নিজস্ব প্রতিনিধি, হাওড়া: কাপড়ের থান আর কাঁচির শব্দকে ঘিরেই যাঁর কর্মযজ্ঞ, সেই মানুষটির হাতেই আজ জন্ম নিচ্ছে রঙিন স্বপ্নের বাগান। সাঁকরাইলের মানিকপুর এলাকার বাসিন্দা মকসুদ লস্কর ওরফে মানিকবাবু দীর্ঘদিন দরজির কাজ করে জীবিকা নির্বাহ করেছেন। তবে সময়ের সঙ্গে সঙ্গে তাঁর জীবনে যুক্ত হয়েছে এক সম্পূর্ণ ভিন্ন অধ্যায়— ফুল ও ফলের বাগান। সোশ্যাল মিডিয়াকেই শিক্ষক বানিয়ে তিনি গড়ে তুলেছেন এমন এক বাগান, যা এলাকার মানুষের কাছেই বিস্ময়। শুধু তাই নয়, ব্লকের বেকার যুবক-যুবতিদের ফুল চাষে উৎসাহ জোগাচ্ছেন তিনি।
পঞ্চাশোর্ধ্ব মানিকবাবু প্রায় তিন দশক ধরে দরজির পেশায় যুক্ত ছিলেন। শীতের মরশুমে রঙিন ফুলের প্রতি আলাদা আকর্ষণ থেকেই মনে জন্ম নেয় নতুন কিছু করার তাগিদ। অবশেষে দরজির কাজের পাশাপাশি ফুলের বাগান গড়ার সিদ্ধান্ত নেন তিনি। কীভাবে চারা তৈরি করতে হয়, কীভাবে গাছের পরিচর্যা করতে হয়, কী সার ব্যবহার করতে হবে, সবই তিনি শিখেছেন ইউটিউব ও অন্যান্য সোশ্যাল মিডিয়া থেকে। শুরুতে নানা ভুলভ্রান্তি হলেও বারবার চেষ্টা করে অভিজ্ঞতা অর্জন করেছেন তিনি। আজ সেই অভিজ্ঞতাই তাঁর শক্তি। মাত্র দু’বছরের মধ্যেই তাঁর বাগানে ফুটেছে নানা ধরনের ফুল। গাঁদা, অ্যাস্টর, চন্দ্রমল্লিকা, রজনীগন্ধা, জারবেরা তো রয়েছেই, তার সঙ্গে রয়েছে ১২৬ ধরনের বোগেনভেলিয়া। ফুলের পাশাপাশি ফলের গাছও তাঁর বাগানের বড়ো আকর্ষণ। মিয়াজাকি আম, বেনানা আম, ভারতসুন্দরী কুল, ল্যাংচা সবেদা, বিভিন্ন রকমের ড্রাগন ফ্রুট সহ নানা প্রজাতির ফলের গাছ বাগানকে আরও বৈচিত্র্যময় করে তুলেছে।
এই রঙিন বাগান এখন শুধু স্থানীয় বাসিন্দাদেরই নয়, ভ্লগার ও প্রকৃতি প্রেমীদের কাছেও আকর্ষণের কেন্দ্র হয়ে উঠেছে। অনেকেই ছবি ও ভিডিও তুলতে আসছেন। এমনকি, মানিকবাবুর গাছ ইতিমধ্যেই বিভিন্ন প্রতিযোগিতা ও প্রদর্শনীতে অংশ নিতে শুরু করেছে। নিজের উদ্যোগ সম্পর্কে মানিকবাবু বলেন, ‘আপাতত এই বাগান থেকে বড়সড় আর্থিক লাভ না হলেও ভবিষ্যতে এটাই আয়ের প্রধান মাধ্যম হতে পারে। তাই স্বনির্ভর হতে বেকার যুবক-যুবতিদের ফুল চাষে এগিয়ে আসা উচিত।’ বর্তমানে দিনের বেলায় মানিকবাবু বড়ো অংশই কাটে গাছের পরিচর্যায়। কখনও কখনও খাওয়া-দাওয়ার কথাও ভুলে যান তিনি। হাওড়ার বাগনান, ঘোড়াঘাটার মতো গ্রামীণ এলাকায় একমাত্র ফুল চাষের প্রচলন রয়েছে। কিন্তু সাঁকরাইলে যেখানে ফুল চাষের বিশেষ প্রচলন নেই, সেখানে মানিকবাবুর এই উদ্যোগ অনেকের কাছেই অনুপ্রেরণা হয়ে উঠেছে। এক সময়ের সাধারণ দরজি আজ এলাকার মানুষের কাছে পরিচিত ‘ফুলের মানিকবাবু’ হিসাবে। নিজস্ব চিত্র