নিজস্ব প্রতিনিধি, কলকাতা: রাজ্যে ১২৫ দিনের কাজের প্রশাসনিক খরচ বাবদ বরাদ্দ জেলায় জেলায় পাঠানো শুরু করল পঞ্চায়েত দপ্তর। চলতি অর্থবর্ষেই এই খাতে ৪২৫ কোটি ৪০ লক্ষ টাকার বেশি পাবে ৩,৩৩৯টি গ্রাম পঞ্চায়েত। যার মধ্যে বুধবারই ২৫ কোটি টাকা পাঠিয়ে দেওয়া হয়েছে জেলায় জেলায়। এর জেরে এই প্রকল্প রূপায়ণের ক্ষেত্রে গতি আসবে বলেই মনে করছে রাজ্য প্রশাসন।
১ জুলাই দেশের অন্যান্য রাজ্যের মতো পশ্চিমবঙ্গেও চালু হয়েছে ১২৫ দিনের কাজ বা ভিবি জি রামজি প্রকল্প। বর্তমানে প্রতিদিন প্রায় ৯০ হাজার শ্রম দিবস সৃষ্টি হচ্ছে রাজ্যে। তবুও অনেক রাজ্যের তুলনায় গ্রামীণ রোজগার গ্যারান্টি কার্ড হোল্ডারদের কাজ দেওয়ার নিরিখে পিছিয়ে রয়েছে পশ্চিমবঙ্গ। এই পরিস্থিতিতে রাজ্যের পাঠানো টাকা মাঠপর্যায়ের কাজে ইতিবাচক প্রভাব ফেলবে বলেই মনে করছে রাজ্য প্রশাসন।
সম্প্রতি কেন্দ্রের তরফে ১২৫ দিনের কাজের প্রশাসনিক খরচ নিয়ে একটি চিঠি পাঠানো হয়েছে। যাতে পরিষ্কার বলা হয়েছে, এই প্রকল্প খাতে মোট বরাদ্দের ৯ শতাংশ টাকা প্রশাসনিক কাজকর্ম বা প্রকল্প রূপায়ণের কাজে ব্যবহার করা যেতে পারে। যা এর আগে মনরেগা বা ১০০ দিনের কাজ প্রকল্পে ক্ষেত্রে মাত্র ৬ শতাংশ টাকা ব্যবহার করা যেত। এখানেই শেষ নয়। কেন্দ্রের নির্দেশিকা অনুযায়ী, প্রশাসনিক ক্ষেত্রের মোট অঙ্কের এক তৃতাংশ খরচ হবে গ্রাম পঞ্চায়েত স্তরে। সেই নিরিখে চলতি অর্থবর্ষে প্রায় ৪২৫ কোটি ৪০ লক্ষ টাকা শুধু মাত্র ১২৫ দিনের কাজ প্রকল্প রূপায়ণ খাতে যাবে রাজ্যের গ্রাম পঞ্চায়েতগুলিতে। বুধবার অর্থবরাদ্দের অ্যালটমেন্টের চিঠি চলে গিয়েছে জেলায় জেলায়। মোট ২৫ কোটি টাকা পাঠানো হল জেলায় জেলায়। সর্বাধিক বরাদ্দ পেয়েছে দক্ষিণ ২৪ পরগনা। ২ কোটি ২৪ লক্ষ টাকা। তার পরেই রয়েছে মুর্শিদাবাদ জেলা। এই জেলার জন্য বরাদ্দ হয়েছে ১ কোটি ৮৬ লক্ষ টাকা। পূর্ব মেদিনীপুর পেয়েছে ১ কোটি ৬৯ লক্ষ টাকার বেশি। আবার পূর্ব বর্ধমান পেয়েছে ১ কোটি ৬১ লক্ষ টাকা।
ফিল্ড ভিজিট সংক্রান্ত সমস্ত খরচ, কম্পিউটার ক্রয় করা, সংশ্লিষ্ট বেশকিছু জনের মাইনে দেওয়াসহ অন্যান্য কাজে ব্যবহার হবে প্রশাসনিক খাতে বরাদ্দ হওয়া এই অর্থ। রাজ্যে রাজনৈতিক পালাবদলের পর থেকেই একাধিক প্রধান এবং সদস্য পঞ্চায়েতে না আসায় ধাক্কা খেয়েছে একাধিক প্রকল্পের কাজ। এই সমস্যায় ইতি টানতে আইন এনে পঞ্চায়েত প্রধানদের বদলে আর্থিক ক্ষমতা দেওয়া হয়েছে আধিকারিকদের হাতে। সেই নিরিখে জেলাগুলিকে প্রশাসনিক খাতের অর্থ বরাদ্দ ১২৫ দিনের কাজ প্রকল্পে গতি আনতে সাহায্য করবে বলেই রাজ্যের এক আধিকারিক জানিয়েছেন।