অমিয়কুমার দাস, কৃষ্ণনগর: এবার থেকে ডাক বিভাগের হাত ধরে দেশ-বিদেশের বিভিন্ন প্রান্তে আরও সহজে পৌঁছে যাবে কৃষ্ণনগরের ঐতিহ্যবাহী মৃৎশিল্প। সম্প্রতি কৃষ্ণনগরের মৃৎশিল্প জিআই ট্যাগ পাওয়ায় এই শিল্পের আন্তর্জাতিক পরিচিতির পথ আরও প্রশস্ত হয়েছে। সেই আবহেই শিল্পীদের ব্যবসার প্রসার ঘটাতে ডাক বিভাগের এই উদ্যোগকে গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ হিসেবে মনে করছে শিল্পী মহল।
ডাক বিভাগ সূত্রে জানা গিয়েছে, সরকারের ‘এক জেলা এক পণ্য’ পরিষেবার আওতায় নদীয়া উত্তর থেকে মাটির পুতুলকে নির্বাচিত করা হয়েছে। সেই মাটির পুতুলের প্রচার ও প্রসারের পাশাপাশি শিল্পীদের তৈরি সামগ্রী দেশের বিভিন্ন প্রান্ত এবং বিদেশেও পৌঁছে দিতে ডাক বিভাগের মাধ্যমে বিশেষ পরিষেবা চালুর উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। রেজিস্ট্রেশন করলেই নির্দিষ্ট নিয়ম মেনে তুলনামূলক অনেক কম খরচে পণ্য পাঠানোর সুযোগ পাবেন শিল্পীরা। প্রাথমিক পর্যায়ে পাঁচ ফুটের মধ্যে মাপের প্রতিমা ও পুতুল দেশ-বিদেশের বিভিন্ন গন্তব্যে পৌঁছে দেওয়ার ব্যবস্থা করা হচ্ছে। ইতিমধ্যেই অনেক শিল্পী রেজিস্ট্রেশন করিয়েছেন।
এতদিন দূরের ক্রেতার কাছে প্রতিমা বা পুতুল পৌঁছে দিতে আলাদা গাড়ি ভাড়া করতে হতো শিল্পীদের। অনেক ক্ষেত্রেই সেই পরিবহণ খরচ প্রতিমার মূল্যের তুলনায় অনেক বেশি হয়ে দাঁড়ায়। এর ফলে ক্রেতাদের প্রতিমা নিতে অনেক বাড়তি দাম দিতে হয়। যে কারণে অনেক ক্রেতাই অনেক সময় অর্ডার দিতে পিছিয়ে যান। বিশেষ করে দূরের রাজ্য কিংবা বিদেশ থেকে আসা অর্ডারগুলো নিয়ে সবচেয়ে বেশি সমস্যায় ভোগেন মৃৎশিল্পীরা। ডাক বিভাগের নতুন পরিষেবায় সেই ছবিই বদলানোর আশা। স্বল্প খরচে নির্দিষ্ট গন্তব্যে প্রতিমা ও পুতুল পাঠানো সম্ভব হলে শিল্পীদের যেমন পরিবহণের বাড়তি চাপ কমবে, তেমনই ক্রেতাদের কাছেও তুলনামূলক কম দামে কৃষ্ণনগরের শিল্প পৌঁছে দেওয়া সম্ভব হবে।
ডাক বিভাগের এক আধিকারিক বলেন, সরকারের ‘এক জেলা এক পণ্য’ পরিষেবার আওতায় নদীয়া উত্তর থেকে মাটির পুতুলকে নির্বাচিত করা হয়েছে। আমরা খুব স্বল্পমূল্যে প্রাথমিক ভাবে ৫ ফুটের মধ্যেই প্রতিমাগুলো পৌঁছানোর ব্যবস্থা করব। এর জন্য শিল্পীকে রেজিস্ট্রেশন করতে হবে। আধার এবং প্যান কার্ড দিলেই রেজিস্ট্রেশন হয়ে যাবে। বিশেষ প্রয়োজনে ডাক বিভাগের তরফ থেকেই শিল্পীদের বাড়ি থেকেই পণ্য প্যাকিং করে নিয়ে আসা হবে। এর জন্য অতিরিক্ত কোন অর্থ খরচ করতে হবে না।
বেশিরভাগ মৃৎশিল্পীরা বলেন, কৃষ্ণনগরের মাটির কাজের সুনাম দেশ - বিদেশ পৌঁছেছে। কিন্তু দূরের জায়গা থেকে অর্ডার এলে প্রথমেই চিন্তা হয় কীভাবে প্রতিমা পাঠাব। গাড়ি ভাড়া করে পাঠাতে গেলে যে খরচ হয়, তা অনেক সময় ক্রেতার পক্ষে বহন করা সম্ভব হয় না। ফলে অর্ডার হাতছাড়া হয়ে যায়। ডাক বিভাগের মাধ্যমে যদি তুলনামূলক কম খরচে নিরাপদে পণ্য পাঠানো যায়, তাহলে আমাদের ব্যবসার ক্ষেত্রে অনেকটাই সুবিধা হবে। মৃৎশিল্পী গীতা পাল বলেন, এতদিন দূরের কোনো ক্রেতা যখন পুতুল বা প্রতিমার দাম জানতে চান, তখন পণ্যের দামের পাশাপাশি পরিবহণের খরচও জানাতে হয়। অনেক সময় পরিবহণের খরচ শুনেই ক্রেতা অর্ডার বাতিল করে দেন। ডাক বিভাগের এই উদ্যোগে সেই সমস্যার অনেকটাই সমাধান হবে বলে মনে করছি।