Bartaman Logo
১০ জুন, ২০২৬
বর্তমান / কলকাতা

ফ্লাইওভারের নীচে বসবাস থেকে ‘তুচ্ছ’ গামছা, থিমের রাজত্বে সাধারণই অসাধারণের আধার

থিমের প্রয়োগ হলেও মণ্ডপ থেকে প্রতিমাসজ্জায় চলে আসে অপার স্বাধীনতার শক্তি। থিম মানেই আকাশ ছুঁয়ে ফেলা, সমুদ্রকে ধরে ফেলা মুষ্টিবন্ধনে।

ফ্লাইওভারের নীচে বসবাস থেকে ‘তুচ্ছ’ গামছা, থিমের রাজত্বে সাধারণই অসাধারণের আধার
  • ২৫ সেপ্টেম্বর, ২০২৫ ০৪:০০
Prefer us on Google

অভিজিৎ চৌধুরী, চুঁচুড়া: থিমের প্রয়োগ হলেও মণ্ডপ থেকে প্রতিমাসজ্জায় চলে আসে অপার স্বাধীনতার শক্তি। থিম মানেই আকাশ ছুঁয়ে ফেলা, সমুদ্রকে ধরে ফেলা মুষ্টিবন্ধনে। থিমই পারে বিন্দুতে সিন্ধু দর্শন করাতে। তাই তস্য প্রান্তিক মানুষের ঘরহীন জীবনের মাঝেও আবাহন হয় দেবীর। ব্যবহারিক জীবনে তুচ্ছ সামগ্রী গামছাকেই করে তুলতে পারে প্রতিবাদী হাতিয়ার। চুঁচুড়া আর শ্রীরামপুরের মণ্ডপসজ্জা থেকে প্রতিমার অবয়বে চোখ রাখলেই ধরা দেবে এই বাস্তবতা। দেখা যাবে সাধারণেরই অসাধারণত্ব। 

Advertisement

যাঁরা প্রতিদিন ফ্লাইওভার দিয়ে গন্তব্যে চলে যান, তাঁরা কি কখনও দেখছেন, উড়ালপুলের নীচে গড়ে উঠছে এক আস্ত সভ্যতা! যেখানে সত্যের নাম খিদে, যেখানে জীবনের নাম প্রতিদিন নিজেকে টিকিয়ে রাখা। উৎপল দত্তের এক বিখ্যাত নাটকে মেথরের ভূমিকায় অভিনয় করা চরিত্রের মুখে সংলাপ ছিল, ‘আমি কলকেতার তলায় থাকি’। কার্যত সেই নীচের তলা, অপরিচয়ের অন্ধকারে থাকা মানুষদের নিয়েই এবারের থিম রূপায়ণ করছে চুঁচুড়ার পঞ্চাননতলা সর্বজনীন। মণ্ডপের জায়গায় তৈরি করা হয়েছে এক বিরাট ফ্লাইওভার। সুসজ্জিত সেই ফ্লাইওভারের তলায় তৈরি করা হয়েছে গৃহহীন মানুষের এলোমেলো বসতি। তারা থিমের নাম দিয়েছে, ‘নীড় ছোট ক্ষতি নেই, আকাশ তো বড়’। বড় আকাশের টানেই ফ্লাইওভারের নিচে বসবাসকারীরা আকাশে উঁকি দেন, দেখতে পান বড় বড় বহুতল আকাশ ঢাকছে। কিন্তু উদ্যোক্তারা জিতিয়ে দিতে চান ঝুপড়িবাসীদের। তাই সেখানেই দুর্গার অধিষ্ঠান। পুজো উদ্যোক্তা পার্থপ্রতিম পোদ্দার বলেন, ‘মা তো ওঁদেরও, পুজোর রোশনাই সেই অন্ধকারকে আলোকিত করুক, সেটাই আমাদের বাসনা।’ জানা গিয়েছে, মণ্ডপসজ্জার সঙ্গেই থাকবে বাহারি আলোর জ্যামিতিক বিন্যাস। একটি রাস্তার বাঁকে এই মণ্ডপসজ্জা হয়েছে। ফলে ফ্লাইওভারটি অনেকটাই বাস্তব মনে হবে। বেশ কিছু মডেল থাকবে মণ্ডপে। প্রতিমা মাটির এবং সাবেকি ধাঁচের।
শ্রীরামপুরের টিনবাজার সর্বজনীন শোনাবে আরেক ‘তুচ্ছ’ গল্প। গামছা এবং গামছা শিল্প। গামছা শুধু প্রাচীন বস্ত্রখণ্ডই নয়, এদেশের নানা রাজ্যে গামছার নানা বাহার। কালোত্তীর্ণ গামছা বর্তমান সময়ে টাওয়েলের দাপটে প্রান্তিক হয়ে পড়েছে। সেই গামছা এবং গামছাকে মাঙ্গলিক চিহ্ন হিসেবে ব্যবহারের বাহুল্য নিয়েই মণ্ডপসজ্জা করেছে টিনবাজার। থাকছে কুলো, স্বস্তিক চিহ্নের মতো আরও কিছু মাঙ্গলিক উপাদান। আধুনিক আর্টের ফর্মে এখানে প্রতিমা সাজানো হচ্ছে। প্রশস্ত চাতাল থেকে গামছার বেড়াজাল ভেঙে ঢুকতে হবে চতুষ্কোণ মণ্ডপে। পুজো উদ্যোক্তা তথা স্থানীয় কাউন্সিলার রেখারানি শা বলেন, ‘আমাদের থিম বুনন। দর্শকদের জন্য গামছার মায়াজাল বুনছি আমরা।’ এভাবেই অলিগলি থেকে রাজপথ—উৎসবের মায়াজাল ক্রমশ ছড়িয়ে পড়ছে। আধুনিক ময়দানবদের নিপুণ কারিগরিতে চেনা শহরেও খেই হারাচ্ছে নাগরিককূল। 

Advertisement
সম্পর্কিত সংবাদ