নিজস্ব প্রতিনিধি, চুঁচুড়া: হুগলিতে কালীপুজো মানেই পাণ্ডুয়াতে থিম যুদ্ধ। ইতিমধ্যেই চর্চার পালে তুফান উঠেছে। প্রতিমার ভঙ্গিমা থেকে আলোকসজ্জার বাহারে পরস্পরকে টেক্কা দিতে সরগরম পাণ্ডুয়া। থিম মানেই কল্পনার ডানায় বিপুল উড়ান। পাণ্ডুয়াতে কালীপুজোর মরশুমে সেই উড়ে বেড়ানো বিরাট স্বাধীনতা পায়। ফলে থিমের ভিন্নধর্মী প্রয়োগে চমকে যেতে হয়। এবারও সেসবের প্রস্তুতি চলছে জোরকদমে। প্রান্তিক জনপদে লেগেছে পুজোর হাওয়া। অলি, গলি, রাজপথে মণ্ডপ আর আলোকসজ্জার খুঁটি বসতে শুরু করেছে। এই মুহূর্তে পাণ্ডুয়ার পুজো উদ্যোক্তারা সমবেতভাবে ধ্বনি তুলছেন, ‘বৃষ্টি যেন না হয়’।
দক্ষিণ কোরিয়ার ‘শিশু রাক্ষস’ আগেই পুতুল হয়ে বিশ্ববাজারে হইচই ফেলে দিয়েছিল। ফ্যাশন দুনিয়ায় ইতিমধ্যেই লাবুবু’র জনপ্রিয়তা তুঙ্গে। কিন্তু ভারতীয় পুজো সংস্কৃতির সঙ্গে লাবুবু’র কোনও যোগ আছে, এমন দাবি অন্তত কোনও বিশেষজ্ঞ কখনও দাবি করেননি। যদিও থিম সংস্কৃতি সবকিছুকেই আপন করে নিতে পারে। এবার কালীপুজোয় লাবুবুকেই চমকে দেওয়ার হাতিয়ার করেছে বোসপাড়া ফ্রেন্ডস। তাদের থিম, পালক। সেখানে মনোরম মণ্ডপে থাকবেন শিশুদেবী। আর আদল হবে লাবুবু’র মতো। শিশুদেবী থেকে লাবুবু, ইতিমধ্যেই বোসপাড়ার থিম নিয়ে আলোচনা তুঙ্গে পাণ্ডুয়ায়। যদিও শুধু প্রতিমা নয়, মণ্ডপসজ্জাতেও থাকছে চমক। ময়ূরের আসল ও নকল পালক দিয়ে তৈরি হবে মণ্ডপ। তাই নাম দেওয়া হয়েছে, পালক। ক্লাবকর্তারা চাইছেন, মণ্ডপে আসল ময়ূরকে হাজির করতে। যদিও প্রশাসনের তরফে এখনও তা নিয়ে সবুজ সংকেত মেলেনি। আলোকসজ্জাতেও থাকবে বাহার। আলোর ঝরনাধারায় লাবুবু মণ্ডপকে বর্ণময় করতে উদ্যোগের অভাব নেই। পুজো উদ্যোক্তা সুভাষ ঘোষ বলেন, আলোকসজ্জাতেও থিম রাখার পরিকল্পনা আছে।
বোসপাড়ার থিম যদি হয় পালক তবে একধাপ এগিয়ে গো-হাট মেলাতলার থিম কাল্পনিক, ময়ূরমহল। ময়ূরের নানা বিভঙ্গকে তুলে ধরে মণ্ডপ গড়া থেকে সাজসজ্জা হচ্ছে। ফোম থেকে ধাতুর পাত, কাঠ, বাঁশ সহ নানা উপাদানে গড়ে তোলা হচ্ছে ময়ূরমহল। দেবী প্রমিতা এখানে মাটির। কিন্তু তাতে থাকবে থিমের ছোঁয়া। ময়ূরমহলে তিনজন দেবীর দর্শন মিলবে। মাটির সঙ্গে কিছুটা আর্টের কাজও থাকবে। পুজো উদ্যোক্তা সুনীল কুণ্ডু বলেন, ময়ূরমহলের সঙ্গে মিলিয়ে আধুনিক ধাঁচার প্রতিমা দর্শকদের মন জয় করবেই। উদ্যোক্তারা জানিয়েছেন, আলোর উৎসবে চন্দননগরের আলোকমালায় সাজবে দীর্ঘ পথ। থাকবে নয়নাভিরাম তোরণ আর চন্দননগরের যান্ত্রিক আলোর সূক্ষ্ম কারুকার্য। হাতে বাকি ন’দিন। এখনও মণ্ডপগড়ার কাজ প্রাথমিকস্তরেই আছে। তবু যেন পুজোর মৌতাতে মেতে উঠেছে প্রান্তিক পাণ্ডুয়া, হুগলির কালীপুজোর নগরী।