বিশ্বজিৎ মাইতি, বরানগর: শারদীয়া উৎসব বনাম দুর্গাপুজো নিয়ে রাজ্যজুড়ে বিতর্কের আবহ। খোদ মুখ্যমন্ত্রী বামেদের স্টলে দুর্গাপুজো না লিখলে স্টল দিতেই বারণ করেছেন। কিন্তু মেলা নিয়ে তেমন কোনো নির্দেশিকা শোনা যায়নি। তবে বিজেপি কর্মীদের ক্ষোভ-বিক্ষোভের আঁচ পেয়ে এবার বরানগরের সিঁথির মোড়ে মেলার নাম পরিবর্তন করে দিয়েছেন আয়োজকরা। আগে মেলার নাম ছিল ‘সিঁথির মোড় শারদীয়া উৎসব ও মেলা’। এখন তার নাম হয়েছে ‘সিঁথির মোড় দুর্গাপুজো মেলা’। এ নিয়ে জোর জল্পনা ও বিতর্ক শুরু হয়েছে।
কলকাতা পুরসভা ও উত্তর শহরতলির সংযোগস্থল হল সিঁথির মোড়। সিঁথির সার্কাস ময়দানে বহু বছর ধরে দুর্গাপুজোয় মেলা বসে। ‘শারদীয়া মেলা’র নাম শুনতে ও দেখতে অভ্যস্ত শহরবাসী। মেলায় কয়েকশো দোকান বসে। প্রায় দু’মাস ধরে চলা এই মেলার প্রচার শুরু হয় মাসখানেক আগে। মাইক প্রচার, টোটো-অটোতে প্রচারের পাশাপাশি বরানগর থেকে বারাকপুর ও কলকাতা শহরেও কয়েক হাজার ব্যানার লাগানো হয়। এবারও আগস্ট মাস থেকেই মেলার প্রচার শুরু হয়ে গিয়েছে। চারদিকে ব্যানার লাগানো হয়েছে। তাতে লেখা— ‘সিঁথির মোড়, শারদীয়া উৎসব ও মেলা। শুভারম্ভ, ১৬ সেপ্টেম্বর।’ কিন্তু ওই ব্যানার নিয়ে বিতর্ক শুরু হয়। খড়দহের পি কে বিশ্বাস রোডে বিজেপির মণ্ডল সভাপতির নেতৃত্বে বিজেপি কর্মীরা শারদীয়া লেখা ব্যানার খুলে নিয়ে যায়। তারা হুমকি দিয়ে জানায়, মুখ্যমন্ত্রী বলেছেন শারদীয়া উৎসবের নাম থাকবে না। লিখতে হবে দুর্গাপুজো। এই ছবি সমাজ মাধ্যমে ভাইরাল হয়। পরিস্থিতি বেগতিক বুঝে সিদ্ধান্ত বদল করেন মেলার উদ্যোক্তারা। নাম বদল করা হলে প্রশাসনিক অনুমোদন মেলে। পুলিশ, দমকল সহ বিভিন্ন জায়গায় কথা বলেন উদ্যোক্তারা। নতুন নাম দেওয়া হয়, ‘সিঁথির মোড় দুর্গাপুজো মেলা। শুভারম্ভ, ১৮ সেপ্টেম্বর।’ মেলা চলবে ১ নভেম্বর পর্যন্ত। এখন কয়েক হাজার ব্যানার খুলে নতুন নামের ব্যানার লাগানো শুরু হয়েছে।
মেলার আয়োজক রাজেশ চন্দ্র বলেন, আমরা সমাজ মাধ্যমে মেলার নাম নিয়ে কিছু বিতর্ক দেখেছি। তাই বিতর্ক এড়াতে নাম বদল করেছি। আসলে মেলার প্রস্তুতি অনেক আগে নেওয়া হয়েছিল। তাই আগের ব্যানার খুলে নতুন ব্যানার লাগানো হচ্ছে। সুষ্ঠুভাবে আমরা মেলার আয়োজন করতে চাই। বরানগরের তৃণমূল নেতা রামকৃষ্ণ পাল বলেন, প্রথম থেকে আমরা এই মেলাকে শারদীয়া মেলা নামেই দেখে আসছি। বিজেপি হুমকি ও গায়ের জোরে দুর্গাপুজো মেলা লেখাচ্ছে। মানুষ সব দেখছে। বিজেপির জেলা সভাপতি চণ্ডীচরণ রায় বলেন, আমরা সনাতনীরা পুজোকে উৎসব বলি না। মায়ের আরাধনা ও পুজো হয় নিষ্ঠার সঙ্গে। দুর্গাপুজোকে সামনে রেখে এই মেলার নাম ‘দুর্গাপুজো মেলা’ হলে সমস্যা কোথায়?