নিজস্ব প্রতিনিধি, কলকাতা: কাটল জট। ইটের দেওয়াল দেওয়া বাড়ি থাকলেও রাজ্যের প্রান্তিক মানুষ পাবেন প্রধানমন্ত্রী আবাস যোজনার আর্থিক সহায়তা। যে টাকা কাজে লাগিয়ে তাঁরা মাথার উপর পাকা ছাদ গড়তে পারবেন।
নিজস্ব প্রতিনিধি, কলকাতা: কাটল জট। ইটের দেওয়াল দেওয়া বাড়ি থাকলেও রাজ্যের প্রান্তিক মানুষ পাবেন প্রধানমন্ত্রী আবাস যোজনার আর্থিক সহায়তা। যে টাকা কাজে লাগিয়ে তাঁরা মাথার উপর পাকা ছাদ গড়তে পারবেন।
আবাস প্রাপকের তালিকা চূড়ান্ত করতে বর্তমানে সমীক্ষা চলছে রাজ্যজুড়ে। নির্দিষ্ট পোর্টালে তোলা হচ্ছে নাম। স্ব-সমীক্ষা অর্থাৎ আবেদনকারী নিজেও অনলাইনে পোর্টালের মাধ্যমে আবেদন করতে পারছেন। এতদিন কারও সম্পূর্ণ কাঁচাবাড়ি থাকলে তবেই এই প্রকল্পের সুবিধা দেওয়ার ব্যবস্থা ছিল। সেক্ষেত্রে কোনো দরিদ্র ব্যক্তির ইটের দেওয়াল দেওয়া বাড়ি থাকলেও তাঁকে আর্থিক সহায়তা দিতে তালিকাভুক্ত করার কাজে সমস্যা হচ্ছিল। সমীক্ষকরা বুঝতেই পারছিলেন না যে সামান্য ইটের দেওয়াল থাকলে (অথচ টিনের বা খড়ের চাল) সেটিকে কাঁচাবাড়ি হিসাবে দেখানো হবে, না কি পাকাবাড়ি হিসাবে। এই সমস্যায় ইতি টানতে রাজ্যের তরফে চিঠি লেখা হয়েছিল কেন্দ্রকে। নবান্ন সভাঘরের বৈঠকে সমাধানের আশ্বাসও দিয়ে গিয়েছিলেন কেন্দ্রীয় গ্রামোন্নয়ন মন্ত্রী শিবরাজ সিং চৌহান। কেন্দ্র এ সংক্রান্ত ছাড়পত্র দেওয়ায় বুধবার ধনধান্য প্রেক্ষাগৃহে রাজ্যের পঞ্চায়েতমন্ত্রী দিলীপ ঘোষ ঘোষণা করেন, ‘দেওয়ালে সামান্য ইটের গাঁথনি আছে বা পুরো দেওয়ালটাই পাকা, কিন্তু পাকা ছাদ নেই, এমন উপভোক্তারা আবাস যোজনার টাকা পাবেন।’
অন্যদিকে, পূর্বতন সরকারের ‘বাংলার বাড়ি’ প্রকল্পের নাম বদল করে ‘পশ্চিমবঙ্গ আবাস’ রাখার সিদ্ধান্ত নিয়েছে নবান্ন। সেই সঙ্গে আজ, বৃহস্পতিবার এই প্রকল্পের আওতায় প্রায় ১০ লক্ষ উপভোক্তার ব্যাংক অ্যাকাউন্টে দ্বিতীয় কিস্তির ৬০ হাজার করে টাকা পাঠাবে রাজ্য। এই প্রকল্পের দ্বিতীয় পর্যায়ে ১৮ লক্ষ উপভোক্তাকে প্রথম কিস্তির টাকা দিয়েছিল আগের সরকার। কিন্তু তাদের মধ্যে ১০ লক্ষ উপভোক্তা লিনটন পর্যন্ত কাজ শেষ করে দ্বিতীয় কিস্তির টাকা পাওয়ার যোগ্য হয়েছে। বাকি ৮ লক্ষকে লিনটন পর্যন্ত কাজ শেষ হলে দেওয়া হবে টাকা। একই সঙ্গে সমীক্ষা চালিয়ে বাদ দেওয়া হয়েছে ‘অযোগ্য’দের। পঞ্চায়েতমন্ত্রীর উপস্থিতিতে নবান্ন সভাঘরে আনুষ্ঠানিকভাবে এই আর্থিক সহায়তা তুলে দেবেন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী।
বুধবার ধনধান্য প্রেক্ষাগৃহের অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন জাতীয় নারী সুরক্ষা কমিশনের চেয়ারপার্সন বিজয়া রাহতকর। তাঁর উপস্থিতিতে দিলীপবাবু জানান, রাজ্যে সাড়ে ১২ লক্ষ স্বনির্ভর গোষ্ঠী আছে। এবছর তাঁদের সাড়ে তিন লক্ষ টাকা করে বিশেষ ঋণ দেওয়া হবে। তাঁদের হাত শক্ত করতে মোট ৪০ হাজার কোটি টাকার ঋণ প্রদান সুনিশ্চিত করবে রাজ্য। তবে বিগত দিনে যে সমস্ত গোষ্ঠী আর্থিক সহায়তা পেতে অনিয়মের আশ্রয় নিয়েছে, তাদের ক্ষেত্রে বিশেষ অডিট হবে।