Bartaman Logo
২৬ সেপ্টেম্বর, ২০২৬
বর্তমান / কলকাতা

তারানাথ তান্ত্রিকের ‘পাসিং শো’ থেকে আদি কলকাতার বিষ, কলকাতার শতবর্ষ প্রাচীন গ্রন্থাগারে অনন্য প্রদর্শনী

‘পাসিং শো’ সিগারেটের কথা মনে আছে? তারানাথ তান্ত্রিকের কাছে অলৌকিক ও রহস্যময় গল্প শুনতে গেলে সঙ্গে করে নিয়ে যেতে হত এই সিগারেট।

তারানাথ তান্ত্রিকের ‘পাসিং শো’ থেকে আদি কলকাতার বিষ, কলকাতার শতবর্ষ প্রাচীন গ্রন্থাগারে অনন্য প্রদর্শনী
  • ২৬ সেপ্টেম্বর, ২০২৬ ০৪:০০
Prefer us on Google

নিজস্ব প্রতিনিধি, বিধাননগর: ‘পাসিং শো’ সিগারেটের কথা মনে আছে? তারানাথ তান্ত্রিকের কাছে অলৌকিক ও রহস্যময় গল্প শুনতে গেলে সঙ্গে করে নিয়ে যেতে হত এই সিগারেট। কখনও দেখার সুযোগ হয়েছে সেই সিগারেটের প্যাকেট? কিংবা আর্সেনিক, মরফিন, আফিম বা ধুতুরা, যা লাল, সবুজ, গাঢ় নীল, বাদামি শিশিতে থাকত। যা ঔপনিবেশিক কলকাতার সময়কালের বিষ। যদি চোখের সামনে সেই সব বিষের দুষ্প্রাপ্য শিশিগুলি দেখার সুযোগ ঘটে? চমকে যাবেন? শহরের শতবর্ষ প্রাচীন জগজ্জ্যোতি গ্রন্থাগার ও অবৈতনিক পাঠাগারে আয়োজিত হচ্ছে এমনই সব জিনিসের অনন্য প্রদর্শনী। শহরের মানুষকে তা দেখার সুযোগ করে দিয়েছেন সংগ্রাহক সৌভিক মুখোপাধ্যায়। শুক্রবার সূচনা হয়েছে। চলবে রবিবার পর্যন্ত। সময়, বিকেল ৫টা থেকে রাত ৯টা।

Advertisement

শ্রদ্ধানন্দ পার্কের উল্টোদিকে আমহার্স্ট স্ট্রিটের মধু গুপ্ত লেন। সেখানে ছোট্ট একটি রাস্তার ধারে আছে জগজ্জ্যোতি গ্রন্থাগার ও অবৈতনিক পাঠাগার। ১৯১০ সালে এর পথচলা শুরু। এলাকার বইপ্রেমী মানুষরা বাঁচিয়ে রেখেছেন গ্রন্থাগারটি। সংগ্রাহক সৌভিক মুখোপাধ্যায় শহরের পরিচিত নাম। এবার তাঁর সংগ্রহের সঙ্গে মিশেছে গ্রন্থাগার। সৌভিকবাবু গত ২০ বছর ধরে সংগ্রহ করছেন ঔপনিবেশিক কলকাতার বিষের শিশি। শহরে প্রায় চিরুণি তল্লাশি চালিয়ে খুঁজে পেয়েছে ২২ খানার মতো বিরল পাত্র। সেগুলিই প্রদর্শিত হচ্ছে। তাঁর সংগ্রহে রয়েছে পুরানো দিনের হাজারেরও বেশি সিগারেটের প্যাকেট। তার মধ্যে অনেকগুলিই রাখা হয়েছে প্রদর্শনীতে। তারানাথ তান্ত্রিকের সিগারেট সহ প্রথম বিশ্বযুদ্ধের সময়কালের কলকাতায় ব্যবহৃত সিগারেটের প্যাকেটও আছে। রয়েছে আরও নানা ইতিহাসসমৃদ্ধ দ্রব্য। সৌভিকবাবু বলেন, ‘এই বিষের শিশিগুলি ভালো বিষ। ওষুধেও ব্যবহার হয়েছে। মানুষের মন ভালো করতে বিস্মৃত ইতিহাস সামনে নিয়ে এসেছি।’ জগজ্জ্যোতি গ্রন্থাগার ও অবৈতনিক পাঠাগারের সভাপতি তপন চক্রবর্তী বলেন, ‘বর্তমান সময়ে দাঁড়িয়ে আরও বেশি পাঠক, বইপ্রেমী মানুষকে গ্রন্থাগারমুখী করতেই আমাদের এই প্রয়াস। পুরানো বইয়ের সঙ্গে পাঠকরা দেখতে পারবেন এই শহরের প্রায় অদেখা কিছু ঐতিহাসিক জিনিস।’

Advertisement
সম্পর্কিত সংবাদ