Bartaman Logo
১০ জুন, ২০২৬
বর্তমান / কলকাতা

মমি থেকে বাঁশ-বেতের মণ্ডপ, কালীপুজোয় থিমের চমক পাণ্ডুয়ায়

দুর্গাপুজো পেরিয়ে কালীপুজোর মণ্ডপেও বহুবছর আগে ঢুকে পড়েছে থিম। তারপর স্বাভাবিক গতিতে তার বাড়বাড়ন্ত হয়েছে।

মমি থেকে বাঁশ-বেতের মণ্ডপ, কালীপুজোয় থিমের চমক পাণ্ডুয়ায়
  • ১৪ অক্টোবর, ২০২৫ ০৪:০০
Prefer us on Google

নিজস্ব প্রতিনিধি, চুঁচুড়া: দুর্গাপুজো পেরিয়ে কালীপুজোর মণ্ডপেও বহুবছর আগে ঢুকে পড়েছে থিম। তারপর স্বাভাবিক গতিতে তার বাড়বাড়ন্ত হয়েছে। থিমের নিজস্ব স্বাধীনতার প্রবাহে মিশে গিয়েছে দেশকাল, পুরাণ থেকে পুরনো। আধুনিক সময় থিম মানেই ভাবনা আর বাস্তবায়নের এক বিরল জড়োয়া গয়না। থিম মানে রাজকীয় আয়োজনে অতি রাজকীয় বৈভবের বাড়বাড়ন্ত। এক স্বপ্নের উড়ান, যেখানে সুদূর মিশর উড়ে এসে বসে যেতে পারে অখ্যাত পাণ্ডুয়ার কোনও এক মণ্ডপের চাতালে। যেখানে বাঁশ ও বেত শিল্পের পুরনো ধারায় জুড়ে যেতে পারে নতুন কোনও আঙ্গিক এবং হয়ে উঠতে পারে মনোহর মণ্ডপ। থিমের এই বৈচিত্র ও স্বপ্নময় উড়ানের আখ্যানই তিলে তিলে রচনা হচ্ছে পাণ্ডুয়ায়, কালীপুজোর মরশুমে।

Advertisement

পাণ্ডুয়ার অন্যতম বড় পুজোর আয়োজক স্টেশনবাজার কালীমাতা ব্যবসায়ী সমিতি। এবার তাদের আয়োজন, এক টুকরো মিশর। আরও ভালো করে বললে, মিশরের পিরামিড। যেখানে অন্তিমশয্যায় শুয়ে থাকেন মিশরের খ্যাতনামা রাজা, ফারাও। কেমন দেখতে সেই অন্তিম শয়ানকক্ষ, কেমনই বা দেখতে বিখ্যাত মমি। সেসব কৌতূহলের উত্তরকে থিমের আদলে ধরে মণ্ডপসজ্জা করা হয়েছে স্টেশনবাজারের পুজোয়। অনিন্দ্যসুন্দর এক রাজকীয় সমাবেশের আয়োজন চলছে পুজোর মাঠে। যেখানে পাথরের ভাস্কর্য তুলে আনা হবে ফাইবার আর ফোমের ছাঁচে। মণ্ডপের অভ্যন্তরে থাকবে অচেনা অথচ অনন্ত কৌতূহলের হিয়েরোগ্লিফিক লিপির গা ছমছমে শিল্প। থাকবেন আনুবিস, তাঁর ভয়ঙ্কর চেহারা নিয়ে। তিনটি স্তর পার করে পৌঁছতে হবে দেবীদর্শনে। প্রথমস্তরে মমিকক্ষের প্রবেশদ্বার। তারপরে মমিকক্ষ। সেখানে মমি রাখা থাকবে। আর তারপরের স্তরে দেবী চামুণ্ডা।  ঩সেখানেও বিস্ময় অপেক্ষা করবে। দেবীর সনাতন রূপ সেখানে দেখা যাবে না। মিশনের দেবতা, মতান্তরে রানিদের আদলে হাজির হবেন কালী। পুজোর উদ্যোক্তা তাপস ঘোষ বলেন, মমিকক্ষের আদলকে নিপুণভাবে ফুটিয়ে তোলা হচ্ছে। তাই থাকবে বিশেষ আলোর বাহার। তবে মণ্ডমেই শুধু আলো থাকছে তা নয়। উদ্যোক্তারা জানিয়েছেন, আলোর উৎসবে মণ্ডপ ঘিরে এবং রাস্তাতেও থাকবে আলোর ঝরণাধারা। সাবেক তোরণ থেকে কলকা, যান্ত্রিক কলাকৌশলের আধুনিক আলোর সাজে সাজবে স্টেশন বাজারের পুজো।
স্থাপত্য নয়, বাঁশ ও বেতের নান্দনিক কলাকৌশলের উপরে ভরসা রেখেছে প্রভাত সঙ্ঘ। তাদের মণ্ডপে আধুনিক একটি মন্দির গড়ে তোলা হচ্ছে। কিন্তু সেই মন্দির নির্মাণ করা হবে বাঁশ ও বেতের নিপুণ মেলবন্ধনে। সঙ্গে থাকবে নানারকম কাপড় ও লেসের কাজ। পুজোর আয়োজনের সঙ্গে জুড়ে থাকা নানা মোটিফ অনেকটা আলপনার ঢঙে সাজানো হবে মণ্ডপের অন্দরে-বাহিরে।
 পুজো উদ্যোক্তা সুদীপ্ত চক্রবর্তী বলেন, বাহারি রঙের সেই মণ্ডপ নিজেই আলো ছড়াবে। যদিও আলোর বন্যায় ভাসিয়ে দিতেও উদ্যোক্তারা প্রয়াসের অন্ত রাখছেন না। আর প্রতিমাতেও থাকছে চমক। এখানেও দেবীর সনাতনী রূপের দর্শন মিলবে না। গ্রিক পুরাণ ও ভারতীয় পুরাণের মেলবন্ধনে এক আধুনিক ধারার প্রতিমা দেখা যাবে।  নিজস্ব চিত্র

Advertisement
সম্পর্কিত সংবাদ