শ্যামলেন্দু গোস্বামী, বারাসত: শুরু হয়ে গিয়েছে কালীপুজোর কাউন্টডাউন। বারাসতের কালীপুজোর খ্যাতি রয়েছে। আর প্রতি বছরই বারাসতকে টেক্কা দিতে তাল ঠোকে মধ্যমগ্রাম। এবছরও সেখানে ঐতিহ্য আর আধুনিকতার সমন্বয় রেখে হচ্ছে পুজো। মণ্ডপ আর প্রতিমা তো বটেই পাশাপাশি আলোকসজ্জাতেও নজর কাড়ছে মধ্যমগ্রাম। কোথাও তৈরি হচ্ছে গোল্ডেন টেম্পল। কোথাও সানডে সাসপেন্স খ্যাত ওয়েব সিরিজ ‘ভোগ’য়ের লাইভ শো।
মধ্যমগ্রামের ১৬ নম্বর ওয়ার্ডের পশ্চিম চণ্ডীগড়ের বালক-কিশোর সংঘের কালীপুজো ৭২ বছরে পা দিয়েছে। কলকাতার একটি বনেদি বাড়ির আদলে তৈরি হচ্ছে মণ্ডপ। তাদের থিম, ‘ভোগ’। ওয়েব সিরিজটিতে যেমন রহস্যময় ও ভীতিপ্রদ ঘটনা দেখা গিয়েছিল, তেমনভাবেই লাইভ শো’র মাধ্যমে বিভিন্ন ঘটনা তুলে ধরবেন পুজোর উদ্যোক্তারা। তাঁদের কথায়, ভোগ হল অপ্রাকৃত একটি থ্রিলার। যেখানে অতীন নামে এক ব্যক্তি একটি কিউরিও শপে একটি রহস্যময় মূর্তি খুঁজে পান। সেটা তিনি বাড়িতে আনেন। এই দেবীমূর্তির পুজোয় কিছু অনিয়ম হওয়ায় দেবী রুষ্ট হয়ে তাণ্ডব শুরু করেন। সেই তাণ্ডব যেমন রহস্যময়, তেমনি আতঙ্কেরও। সেটাই এ বছর লাইভ শো’র মাধ্যমে তুলে ধরা হবে। কালীপুজোর প্রতি সন্ধ্যায় ছ’টা থেকে রাত ১২টা পর্যন্ত লাইভ-শো দেখতে পাবেন দর্শনার্থীরা। এছাড়া প্রতিমাতেও রয়েছে চমক। ‘ভোগ’য়ের আদলে চার হাতের দেবী মূর্তি। পুজো কমিটির সম্পাদক দীপঙ্কর দত্ত বলেন, ‘আমাদের বিশ্বাস লাইভ-শো দেখে দর্শনার্থীরা আনন্দ পাবেন। উপভোগ করবেন থ্রিলার। পাশাপাশি মুগ্ধ হবেন মণ্ডপ ও প্রতিমা দেখে।
অন্যদিকে মধ্যমগ্রামের বড় পুজোগুলির মধ্যে অন্যতম হল ইয়ং রিক্রিয়েশন ক্লাবের কালীপুজো। মধ্যমগ্রামের চৌমাথা সংলগ্ন সুভাষ ময়দানে এখন জোরকদমে চলছে মণ্ডপ তৈরির কাজ। ৩৮তম বছরে পা দিল এই পুজো। এবার ভাবনা, থাইল্যান্ডের বিখ্যাত গোল্ডেন টেম্পল। এটি ব্যাঙ্ককে আছে। বিশ্বের দ্বিতীয় বৃহত্তম সোনার বুদ্ধ মূর্তি আছে এখানে। থাইল্যান্ডের বসবাসকারীদের কাছে এই মন্দির পবিত্র। বুদ্ধ উপাসকরা নির্জলা উপবাস করে উপাসনা করেন। স্থানীয়দের ধারণা, সোনার বুদ্ধমূর্তি বিরল, অমূল্য। তাই মূর্তি স্টুকো এবং রঙিন কাচের স্তরে ঢেকে রাখা হয়। ১৯৫৫ সালে এক দুর্ঘটনায় মূর্তির উপরের স্তর খসে পড়েছিল। এরপর সোনার অস্তিত্ব প্রকাশ পায়। মধ্যমগ্রামের ইয়ং রিক্রিয়েশন ক্লাবের পুজো মণ্ডপে এলে দর্শনার্থীরা থাই সংস্কৃতির সঙ্গে পরিচিত হতে পারবেন বলে নিশ্চিত কর্মকর্তারা। কমিটির পক্ষ থেকে কৌশিক মুখোপাধ্যায় বলেন, ‘ফাইবার, প্লাই ও রং ব্যবহার করে তৈরি হয়েছে ব্যাঙ্ককের গোল্ডেন টেম্পল। যাঁরা থাইল্যান্ডে গিয়ে গোল্ডেন টেম্পল দর্শন করতে পারেন না তাঁদের জন্য এই উদ্যোগ।’