নিজস্ব প্রতিনিধি, হাওড়া: পাবজি বন্দুক, ড্রোন, প্ল্যানেটরিয়াম, ভীমের গদা— নতুন ধরনের হরেক বাজির সম্ভার নিয়ে জমে উঠেছে হাওড়ার চ্যাটার্জিপাড়ার বাজি মেলা। প্রথম দিনেই বাজি মেলায় বিকেলের পর ভিড় উপচে পড়ল ক্রেতাদের। চলতি বছরে বাজির দাম খানিকটা বেশি বলেই জানাচ্ছেন ক্রেতারা। তবে আজকের প্রজন্ম নিষিদ্ধ শব্দবাজি ছেড়ে সবুজ আতশবাজির দিকে ঝুঁকছে বলে আশাবাদী উদ্যোক্তারা।
মঙ্গলবার থেকে চ্যাটার্জিপাড়া ব্যাঁটরা সম্মিলনির মাঠে শুরু হয়েছে হাওড়া বাজি মেলা। সোমবার বাজি মেলার উদ্বোধন করেন রাজ্যের মন্ত্রী অরূপ রায় ও হাওড়া পুরসভার মুখ্য প্রশাসক ডাঃ সুজয় চক্রবর্তী। আগামী ২০ অক্টোবর পর্যন্ত চলবে এই মেলা। ছোট-বড় মিলিয়ে মোট ৫০টি স্টল রয়েছে এখানে। এদিন বিকেল থেকেই বাজি মেলায় আসতে দেখা যায় কচিকাঁচা থেকে স্কুল পড়ুয়াদের। নতুন কী কী বাজি এসেছে, তা জানতে উৎসুক ক্রেতারা ঘুরে বেড়ালেন একের পর এক স্টলে। হাওড়া বাজি মেলায় এ বছরের অন্যতম আকর্ষণ ভীমের গদা ও পাবজি বন্দুক। ভীমের গদা থেকে একনাগাড়ে বের হয় রং মশাল। পাবজি বন্দুক থেকেও রং মশাল বের হয়, তবে তা বিভিন্ন রঙের। রয়েছে প্ল্যানেটরিয়াম। আকাশে উঠে নানা গ্রহ-নক্ষত্র তুলে ধরে এই বাজি।
পিয়াসা ভান্ডারী নামের এক বিক্রেতা বলেন, ‘ভীমের গদা খুদে ক্রেতাদের বেশ মনে ধরেছে। এছাড়াও ব্যাট-বল, পিকক বাজি, হ্যান্ডশট, কালার শট রয়েছে। সবগুলিই ২০০ থেকে ৫০০ টাকার মধ্যে।’ পাশাপাশি রয়েছে ড্রোন, লোটাস শট, ডাইনোসর, লাফিং মাঙ্কি, হেলিকপ্টার বাজি। দাম ২৬০ টাকা থেকে ৪০০ টাকার মধ্যে। আরেক বিক্রেতা মেঘনা পট্টনায়ক বলেন, ‘বন্দুক জাতীয় বাজি কিনতে এবার কচিকাঁচাদের উৎসাহ খুব বেশি। অপারেশন সিন্দুরের পর এই ধরনের বাজির চাহিদা বেড়েছে।’
হাওড়া বাজি মেলার প্রত্যেকটি স্টলেই অগ্নিনির্বাপন ব্যবস্থা যথাযথ রয়েছে বলে জানিয়েছে কর্তৃপক্ষ। ২০১৭ সাল থেকে প্রশাসন ও সারা বাংলা আতসবাজি উন্নয়ন সমিতির সহযোগিতায় হাওড়ায় এই বাজি মেলার আয়োজন হয়ে আসছে। হাওড়া বাজি মেলার সম্পাদক সৌমিত্র মণ্ডল বলেন, ‘শব্দবাজি শুধু নিষিদ্ধ করলেই হবে না, সাধারণ মানুষকে পুরোপুরি এটা বর্জন করতে হবে। হাওড়ার সবথেকে বড় সবুজ বাজির মেলা এটি। বিগত কয়েক বছরে নতুন প্রজন্মের মধ্যে সবুজ বাজি কেনার উৎসাহ বেড়েছে। এটা ভালো বিষয়।’ ক্রেতাদের অনেকেই বলছেন, ‘বাচ্চাদের জন্য এই বাজিগুলি খুবই নিরাপদ। তবে আগের বছরের তুলনায় এবার দাম খানিকটা বেশি। কিন্তু কালীপুজো উপলক্ষ্যে তো বাজি কিনতেই হবে।’