সুদীপ্ত কুণ্ডু , হাওড়া:
সুদীপ্ত কুণ্ডু , হাওড়া:
কোথাও থিম ভাবনায় ফুটে উঠেছে মহানায়ক উত্তমকুমারের নানা পর্ব। কোথাও আবার অশুভকে বিনাশের জন্য ফুটিয়ে তোলা হয়েছে মায়ের সংহার রূপ। বিসর্জনেও চমক রাখছে কেউ কেউ। হাওড়া শহরে কালীপুজোয় দর্শনার্থী টানতে মরিয়া শহর থেকে ব্লকের বারোয়ারিগুলো।
ঠাকুর রামকৃষ্ণ লেনের চারাবাগান নেতাজি সংঘের ৫৬তম বছরের কালীপুজো। প্রতিবছরই থিম ভাবনায় নতুনত্ব থাকে এই ক্লাবের। এবছরের থিম ‘জন্ম শতবর্ষে মহানায়ক’। মণ্ডপসজ্জায় থাকছে মহানায়ক উত্তমকুমারের বিভিন্ন বিখ্যাত দৃশ্য। তাঁর নিজের কণ্ঠে গান, একের পর এক কালজয়ী সংলাপ অডিও ভিশুয়ালের মাধ্যমে ফুটিয়ে তোলা হবে দর্শকদের সামনে। প্রায় ৬০ বছর ধরে ভৈরবী কালীর পুজো করে আসছে সাঁতরাগাছি মোড়ের সংগ্রাম সমিতি ব্যায়ামাগার। ক্লাব সদস্যদের কাছে শোনা গেল, ছয় দশক আগে এলাকার এক তান্ত্রিক স্বপ্নে ভৈরবী কালীর দর্শন পেয়েছিলেন। তাঁর হাত ধরেই পূজোর সূচনা। জেলায় তো বটেই, রাজ্যের কোথাও বারোয়ারি পুজোয় কালীর এই বিশেষ রূপের আরাধনা করা হয় না বলে ক্লাব কর্তাদের দাবি। ৭৫তম বর্ষে হাওড়া মুক্তি সংঘ এবার নারীশক্তির সংহারিণী রূপকে ফুটিয়ে তুলছে। মণ্ডপ তৈরি হয়েছে ভৌতিক পরিবেশে থাকা একটি মন্দিরের আদলে। বিরাট ত্রিশূল, মহিষের মাথাকে অশুভ বিনাশের প্রতীকী হিসেবে তুলে ধরা হয়েছে।
থিমের আতিশয্য না-থাকলেও অর্ধশতাব্দীরও বেশি সময় ধরে কালী পুজোয় নিষ্ঠা ধরে রেখেছে রামরাজাতলার খেয়ালি সংঘ। এই জায়গাতেই রয়েছে সাধক জটিলাবাবার বিখ্যাত আশ্রম। সেই সাধুর হাত ধরেই শুরু হয়েছিল কালীর আরাধনা। বর্তমানে ক্লাব কমিটি পুজোর পরিচালনা করে আসছে। বালি-জগাছার জগদীশপুর দেবীরপাড়া নতুন দল এবছরের কালীপুজোর থিমে তুলে ধরছে শরৎকালের নৈসর্গিক সৌন্দর্যকে। এবছর এই ক্লাবের ৪২তম পুজো। শরতে উৎসবের পরিবেশ, পুজোর ছুটি, কাশফুলের ঢেউ, শিউলি—সবটাই ফুটে উঠেছে মণ্ডপসজ্জায়। থিমের সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখেই চমক রয়েছে দেবী প্রতিমায়। অন্যদিকে, পাওয়ার হাউস মোড়ের হাওড়া নেতাজি সুভাষ সংঘের এবার ৬৪তম বছরের পুজো। ১৮ ফুট উচ্চতার দেবীমূর্তির পাশাপাশি রয়েছে চন্দননগরের আলোকসজ্জা। এবারের বিসর্জনে চমক দিতে চলেছে তারা। শোভাযাত্রায় থাকবে স্যাক্সোফোনের লাইভ পারফরম্যান্স। -নিজস্ব চিত্র