নিজস্ব প্রতিনিধি, বরানগর: আড়াই বছরের ছেলের সামনে স্ত্রীকে খুন করে পলাতক স্বামী। বুধবার দমদমের সুভাষনগরের ঘটনায় তীব্র চাঞ্চল্য ছড়িয়েছে। পুলিশ জানিয়েছে, মৃতার নাম জয়া পাত্র প্রামাণিক (৩২)। স্বামী সজল প্রামাণিকের খোঁজ চলছে। ওইদিন দুপুরে সজল আড়াই বছরের ছেলেকে নিয়ে বাড়ি থেকে বেরিয়ে যায়। এরপর জয়াদেবীর এক বন্ধুর বাড়িতে ছেলেকে রেখে চম্পট দেয় সে।
জয়ার বাপের বাড়ি দক্ষিণ ২৪ পরগনার লক্ষ্মীকান্তপুরে। ১২০, ঝিলপাড় বেদিয়াপাড়ার বাসিন্দা সজলকে বিয়ে করেছিলেন তিনি। তবে এটি তাঁর দ্বিতীয় বিয়ে। এই সংসারে আড়াই বছরের ছেলে রয়েছে জয়া-সজলের। স্বামী তেমন কোনো কাজ করে না। সুভাষনগরের এসপাল এলাকায় ছেলেকে নিয়ে এই দম্পতি একটি ভাড়াবাড়িতে থাকত। তদন্তকারীরা জেনেছেন, জয়াদেবী দেহ ব্যবসায় যুক্ত ছিলেন। তাঁর রোজগারের টাকাতেই সংসার চলত। এমনকি, সজল হাতখরচের টাকাও নিত স্ত্রীর কাছ থেকে। সম্প্রতি জয়ার সঙ্গে এক বন্ধুর ঘনিষ্ঠতা বাড়ে। তাঁর সঙ্গেই বেশি সময় কাটাতেন জয়া। তা নিয়ে দাম্পত্য কলহ চরমে উঠেছিল। বুধবার রাত ১১টা ১৫ মিনিট নাগাদ পুলিশ ওই ঘরের মেঝেতে জয়ার মৃতদেহ পড়ে থাকার খবর পায়। সেখানে গিয়ে দ্রুত মৃতদেহটি উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য পাঠায়। তদন্তকারীদের সূত্রে জানা গিয়েছে, জয়াদেবীর দেহটি গলা কাটা অবস্থায় ছিল। মাথায় লোহার রড দিয়ে মারা হয়েছিল। এতটাই জোরে মারা হয়েছিল যে, খুলি ফেটে ঘিলু পর্যন্ত দেখা যাচ্ছিল। সেই সময় ঘরে হাই-ভলিউমে টিভি চলছিল। দু’টি ফ্যানও চালু অবস্থায় ছিল। সারা ঘরে ছড়িয়ে ছিটিয়ে ছিল আসবাবপত্র। আলমারি খোলা। মৃতদেহের পাশে পড়েছিল রক্তমাখা ছুরি। ঘরের সামনে থাকা সিসি ক্যামেরাও ভাঙা ছিল। ধারণা করা হচ্ছে, ছেলের সামনেই স্ত্রীকে খুন করেছে স্বামী।
তদন্তকারীরা জেনেছেন, ওই ঘর থেকে বেলা আড়াইটা নাগাদ বেরিয়ে গিয়েছিল সজল। এরপর বিকেলে ছেলেকে নিয়ে স্ত্রীর এক বন্ধুর বাড়িতে যায়। তাঁর সঙ্গে জয়ার অন্তরঙ্গ সম্পর্ক ছিল। সজল তাঁকে বলেছিল, ‘বাড়িতে স্ত্রী ঘুমের ওষুধ খেয়ে ঘুমাচ্ছে, আমি একটু চাঁদনি চকে যাচ্ছি মোবাইল ফোন সারাতে। ফিরে এসে ছেলেকে নিয়ে যাব।’ এদিকে, ছোটো বাচ্চাকে সামলাতে গিয়ে হিমশিম খাচ্ছিলেন ওই ব্যক্তি। সজলের আসতে দেরি দেখে শেষমেশ ওই শিশুপুত্রকে বাড়িতে দিয়ে আসার কথা ভাবেন তিনি। সেইমতো চলে যান সুভাষনগরের ওই ভাড়াবাড়িতে। সেখানে গিয়ে বার বার ডাকলেও কেউ সাড়া না দেওয়ায় দরজায় জোরে ধাক্কা দেন। দরজা খুলে যেতেই তিনি দেখেন, মেঝেতে রক্তাক্ত অবস্থায় পড়ে রয়েছে জয়াদেবীর নিথর দেহ। তিনি আশপাশের লোকজনকে ও থানায় খবর দেন। পুলিশ জানিয়েছে, সজলের খোঁজে কলকাতা, হাওড়া সহ বিভিন্ন এলাকায় পুলিশ তল্লাশি শুরু করেছে।