য প্রদর্শন করেন। প্রতি রাতে ঢাক-ঢোলে এলাকা গমগম করে। ভোরে বিগ্রহ ফের মন্দিরের গর্ভগৃহে ফেরানো হয়।



