সোমনাথ মন্দির থেকে পাখিরালয়, আহ্বান-এর সুরে মাতোয়ারা পাণ্ডুয়া
  • ৩ নভেম্বর, ২০২৬ ০৪:০০
Prefer us on Google

নিজস্ব প্রতিনিধি, চুঁচুড়া: সেজে উঠছে হুগলির কালীনগরী, পাণ্ডুয়া। ঐতিহ্যের কালীপুজোকে কেন্দ্র করে থিমের প্রতিযোগিতা আর আলোর বাহারে দর্শকদের মাতিয়ে দিতে প্রস্তুতি তুঙ্গে। থিম নিয়ে প্রতিযোগিতার জেরে অনেকে পুজো উদ্যোক্তা মণ্ডপসজ্জা সংক্রান্ত গোপনীয়তা বজায় রেখে চলছেন। গত কয়েকবছর ধরে পাণ্ডুয়ায় থিমের বর্ণময়তা দেখা যাচ্ছে। এবারও তার ব্যতিক্রম হবে না বলে উদ্যোক্তাদের ইঙ্গিত। কোথাও স্থাপত্যকে অনুকরণ করে থিম, তো কোথাও ভাবনা ও ভাবমূলক থিমের আয়োজন। সঙ্গে বাহারি আলোতে আলোর উৎসব রঙিন করে তোলার প্রয়াস।

Advertisement

পাণ্ডুয়ার অন্যতম বিগ বাজেটের পুজো হয় প্রগতি সঙ্ঘে। এবারও সেখানে জাঁকজমকের সঙ্গে পুজোর আয়োজন হচ্ছে। উদ্যোক্তারা এবছর গুজরাতের সোমনাথ মন্দিরকে আকার দেওয়ার কাজে নেমেছেন। প্রায় ৬০ ফুট উঁচু ও ১০০ ফুট চওড়া মণ্ডপ নির্মাণ করা হচ্ছে। ফাইবার সহ নানা উপকরণে আকার নিতে শুরু করেছে বিখ্যাত সোমনাথ মন্দির। মণ্ডপে আধুনিক ধাঁচের কালীপ্রতিমা থাকবে। প্রতিমা প্রায় ২৮ ফুট উচ্চতার। আলোকসজ্জাতে শান্তিপুরের শিল্পীদের বরাত দেওয়া হয়েছে। সেখানেও থাকবে চমক। মণ্ডপের আকর্ষণ বাড়াতে বিশেষ শো’য়ের আয়োজন করা হচ্ছে। তবে সেই বিশেষ আকর্ষণ নিয়ে উদ্যোক্তারা এখনই মুখ খুলতে চাইছেন না। পুজো উদ্যোক্তা হিমাদ্রি রায় ও সুরজিৎ সাহ বলেন, ‘মণ্ডপ থেকে প্রতিমা ও আলোকসজ্জা দর্শকদের মাতিয়ে দেবে। পাশাপাশি একটি অন্যরকম চমকের আয়োজনও থাকবে।’ পাণ্ডুয়ার অন্যতম বড়ো পুজো হিসাবে নাম আছে চন্দন স্মৃতিসঙ্ঘের। তাদের এবারের থিম, পাখিরালয়। মূলত হারিয়ে যাওয়া পাখি ও পাখির বাসাকে কেন্দ্র করে মণ্ডপ হচ্ছে। প্যান্ডেলজুড়ে নানা রকমের পাখির বাসার আদল গড়ে তোলার কাজ চলছে। সঙ্গে থাকবে নানারকম পাখির মডেল। মণ্ডপে প্রতিমা থাকবে ‘পাখিদের দেবী’র আদলে। প্রতিমা মাটির। তা থিমের অনুকরণে সাজবে। এছাড়া নজরকাড়া আলোকসজ্জার আয়োজনও হয়েছে। থিমের অনুকরণে আলো দিয়ে মণ্ডপসজ্জা হবে। সঙ্গে থাকবে অন্যান্য আলোকসজ্জাও। পুজো উদ্যোক্তা অনুদ্যূতি চক্রবর্তী বলেন, ‘কালীনগরী পাণ্ডুয়ার অন্যতম জনপ্রিয় পুজোর সুনাম ধরে রাখতে সমস্ত আয়োজনই করা হচ্ছে।’ পাণ্ডুয়ার মধ্যমপাড়া ব্যবসায়ী সমিতির তরুণ সঙ্ঘের পুজোর এবারের থিম, আহ্বান। ৬৬ বছরের ওই পুজো এবার সুতোর বুনোটের মণ্ডপসজ্জা করে চমক দিতে চাইছে। মণ্ডপজুড়ে থাকবে অসংখ্য হাতির মডেল। পৌরাণিক জীব হাতিকে সামনে রেখে এক ভাবমূলক উপস্থাপনার মাধ্যমে আকর্ষণের বলয় তৈরির পরিকল্পনা উদ্যোক্তারা করেছেন। দেবী কালী এখানে তাঁর স্বাভাবিক প্রচণ্ডা চেহারায় থাকবেন না। মাটির প্রতিমায় একটি শান্তসৌম্য রূপ গড়ে তোলা হচ্ছে। নানা রকমের আলোর ব্যবহার মণ্ডপে দেখা যাবে। তার মধ্যে সুতোর বুনোটের মাঝে আলোকসজ্জা মণ্ডপে বিশেষ আবহ তৈরি করবে। পুজো উদ্যোক্তা বিকাশ শর্মা বলেন, ‘আমাদের মণ্ডপসজ্জা আলোর উৎসবের রাতকে আরও মনোহর করে তুলবে।’