সংবাদদাতা, উলুবেড়িয়া: একটানা বৃষ্টির পর নীল আকাশে পেঁজা তুলোর মত মেঘের আনাগোনা জানান দিচ্ছে শারোদৎসব আসন্ন। ইতিমধ্যে পাড়ায় পাড়ায় মণ্ডপ তৈরির কাজ শুরু হয়ে গিয়েছে। বাদ যায়নি শ্যামপুরও। থিম আর সাবেকিয়ানায় মোড়া এই এলাকার একাধিক পুজো গত কয়েকবছর ধরে শহরাঞ্চলকে রীতিমত টেক্কা দিচ্ছে।
শ্যামপুরে যে কয়েকটি পুজো দর্শনার্থীদের আকর্ষণের অন্যতম কেন্দ্রবিন্দু তার মধ্যে বাছরি ফুটবল মাঠ দুর্গাপুজো সমিতি অন্যতম। ৬০ বছরে পা দিয়েছে এই পুজো। এবারের থিম ‘আলোক স্পর্শে দেবী দূর্গা’। প্রায় ৩০ লক্ষ টাকা বাজেট এবছর। এবার প্লাস্টিকের বিভিন্ন আকারের ঝুড়ি দিয়ে প্রায় ৭৫ ফুট লম্বা প্যান্ডেল তৈরি করছে। পুজো কমিটির সভাপতি কিঙ্কর ভৌমিক জানান, মণ্ডপে বিভিন্ন রঙের আলো থাকছে। এর পাশাপাশি প্রতিমাতেও লুকিয়ে চমক। এর পাশাপাশি বাছরি যুব সঙ্ঘের পুজোও দর্শকদের কাছে আকর্ষণীয়। এ পুজো ৫৯তম বর্ষে পদার্পণ করেছে। এবারের থিম ‘পুতুল ঘরে মহাশক্তি’। প্রায় সাত লক্ষ টাকা বাজেট। হারিয়ে যাওয়া পুতুল শিল্প তুলে ধরছে এই পুজো। কমিটির সম্পাদক সাহেব প্রামাণিক জানান, ছোটবেলার পুতুল খেলা প্রায় হারিয়ে গিয়েছে। গ্রাম বাংলার পুতুলশিল্প বাঁচিয়ে রাখতে বিভিন্ন রকমের পুতুল দিয়ে মণ্ডপ সাজানো হচ্ছে। এর পাশাপাশি যামিনী রায়ের ছবি থাকছে। এছাড়া ঘোষখালি সর্বজনীন দুর্গাপুজোর এবারের থিম, ‘অন্তঃ শক্তি’। পুজোর বাজেট প্রায় পাঁচ লক্ষ টাকা। জলের উপর মণ্ডপ বাংলার বিভিন্ন রকমের হস্তশিল্প সামগ্রী সাজিয়ে তোলা হচ্ছে। পুজো কমিটির সম্পাদক দীপঙ্কর মান্না জানান, মানুষের অন্তরে যে সুপ্ত শক্তি আছে সেটাই থিম। বাংলার ঐতিহ্যবাহী হস্তশিল্প যেমন কুলো, গামছা, মাটির প্রদীপ, ঝুড়ি, আসন সহ বিভিন্ন সামগ্রী দিয়ে সাজিয়ে তোলা হচ্ছে মণ্ডপ।