নিজস্ব প্রতিনিধি, কলকাতা: নতুন করে প্রযুক্তিগত পরিবর্তন আনা হয়েছে পিএফে। কেন্দ্রীয় সরকার দাবি করেছে, নতুন যে প্রযুক্তি এনেছে এমপ্লয়িজ প্রভিডেন্ট ফান্ড অর্গানাইজেশন (ইপিএফও), তাতে দ্রুত ক্লেম পাবেন গ্রাহক। পাশাপাশি নয়া প্রযুক্তির হাত ধরে চালু হতে চলেছে পোর্টাল ‘ই-প্রাপ্তি’। অতি সম্প্রতি ইপিএফওর এগজিকিউটিভ কমিটির বৈঠকে জানানো হয়েছে, আগামী দুমাসের মধ্যে চালু হতে চলেছে ওই পোর্টাল। এখান থেকেই পিএফ গ্রাহকরা তাঁদের পুরানো পিএফের টাকা তুলতে পারবেন। পাশাপাশি যাঁদের টাকা পিএফে পড়ে রয়েছে বছরের পর বছর এবং অ্যাকাউন্টগুলি ইনঅপারেটিভ বা অকেজো হয়ে রয়েছে, সেগুলি থেকে সরাসরি গ্রাহকের ব্যাংক অ্যাকাউন্টে পৌঁছে যাবে টাকা। এর জন্য আলাদা করে গ্রাহককে কোনো উদ্যোগ নিতে হবে না। শর্ত একটাই, গ্রাহককে জীবিত থাকতে হবে। মৃত গ্রাহকের পরিবারকে ওই টাকা দেওয়া হবে না সরাসরি।
পিএফের কেন্দ্রীয় অছি পরিষদের শেষ বৈঠকে সিদ্ধান্ত হয়েছিল, ইনঅপারেটিভ অ্যাকাউন্টের টাকা সরাসরি পৌঁছে দেওয়া হবে গ্রাহকের কাছে। এগজিকিউটিভ কমিটিতে জানানো হয়েছে, ই-প্রাপ্তি পোর্টাল চালু হওয়ার পর সেই কাজ শুরু করা হবে। ইপিএফও সূত্রের খবর, ২০২৬ সালের মার্চ মাস পর্যন্ত দেশে পিএফের অকোজো অ্যাকাউন্টের সংখ্যা ৩০ লক্ষ ৯২ হাজার। গত দুবছরে অনেকটাই বেড়েছে এই সংখ্যা। কারণ, ২০২৪ সালের মার্চ শেষে এই ধরনের অ্যাকাউন্টের সংখ্যা ছিল ২১ লক্ষ ৫০ হাজার। পিএফ কর্তৃপক্ষের কাছে এই অ্যাকাউন্ট বাবদ পড়ে আছে ৯ হাজার ৩৩০ কোটি টাকা। অকোজো অ্যাকাউন্টগুলির মধ্যে এক হাজার বা তার কম অঙ্কের টাকা পড়ে রয়েছে ৬ লক্ষ ১০ হাজার অ্যাকাউন্টে। এই অ্যাকাউন্টগুলিতে সবচেয়ে আগে পাঠানো হবে টাকা। কেন্দ্রীয় অছি পরিষদের সদস্য ও টিইউসিসির সাধারণ সম্পাদক শিওপ্রসাদ তেওয়ারি বলেন, যে অ্যাকাউন্টগুলিতে আধার এবং ব্যাংক অ্যাকাউন্ট সংযুক্ত রয়েছে, সেই অ্যাকাউন্টগুলিতেই টাকা পাঠানো হবে। এক্ষেত্রে যাঁদের তা নেই, সেইসব গ্রাহক যদি নিজ উদ্যোগে ইউনিভার্সাল অ্যাকাউন্ট নম্বরের সঙ্গে আধার ও ব্যাংকের সংযুক্তি করিয়ে নেন, তাহলে তাঁরাও এই সুবিধার অন্তর্ভুক্ত হতে পারবেন। যেহেতু নতুন পিএফে ‘২.০১’ ভার্সান প্রযুক্তি আনা হয়েছে, এর হাত ধরে অটো ক্লেমের সুবিধা পাবেন গ্রাহক। অছি পরিষদের ওই কর্তার দাবি, এক হাজার বা তার কম টাকা প্রাথমিকভাবে দেওয়া হলেও পরবর্তীকালে ধাপে ধাপে টাকা দেওয়া হবে অটো ক্লেমের মাধ্যমে।
তথ্য বলছে, গত মার্চ পর্যন্ত অকেজো অ্যাকাউন্টগুলিতে ৫০ হাজার টাকা পর্যন্ত পড়ে আছে ২৮ লক্ষ ৪২ হাজার অ্যাকাউন্টে। মোট অর্থ ২,১৯৬ কোটি টাকা। এর সিংহভাগ অ্যাকাউন্টের সঙ্গেই ব্যাংক বা আধারের সংযোগ নেই বলেই জানিয়েছেন দপ্তরের কর্তারা। অকেজো অ্যাকাউন্টগুলির মধ্যে ৭ লক্ষ ৮৫ হাজার অ্যাকাউন্টের সঙ্গে আধার সংযুক্তি রয়েছে। আধার ও ব্যাংক সংযুক্তি রয়েছে শুধুমাত্র ১ লক্ষ ৭১ হাজার অ্যাকাউন্টে। বাদবাকি পিএফ অ্যাকাউন্টের টাকা পেতে হলে এই সংযুক্তি জরুরি, বলছেন কর্তারা।
মোদি সরকার ক্ষমতায় আসার পর পিএফ গ্রাহকদের ইউনিভার্সাল অ্যাকাউন্ট নম্বর চালু করে। বহু পিএফ গ্রাহক আছেন, যাঁরা আগে চাকরি করতেন এবং সেই চাকরির পিএফ অ্যাকাউন্টের সঙ্গে ইউএএন যুক্ত করেননি। তাঁরা ই-প্রাপ্তি পোর্টালের মাধ্যমে সেই টাকা যাতে তুলতে পারেন, তার ব্যবস্থা রাখা হবে। এছাড়াও পুরানো চাকরির পিএফের টাকা তোলার ক্ষেত্রেও এই পোর্টাল সাহায্য করবে বলে জানিয়েছেন দপ্তরের কর্তারা।