মাদকের রমরমা এলাকায়, ধর্ষণ-খুনে ফুঁসছে গাইঘাটা
  • ২৬ অক্টোবর, ২০২৬ ০৪:০০
Prefer us on Google

কুন্তল পাল, বনগাঁ: একাদশ শ্রেণির ছাত্রীকে ধর্ষণ করে খুনের অভিযোগে উত্তপ্ত গাইঘাটার রামচন্দ্রপুর। পুজোর বিচিত্রানুষ্ঠান চলাকালীন ফোন করে কিশোরীকে ডেকে নিয়ে যাওয়া হয়েছিল বলে অভিযোগ। তারপরেই ঘটে এই ঘটনা। অভিযুক্ত পল্লব দাসের কঠোর শাস্তির দাবিতে সরব হয়েছেন স্থানীয় বাসিন্দারা। পাশাপাশি, এলাকায় বেআইনি মদ ও মাদক কারবারের রমরমা নিয়েও ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন তাঁরা।

Advertisement

শনিবার রাতে রামচন্দ্রপুর গ্রামে বিচিত্রানুষ্ঠানের আয়োজন করেছিল দুর্গাপুজো কমিটি। বান্ধবীর বাড়ির কাছে অনুষ্ঠান দেখতে গিয়েছিল কিশোরী। অভিযোগ, রাত সাড়ে ১২টা নাগাদ ফোন করে তাকে ডেকে নেওয়া হয়। তারপর থেকে নিখোঁজ ছিল সে। রবিবার ভোরে এক আত্মীয়ের বাড়ির শৌচাগারের পাশ থেকে তার দেহ উদ্ধার হয়। দেহটি ছিল অর্ধনগ্ন ও থেঁতলানো। পরিবারের অভিযোগ, কিশোরীকে ধর্ষণ করে খুন করা হয়েছে। এই ঘটনায় গ্রেপ্তার করা হয়েছে পল্লব দাসকে। ঘটনার পর থেকেই এলাকায় ক্ষোভ ছড়িয়েছে। স্থানীয় বাসিন্দাদের অভিযোগ, এলাকায় দীর্ঘদিন ধরে অসামাজিক কাজকর্ম বাড়ছে। বেআইনিভাবে বিক্রি হচ্ছে মদ ও গাঁজা। সন্ধ্যার পর মদ্যপ যুবকদের আনাগোনাও বেড়েছে বলে তাঁদের দাবি। এক স্থানীয় বাসিন্দার কথায়, এলাকায় বেআইনি মদ ও মাদক বিক্রি বন্ধ হওয়া দরকার। রাতের দিকে পুলিশি নজরদারি আরও বাড়াতে হবে। সাধারণ মানুষের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা জরুরি।
স্থানীয়দের আরও অভিযোগ, ভারত-বাংলাদেশ সীমান্তবর্তী এই এলাকায় অতীতে চোরাচালানের কারবার ছিল। এখন তা কিছুটা কমেছে। তবে পুরোপুরি বন্ধ হয়নি। সেই সঙ্গে বেড়েছে বহিরাগতদের আনাগোনা। এই পরিস্থিতিতে পুলিশি নজরদারি বাড়ানোর দাবি উঠেছে। এনিয়ে স্থানীয় শিমুলপুর গ্রাম পঞ্চায়েতের উপপ্রধান নিখিলচন্দ্র বিশ্বাস বলেন, এলাকায় বেআইনিভাবে মদ ও গাঁজা বিক্রি বাড়ছে। বহিরাগতদের চলাফেরাও বেড়েছে। মৃত কিশোরীর বাড়ি গোপালনগর থানা এলাকায়। সে গাইঘাটার রামচন্দ্রপুরে মামার বাড়িতে থাকত। পরিবার সূত্রে জানা গিয়েছে, শনিবার লক্ষ্মীপুজোর বাজার করে বাড়িতে রেখে অনুষ্ঠান দেখতে গিয়েছিল সে। রবিবার লক্ষ্মীপুজো করার কথা ছিল তার। কিন্তু তার আগেই ঘটে গেল মর্মান্তিক ঘটনা। নাতনিকে হারিয়ে ভেঙে পড়েছেন দিদিমা। তাঁর দাবি, দোষীর কঠোর শাস্তি হোক। ঘটনার পর থেকে থমথমে গোটা এলাকা। বিভিন্ন মোড়ে জটলা করছেন বাসিন্দারা। তাঁদের আলোচনায় উঠে আসছে এলাকার নিরাপত্তার প্রশ্ন। আতঙ্কিত স্থানীয় মহিলাদের একাংশ। এ নিয়ে পদক্ষেপ করা হবে বলে জানিয়েছে পুলিশ।