নিজস্ব প্রতিনিধি, চুঁচুড়া: দুর্গোৎসবের থিম মানেই নানা অসম্ভবের মিলন। সুকমার রায়ের হাঁসজারুর মতো মেলবন্ধন পুজো মরশুমে আকছার দেখা যায়। কিন্তু আপাত অসংলগ্ন হলেও রায়-কবির কবিতা যেমন জনপ্রিয় তেমনই দর্শকদের মাতিয়ে তোলে কিছু পুজো মণ্ডপ। এবারও হুগলির মাটিতে মাথা তুলছে তেমনই একাধিক মণ্ডপ। কোথাও চার্চের সঙ্গে মিলে যাচ্ছেন দেবী, দেবীর সঙ্গে মিলে যাচ্ছেন শ্রীকৃষ্ণ। আবার কোথাও ভূতাত্ত্বিকদের ভ্রু কুঁচকে দিয়ে সুজলাং সুফলাং বাংলায় নেমে আসছে রাজস্থান, মরুশহরের স্থাপত্য। পুজো মরশুমে এমন বেনজির স্থাপত্যই নজির তৈরি করে। ভিড়ের নজির। তাই বিরল নানা ঘটনা অকাতরে ঘটিয়ে চলেন পুজো উদ্যোক্তারা। প্যারিসের বিখ্যাত ব্যাসিলিকা তৈরির সময় কেউই হয়তো ভাবেননি সুদূর চুঁচুড়ার পেয়ারাবাগানে একদিন তার অনুকরণ তৈরি হবে। উদয় সঙ্ঘের উদ্যোগে পেয়ারাবাগান সর্বজনীনের মাঠে ইতিমধ্যেই মাথা তুলতে শুরু করেছে ফ্রান্সের জাতীয় সম্পদ-ব্যাসিলিকা অব প্যারিস। তিন সুউচ্চ মিনারের সেই সুপ্রাচীন গির্জার কাঠামো ইতিমধ্যেই শেষের পথে। সাদা রঙের সেই মোহন স্থাপত্যের ভিতরেই স্থাপন করা হয়েছে আধুনিক আঙ্গিকের দশভুজাকে। সাবেক ও আধুনিক ধারার মিশেলে গড়ে উঠবে মাটির প্রতিমা। গির্জায় দেবীর উপস্থিতি যেমন বেনজির তেমনই দেবীর গির্জা মহলের অন্দরসজ্জায় থাকবে কৃষ্ণলীলা। কৃষ্ণের নানা লীলার অনুসরণে তৈরি হবে অন্দরের কাঠামো। উদ্যোক্তারা জানিয়েছেন, ব্যাসিলিকা অব প্যারিসের কাঠামো হবে প্রায় ৮০ ফুট উচ্চতার। চওড়ায় প্রায় ৭০ ফুট। বিরাটায়তন কাঠামো তৈরি হবে ফাইবার দিয়ে। ক্লাব কর্তা বুবাই রায় বলেন, চুঁচুড়ায় বসেই আমরা প্যারিসের স্থাপত্য দেখানোর ব্যবস্থা করছি। ওই গির্জা পৃথিবী বিখ্যাত। আমাদের দেবী-উৎসবও বিশ্বজনীন পরিচিতি পেয়েছে। তাই দু’টিকে আমরা মিলিয়ে দিয়েছি। আমাদের এবার ৭৫ বছর পূর্তি। তাই বিশেষ আয়োজন হচ্ছে।



