নয়াদিল্লি: পশ্চিম এশিয়ায় শান্তি ফেরার সম্ভাবনা দেখা দিয়েছে। তাই আন্তর্জাতিক বাজারে অশোধিত তেলের দাম পৌঁছেছে যুদ্ধের আগের অবস্থায়। বৃহস্পতিবার ব্রেন্ট ক্রুডের ব্যারেল প্রতি দাম দাঁড়িয়েছে ৭০ ডলার। এরপরেও দেশে খুচরো তেলের দাম কমার আশু সম্ভাবনা নেই বলে জানালেন পেট্রলিয়ামমন্ত্রী হরদীপ সিং পুরী। বৃহস্পতিবার তিনি বলেন, এই দাম স্থিতিশীল হলে সরকার দাম কমানো নিয়ে আলোচনা করবে। তাঁর কথায়, ‘কয়েক মাস আগের আন্তর্জাতিক বাজারের দামের ভিত্তিতে খুচরো বাজারের চলতি দাম ঠিক করা হয়েছে।’ মন্ত্রী আরও বলেন, পশ্চিম এশিয়ায় যুদ্ধ যখন চূড়ান্ত শিখরে অবস্থান করেছিল, তখন যে সর্বাধিক দামে অশোধিত তেল কিনেছিল সংস্থাগুলি। সেই তেল এখনও শোধন করে চলেছে বিপণন সংস্থাগুলি (ওএমসি)। তাই আন্তর্জাতিক বাজারের দামের সুফল এখনই খুচরো বাজারে পৌঁছে দেওয়া সম্ভব হচ্ছে না।
পরিসংখ্যান দিয়ে মন্ত্রী দাবি করেছেন, ৩০ জুন পর্যন্ত পেট্রল, ডিজেল এবং এলপিজি কম দামে বিক্রির ফলে ওএমসিগুলির মোট লোকসানের পরিমাণ দাঁড়ায় ৭৪ হাজার ৭৮১ কোটি টাকা। যুদ্ধের সময়েও দেশে জ্বালানির কোনো ঘাটতি দেখা যায়নি। এই সময়ের মধ্যে লিটারে সাড়ে ৭ টাকা করে গড় দাম বেড়েছে পেট্রল ও ডিজেলের। পরবর্তী দাম বৃদ্ধি রুখতে অন্তঃশুল্ক কমিয়েছে কেন্দ্র। জ্বালানির দাম নিয়ে সরকারের অবস্থানের পক্ষেও সাফাই দিয়েছেন হরদীপ। তিনি বলেন, যুদ্ধ পরিস্থিতিতে অন্যান্য দেশের তুলনায় ভারতে পেট্র-জ্বালানির দাম বৃদ্ধি অনেকটাই কম। ভারতে ৫ শতাংশ দাম বেড়েছে। অন্যদিকে, ফ্রান্সে ১৭.৭৪ শতাংশ, জার্মানিতে ১৯.০৫ শতাংশ এবং ইতালিতে ১৮.৩৯ শতাংশ দাম বেড়েছে। প্রতিবেশী দেশগুলির মধ্যে পাকিস্তানে ৩৯.৭৭ শতাংশ, শ্রীলংকায় ৩৬.৬৬ শতাংশ, নেপালে ২০.৩ শতাংশ এবং বাংলাদেশে দাম বেড়েছে ৪২.৬৯ শতাংশ।