Bartaman Logo
১০ জুন, ২০২৬
বর্তমান / কলকাতা

সেক্স র‌্যাকেট থেকে অস্ত্র, ৩০০ বয়ফ্রেন্ডে সাজানো শ্বেতার জাল

শুঁড়িখানার নর্তকী হয়ে ‘কেরিয়ার’ শুরু করেছিল শ্বেতা। তারপর কার্যত তার আলোর গতিতে উত্থান।

সেক্স র‌্যাকেট থেকে অস্ত্র, ৩০০ বয়ফ্রেন্ডে সাজানো শ্বেতার জাল
  • ১২ জুন, ২০২৫ ০৪:০০
Prefer us on Google

নিজস্ব প্রতিনিধি, কলকাতা: শুঁড়িখানার নর্তকী হয়ে ‘কেরিয়ার’ শুরু করেছিল শ্বেতা। তারপর কার্যত তার আলোর গতিতে উত্থান। বিয়ে করলেও ডিভোর্স হয়ে যায়। তার আগেই সেই ব্যক্তির সাহায্য নিয়ে মুম্বইয়ে পাড়ি দেয় সে। বাণিজ্য নগরীতে গিয়ে সে হয়ে যায় বার ডান্সার। কিন্তু ‘আরও চাই’-এর নেশায় শুরু হল দেহব্যবসা। সেখান থেকে ‘ডান্স ট্রুপ’-এর নামে মাঝবয়সি সুন্দরী মহিলাদের কাছে টানা শুরু। মুম্বইতে অচিরেই শুরু হল ডনদের সঙ্গে ওঠাবসা। সেই সঙ্গে শুরু হল অস্ত্রব্যবসা। ভালোই চলছিল সব কারবার। কিন্তু বাধ সাধল কোভিডপর্বের লকডাউন। কলকাতায় ফিরতে হল শ্বেতাকে। তবে সেই পরিস্থিতিই যেন তার জন্য শাপে বর হল! এক বছর বসে থাকার পর কলকাতা-মুম্বইয়ে সমান্তরালভাবে চলল ব্যবসা। নেপথ্যে শ্বেতার ‘বয়ফ্রেন্ড নেটওয়ার্ক’।       

Advertisement

হাওড়া সিটি পুলিস সূত্রে খবর, বাঁকড়ার ওই বাড়িতে খাতায়কলমে ডান্স  ট্রুপ চালাত শ্বেতা। ২০২০ পর্যন্ত সে ছেলে ও মেয়েকে নিয়ে মুম্বইতে ছিল। রীতিমতো বাছাই করে আকর্ষণীয় তরুণীদের নেওয়া হতো। তাদের দিয়ে পানশালায় বিভিন্ন কাজ করাত শ্বেতা। অভিযোগ, সেই সুবাদেই মুম্বইয়ের অপরাধ জগতের সঙ্গে তার সম্পর্ক তৈরি হয়। তার কাছে আসা তরুণীদের দেহব্যবসায় নামতে জোর করে সে। পাশাপাশি ডনদের ‘পরিচর্যা’য় লাগানো হতো তরুণীদের। কোভিডের সময় কলকাতায় ফিরে এসে এখানেও একই কারবার শুরু করে শ্বেতা। কলকাতার একাধিক পানশালায় বার ডান্সার সরবরাহ করতে শুরু করে। এমনকী, বিভিন্ন জেলা ও ভিন রাজ্যের পানশালায়ও তার মাধ্যমে পাঠানো তরুণীরা কাজ করছে। পানশালায় আসা ব্যক্তিদের কারও শ্বেতার পাঠানো মেয়েকে ‘পছন্দ’ হলে তার সঙ্গেই যোগাযোগ করতে হতো। সেইমতো মেয়েদের নিয়ে বিভিন্ন জায়গায় সাত- দশ দিনের ট্যুরে যেতে হতো শ্বেতার নির্দেশে। সোশ্যাল মিডিয়ায়ও অনেকের সঙ্গে বন্ধুত্ব গ঩ড়ে ওঠে তার। তাদের অনেকের সঙ্গেই ঘনিষ্ঠ সম্পর্কে ছিলেন শ্বেতা নিজে। সূত্রের খবর, কলকাতা সহ বিভিন্ন জায়গা মিলিয়ে তার ৩০০-র বেশি বয়ফ্রেন্ড রয়েছে। তদন্তে উঠে এসেছে, কেউ দেহ ব্যবসায় নামতে না চাইলে শারীরিক নির্যাতন করত শ্বেতা ও তার দলবল। সোদপুরের নির্যাতিতা তরুণীকে শুধু শ্বেতা ও আরিয়ান নয়, তার ১৩ বছরের কিশোরীও মারধর করেছে বলে অভিযোগ।  
সূত্র মারফত্ জানা যাচ্ছে, হাওড়ার বাঁকড়ায় ফ্ল্যাটে থাকলেও শহরের বিভিন্ন জায়গায় আস্তানা ছিল তার। মুম্বইতে যেমন প্রাক্তন স্বামীর উপর ভর করে গিয়েছিল, তেমনই মেটিয়াবুরুজের ডন ছিল কলকাতার যোগসূত্র। পুলিস আরও জানতে পেরেছে, মেটিয়াবুরুজের ওই ডন বন্দর সহ বেহালা, হরিদেবপুর ও বাইপাসের বিভিন্ন বারে ডান্সার সরবরাহ করে। সেই মতো মহিলাদের পাঠাত শ্বেতাই। এদিকে, শ্বেতা এই যাবতীয় কারবারকে ‘ডান্স ট্রুপ’ বলে প্রমাণ করতে মরিয়া ছিল। সামাজিক মাধ্যমে বিভিন্ন ভিডিওর মাধ্যমে সেই বার্তাই দেওয়া হতো। কিন্তু নেপথ্যে চলত বড় র‌্যাকেট, যার অন্যতম সহযোগী ছিল ৩০০ বয়ফ্রেন্ড! 

Advertisement
সম্পর্কিত সংবাদ