নিজস্ব প্রতিনিধি, দক্ষিণ ২৪ পরগনা: মণ্ডপে প্রবেশ করার সময় ভৌতিক অনুভূতি হবে। উপরে বসে থাকা লাল চোখের কাউকে পা দোলাতে দেখতে পাবেন দর্শনার্থীরা। আবার শান্তির খোঁজ করলে তাও মিলবে। প্যাগোডার ভিতরের পরিবেশ অনুভব করতে পারবেন ভক্তরা। এসবই এবার সোনারপুরের বিভিন্ন পুজো কমিটির থিম। একে অপরকে টেক্কা দিতে সবাই এখন জোর প্রস্তুতিতে ব্যস্ত।
৩৭তম বর্ষে পদার্পণ করা সোনারপুরের কোদালিয়া নেতাজি সংঘের এবারের থিম, ‘কালের যাপন’। উদ্যোক্তাদের বক্তব্য, যাপন শব্দের অর্থ সময় কাটানো। কাল হল সময় বা যুগ। মানুষ চাইলেই সময়কে ধরে রাখতে পারে না। সুখের মুহূর্ত হোক বা দুঃখের দিন সবকিছুই সময়ের নিয়মে বয়ে চলে। নিজেকে মানিয়ে নিয়ে বেঁচে থাকাটাই হল কালের যাপন। জীবনের সময় একবার তা চলে গেলে আর আসে না ফিরে। এই ভাবনা থেকেই থিম সাজানো হচ্ছে। আট লক্ষ টাকার বাজেট। ঠাকুর হচ্ছে টেরাকোটার।
ব্যাসালিপাড়ার হরিণাভির সর্বজনীন দুর্গাপুজো এবার ৫২তম বছরে পা দিল। তাদের থিমের নাম ‘কৈবল্য’। বাজেট ধরা হয়েছে ৬ লক্ষ টাকা। বুদ্ধ প্যাগোডার আকারে গড়ে উঠছে মণ্ডপ। পুজো কমিটির সম্পাদক অরণি ঘোষ বলেন, ‘কৈবল্য অর্থাৎ, শান্তি আর সেই শান্তি বিরাজ করে বুদ্ধ সংস্কৃতিতে। সেটাই ফুটে উঠবে আমাদের মণ্ডপে। থিমের সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখে তৈরি হচ্ছে প্রতিমা। আলোকসজ্জায় থাকছে নতুন রকমের এলইডি লাইট। যা দিয়ে এলাকার প্রতিটি রাস্তা আলোকিত করা হবে। মণ্ডপের জন্য থাকছে কিছু বিশেষ লাইট এফেক্ট। যা দেখে মানুষ আকৃষ্ট হবে।’
কোদালিয়া দাসপাড়া মিতালি সংঘের এবার ১৬তম বর্ষ। তারা এবার বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়ের আনন্দমঠকে থিম হিসাবে বেছে নিয়েছে। মণ্ডপে গল্পের নানা অধ্যায় তুলে ধরা হবে বলে জানিয়েছেন কমিটির সম্পাদক দীপক দাস। গুহার ভিতরে প্রবেশ করে জঙ্গল পথ দিয়ে গিয়ে দর্শনার্থীরা প্রতিমা দর্শন করতে পারবেন। তেরঙ্গা আলোয় মুড়ে ফেলা হবে এলাকা। পুজো কমিটির বক্তব্য, মণ্ডপের বাইরে বন্দেমাতরমের ইতিহাস নিয়ে হবে বিশেষ প্রদর্শনী। ৪০ লক্ষ টাকা খরচ হচ্ছে পুজোয়। থিমের সঙ্গে সাযুজ্য রেখে হচ্ছে প্রতিমা। মানিকপুর পুষ্পদল এবার ভুতুড়ে পরিবেশ তৈরি করে পুজো করবে। তাদের থিমের নাম ‘লুল্লুভূত’। বিশেষ কার্টুন চরিত্রকে অবলম্বন করে তৈরি হচ্ছে মণ্ডপ। বিভিন্ন মডেলের সাহায্যে ভূত দেখানো হবে। পুজো কমিটির সম্পাদক অনুপকুমার মিশ্র বলেন, ‘গাছের ডালে ভূত পা দোলাচ্ছে, এরকম সব ভাবনা রয়েছে। ভয় পাবে বাচ্চারা। আবার উপভোগও করবে। থিমের পুজো হলেও ঠাকুর সাবেকি ঘরানার।’ নিজস্ব চিত্র