Bartaman Logo
১০ জুন, ২০২৬
বর্তমান / কলকাতা

নকশিকাঁথার রাজবাড়ি থেকে বাঙালি আবেগ, জমজমাট থিমের যুদ্ধ

প্রতিবছর মধ্যমগ্রাম ও বারাসতের বেশ কিছু দুর্গাপুজো মানুষের নজর কাড়ে। যার মধ্যে অন্যতম মধ্যমগ্রামের উদয়রাজপুর-হরিহরপুর সর্বজনীন দুর্গাপুজো।

নকশিকাঁথার রাজবাড়ি থেকে বাঙালি আবেগ, জমজমাট থিমের যুদ্ধ
  • ২৪ সেপ্টেম্বর, ২০২৫ ০৪:০০
Prefer us on Google

শ্যামলেন্দু গোস্বামী, বারাসত; প্রতিবছর মধ্যমগ্রাম ও বারাসতের বেশ কিছু দুর্গাপুজো মানুষের নজর কাড়ে। যার মধ্যে অন্যতম মধ্যমগ্রামের উদয়রাজপুর-হরিহরপুর সর্বজনীন দুর্গাপুজো। ৭৬তম বর্ষ এবার তাদের। থিম, ‘নকশিকাঁথার রাজবাড়ি’। প্যান্ডেলজুড়ে বিভিন্ন নকশা তৈরি করা হয়েছে। উদ্যোক্তারা জানান, মণ্ডপে প্রবেশ করতে পেরতে হবে একটি জলাধার। তা পেরনোর জন্য তৈরি রয়েছে একটি সেতু। প্যান্ডেলের প্রতিবিম্ব দেখা যাবে জলে। দিনের তুলনায় রাতে মণ্ডপের শোভা আরও বাড়বে। প্যান্ডেল তৈরি করতে সময় লেগেছে প্রায় তিন মাস। বৃষ্টির কারণে সমস্যায় পড়তে হয়েছে শিল্পীকে। প্রতিমা কুমোরটুলিতে তৈরি। পঞ্চমীর দিন পুজোর উদ্বোধন। রাজবাড়ির উচ্চতা ৫৫ ফুট ও চওড়ায় ৭০ ফুট। সাবেকি ঢঙের প্রতিমা। শিল্পী মোহনবাঁশি রুদ্র পাল। পুজোর সম্পাদক গোপাল বসু বলেন, দত্তপুকুরের শিল্পী মণ্ডপ তৈরি করছেন। থিমে থাকছে নানা ধরনের নকশা। প্রতিমাতেও রয়েছে চমক। থার্মোকল, ফোম এবং ফাইবার দিয়ে প্যান্ডেল তৈরি। বারাসত শহরের ঐতিহ্যবাহী পুজো হল বাদু অগ্রণী ক্লাবের। থিমের ওপর ভরসা করেন না তারা। বিশেষ আভিজাত্য রয়েছে এই পুজোর। জমিদারবাড়ির মতো এখানে ডাকের সাজে সজ্জিত উমা। প্রথম থেকেই মূর্তি হয় একচালার। সভাপতি বিবর্তন সাহা বলেন, এই পুজো ঐতিহ্যবাহী। এখন জৌলুস বেড়েছে। এলাকার মানুষের কাছে পুজো আবেগের জায়গায় আছে। সম্পাদক বিপ্লব মৌলিক বলেন, এই এলাকায় আগে একটি জমিদার বাড়িতে পুজো হতো। কিন্তু সময়ের সঙ্গে সে পুজো জৌলুস হারায়। জমিদারবাড়িতে এখন কোনওরকমে পুজো করা হয়। এই পুজোটিই এখন বাদুর মানুষের আবেগ দখল করেছে। হাবড়া দু’নম্বর ব্লকের বিড়া বল্লভপাড়া বারোয়ারি পুজো ১০৪তম বর্ষে পদার্পণ করেছে। থিম, দক্ষিণ ভারতের নারায়ণ মন্দির। প্যান্ডেলের ভিতরে চিরন্তন বাঙালিয়ানার চিত্র। কবিগুরু রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর ও পণ্ডিত ঈশ্বরচন্দ্র বিদ্যাসাগরের অবদান এবং বাংলাভাষার প্রতি তাঁদের অনস্বীকার্য দান ফুটে উঠেছে মণ্ডপসজ্জায়। মাতৃপ্রতিমার রূপেও রয়েছে বিশেষ ছোঁয়া। সাবেকি ঢঙে তৈরি দুর্গার রূপদান করেছেন সনাতন রুদ্র পাল। রয়েছে সুসজ্জিত আলোকসজ্জা। পুজোর ভার্চুয়াল উদ্বোধন করেন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। উপস্থিত ছিলেন বিধায়ক নারায়ণ গোস্বামী, বারাসতের এসডিও সোমা দাস সহ অনান্যরা।

Advertisement
Advertisement
সম্পর্কিত সংবাদ