Bartaman Logo
৯ জুন, ২০২৬
বর্তমান / কলকাতা

পঞ্চায়েত সদস্য থেকে শুরু করে বিরোধীদের জেলাস্তরের নেতারাও যোগ দিচ্ছেন তৃণমূলে

পূর্ব মেদিনীপুরের তমলুক হোক বা পশ্চিম বর্ধমানের কুলটি, বাঁকুড়া থেকে হুগলি, আবার জলপাইগুড়ি থেকে আলিপুরদুয়ার।

পঞ্চায়েত সদস্য থেকে শুরু করে বিরোধীদের জেলাস্তরের নেতারাও যোগ দিচ্ছেন তৃণমূলে
  • ১৩ মার্চ, ২০২৬ ০৪:০০
Prefer us on Google

রাহুল চক্রবর্তী, কলকাতা: পূর্ব মেদিনীপুরের তমলুক হোক বা পশ্চিম বর্ধমানের কুলটি, বাঁকুড়া থেকে হুগলি, আবার জলপাইগুড়ি থেকে আলিপুরদুয়ার। বঙ্গের উত্তর প্রান্ত থেকে দক্ষিণ প্রান্তের প্রায় প্রত্যেকটি জেলাতেই নিঃশব্দে যোগদান পর্ব সেরে ফেলছে তৃণমূল। যেখানে বিজেপির গ্রাম পঞ্চায়েতের সদস্য থেকে সিপিএমের অঞ্চল স্তরের নেতারা দলে দলে শামিল হচ্ছেন জোড়াফুলের পতাকাতলে। রাজ্যের শাসক দলের তরফে বলা হয়েছে, বিজেপি, সিপিএম, কংগ্রেসের জেলা, ব্লক অঞ্চল স্তরের নেতারা বুঝে গিয়েছেন ওদের দলে সংগঠন বলে কিছু নেই। তাই সুষ্ঠু রাজনৈতিক বাতাবরণের স্বার্থে বিরোধী দলের সদস্যরা তৃণমূল কংগ্রেসের পতাকা হাতে তুলে নিচ্ছেন।

Advertisement

ইদানীং সময়কালের মধ্যে দেখা গিয়েছে বিজেপির প্রাক্তন সাংসদ জন বার্লা, কার্শিংয়ের বিজেপি বিধায়ক বিষ্ণুপ্রসাদ শর্মা, বিজেপি সংসদ খগেন মুর্মুর স্ত্রী অরুণা মার্ডি, পূর্ব মেদিনীপুর জেলার ময়নার দাপুটে তৃণমূল নেতা চন্দন মন্ডল যোগ দিয়েছেন তৃণমূলে। অন্যদিকে আবার রাজনীতিবিদ ছাড়াও সমাজের অন্য অংশ থেকে বিশিষ্টরা তৃণমূলে এসে জোড়াফুলের পতাকা হাতে তুলে নিয়েছেন। তার মধ্যে সর্বাধিক উল্লেখযোগ্য জলপাইগুড়ির বাসিন্দা ক্রীড়াবিদ সোনার মেয়ে স্বপ্না বর্মন। পাশাপাশি তৃণমূলে যোগদান করেছেন কলকাতা হাইকোর্টের অতি পরিচিত আইনজীবী সৌরভ চন্দ্র। 
এই যোগদান পর্ব শুধুমাত্র রাজ্য স্তরেই সীমাবদ্ধ নেই, প্রত্যেকটি জেলাতেই তা হচ্ছে। যেখানে তৃণমূলের তরফে দেওয়া তথ্য অনুযায়ী বিজেপির গ্রাম পঞ্চায়েতের সদস্য থেকে সিপিএমের অঞ্চল স্তরের নেতারা তৃণমূলে যোগদান করছেন। বিজেপির ময়নার যে চন্দন মণ্ডল তৃণমূলে যোগদান করেছেন তাঁর স্ত্রী ওই এলাকায় বিজেপির গ্রাম পঞ্চায়েতের প্রধান। এর আগে এই পূর্ব মেদিনীপুর জেলার হলদিয়ার বিজেপি বিধায়ক তাপসী মণ্ডল তৃণমূলে যোগ দিয়েছেন। রাজ্যের শাসক দলের দাবি, নন্দীগ্রাম-১ এর অন্তর্গত কালীচরণপুর গ্রাম পঞ্চায়েত থেকে পঞ্চায়েতের জনপ্রতিনিধি বিজেপির তনুশ্রী দাস তৃণমূলে যোগদান করেছেন। তৃণমূলে শামিল হয়েছেন সেখানকার বিজেপির নেতা কালিপদ দাস। এছাড়াও গোকুলনগর, তমলুক, হলদিয়া, নন্দীগ্রাম, এগরা থেকে প্রচুর বিজেপি কর্মী তৃণমূলে শামিল হয়েছেন।  অন্যদিকে, পশ্চিম বর্ধমানের কুলটির একাধিক ওয়ার্ডের বিজেপি এবং সিপিএমের নেতারা তৃণমূলের যোগদান করেছেন। পুরুলিয়ার রঘুনাথপুরের কংগ্রেস নেতা বলরাম মাহাতো তৃণমূলে যোগদান করেছেন।  বাঁকুড়ার শালতোড়া থেকে সেখানকার বিজেপির প্রাক্তন ব্লক সভাপতি তৃণমূলে যোগদান করেছেন। হুগলির আরামবাগ, গোঘাট, শ্রীরামপুর, সপ্তগ্রাম থেকে বিজেপির মণ্ডল 
শাখার নেতারা তৃণমূলে যোগদান করেছেন। তৃণমূলের তরফে দাবি করা হয়েছে, যোগদান পর্ব হয়েছে উত্তর ২৪ পরগনার দমদম-বারাকপুর সাংগঠনিক জেলার একাধিক জায়গা থেকে। নদিয়া জেলার রানাঘাট, হরিণঘাটা থেকে বিপুল সংখ্যক যোগদান হয়েছে তৃণমূলে। সদ্য তৃণমূলে শামিল হয়েছেন মালদহের হরিশচন্দ্রপুরের অতি পরিচিত মুখ তথা ২০২১ সালে ওই কেন্দ্রের বিজেপি প্রার্থী মতিউর রহমান।
তৃণমূল দাবি করেছে, জেলায় জেলায় এই বিপুল যোগদানের মধ্যে দিয়ে তৃণমূলের সংগঠন আরও শক্তিশালী হচ্ছে। আর বিরোধীদের সংগঠন দুর্বল থেকে দুর্বলতর হচ্ছে। বিধানসভা নির্বাচনের দিনক্ষণ যত এগিয়ে আসছে, তত তৃণমূলের প্রতি বিরোধী দলের সদস্যদের যোগদানের হিড়িক আরো বাড়ছে।

সম্পর্কিত সংবাদ