নিজস্ব প্রতিনিধি, বিধাননগর: কাদায় পড়ে ‘নিথর দেহ’! মুখ উপরের দিকে। ডান পা উপরের দিকে ওঠানো। শরীর কাদায় ডোবা। পুরুষ না মহিলা চিহ্নিত অসম্ভব। শরীরটি এখানে এল কীভাবে? কেউ কী কাউকে খুন করে ফেলে গিয়েছে। দেখার পর প্রথমে এমনটাই ভেবেছিলেন স্থানীয় বাসিন্দারা। পুলিশও তাই ভেবেছিল।
কাদায় নেমে ‘নিথর দেহ’ উদ্ধার করে পুলিশ। নিয়ে যায় স্বাস্থ্যকেন্দ্রে। সেখানেই ম্যাজিক। দেহ নড়াচড়া শুরু করে। যেন আচমকা প্রাণসঞ্চার শরীরে। নড়ে ওঠে হাত-পায়ের আঙুল। তারপর চিকিৎসা। এবং নয়া জীবন পেলেন যেন! যে জীবন যেতে যেতেও টিঁকে গিয়েছে কোনও মন্ত্রবলে। হাসপাতালের শয্যায় বসে নিজেই বিশ্বাস করতে পারছিলেন না। পুলিশের দেওয়া নতুন পোশাক দেহে। হাতে গরম চায়ের কাপ। এক এক চুমুকে নতুন করে জীবন ফিরে পেয়েছেন প্রৌঢ় মানুষটি। বয়স আনুমানিক ৫৫ বছর। বারবার হাতজোড় করে নমস্কার জানিয়েছেন পুলিশকে। তাঁরাই জীবন ফিরিয়েছেন। কাদা থেকে মুক্তি পেতে আর একটু দেরি হলেই এই নশ্বর জীবনের যবনিকা পতন অবশ্যম্ভাবী ছিল।
ঘটনাস্থল রাজারহাটের লাঙলপোতা। যাঁরা প্রৌঢ়ের প্রাণ ফিরিয়েছেন তাঁরা রাজারহাট থানারই পুলিশ। একজন সাব ইন্সপেক্টর, অন্যজন কনস্টেবল। সঙ্গে ছিলেন থানার দুই সিভিক ভলান্টিয়ারও। ওই চারজনই প্রাণ ফিরিয়ে দিয়েছেন প্রৌঢ়ের। স্থানীয়দের কেউই বিশ্বাস করতে পারছিলেন, তিনি জীবিত অবস্থায় কাদায় পড়েছিলেন! তবে, উদ্ধার হওয়া প্রৌঢ় বিশেষ কিছু বলতে পারছেন তিনি। তিনি মানসিকভাবে অসুস্থ। নিজের নাম ও ঠিকানাও খেয়াল করতে পারছেন না। তিনি যাতে বাড়ি ফিরতে পারেন, তার চেষ্টা করছে রাজারহাট থানার পুলিশ।
অন্যান্য দিনের মতো মঙ্গলবারও টহলে বেরিয়েছিলেন রাজারহাট থানার সাব ইন্সপেক্টর পলক ঘোষ, কনস্টেবল মতিলাল মুদি এবং দুই সিভিক ভলান্টিয়ার রবিউল মোল্লা ও সুদীপ্ত ঘোষ। ঘড়িতে সকাল ১১টা। রাস্তায় ব্যস্ততা। লাঙলপোতায় একটি জলা শুকিয়ে যাচ্ছে। মধ্যিখানের অংশে নরম ঘন কাদা। পুলিশের দলটি খেয়াল করে মাঝখানে কাদার মধ্যে পড়ে একটি শরীর। নড়াচড়া করছে না। প্রথমে মৃত বলেই ভেবেছিলেন সবাই। পুলিশ কাদা ভেঙে পৌঁছয়। শরীর উদ্ধার করে পাড়ে আনে। তারপর নিয়ে যায় রেকজোয়ানি ব্লক প্রাথমিক স্বাস্থ্যকেন্দ্রে। হঠাৎ নড়ে ওঠে শরীরটি। শরীর যেন আচমকা প্রাণ ফিরে প্রায়। দ্রুত চিকিৎসা। কাদা মুছিয়ে ওষুধ দেওয়া হয়। পুলিশ কিনে আনে টি-শার্ট-প্যান্ট। জল, খাবার, চা, নতুন জামায় প্রাণ ফিরে পান প্রৌঢ়।
কাদায় প্রায় ডুবে যাওয়ার বিষয়টি নিয়ে কোনও উত্তর দিতে পারেনি মানুষটি। অনুমান, কাদা দেখতে পাননি। ফলে জলা পেরতে গিয়ে দুর্ঘটনার কবলে পড়েন। এবং সংজ্ঞাহীন হয়ে যান। বিধাননগর কমিশনারেটের এক কর্তা বলেন, সঠিক সময় পুলিশ দেখতে পেয়েছিল। দেরি হলে হয়ত বাঁচানো সম্ভব হত না।