নিজস্ব প্রতিনিধি, কলকাতা: উত্তরের মোমো থেকে দক্ষিণের জয়নগরের মোয়া। কলকাতার রসগোল্লা-মিষ্টি দই থেকে আলু বিরিয়ানি। উত্তর কলকাতার বিখ্যাত তেলেভাজা থেকে শুরু করে দক্ষিণ কলকাতার কাঠিরোল। ওইসঙ্গে শীতে পিঠেপুলি, পাটিসাপটা ও নলেন গুড়ের সন্দেশ। এসব খাবারের নাম শুনলেই কার না জিভে জল আসে। কিন্তু এই রসনার টানে বাংলায় আসছেন বিদেশি পর্যটকরাও।
সম্প্রতি, পর্যটন মন্ত্রকের ‘ইন্ডিয়া ট্যুরিজম ডেটা কম্পেন্ডিয়াম ২০২৫’ অনুযায়ী দেশের মধ্যে দ্বিতীয় সর্বোচ্চ বিদেশি পর্যটক এসেছে বাংলায়। এই সাফল্যের জন্য রাজ্যবাসীকে শুভেচ্ছা জানিয়ে ২৬ নভেম্বর টুইট করেছিলেন মুখ্যমন্ত্রী। ওইসঙ্গে কী করে রাজ্যকে এই ক্ষেত্রে এক নম্বরে নিয়ে যাওয়া যায় তাও খতিয়ে দেখার নির্দেশ দিয়েছিলেন তিনি। সেই নির্দেশ অনুযায়ী, পেশাদারি বিশেষজ্ঞ সংস্থাকে কজে লাগিয়ে বিদেশি পর্যটক সংক্রান্ত তথ্যের মূল্যায়নে নেমেছে রাজ্য। যার রিপোর্টের উপর ভিত্তি করেই আগামী দিনে বিদেশি পর্যটক টানার ক্ষেত্রে দেশের মধ্যে এক নম্বর জায়গায় পৌঁছোতে উন্নয়নমূলক পদক্ষেপ নেওয়ার পরিকল্পনা রয়েছে পর্যটন দপ্তরের।
বাংলার কোন কোন পর্যটন কেন্দ্রে বিদেশি পর্যটকরা বেশি যাচ্ছেন, তাঁরা কোন ধরনের খাবার খেতে বেশি পছন্দ করছেন, তাঁদের আরও কী কী সুযোগ-সুবিধা দেওয়া প্রয়োজন রয়েছে, তার জন্য নতুন কোনও পরিকঠামোর প্রয়োজন আছে কি না, ইত্যাদি বিষয়ে নিয়ে এই মূল্যায়ন পর্বে পর্যালোচনা করা হবে বলেই সূত্রের খবর। আর সেই কারণেই দ্রুত এই সংক্রান্ত তথ্য সংশ্লিষ্ট জেলা প্রশাসনকে পাঠানোর নির্দেশ দেওয়া হয়েছে রাজ্য পর্যটন দপ্তরের তরফে। তবে প্রাথমিকভাবে জানা গিয়েছে, বাংলার ঐতিহাসিক সৃষ্টি ও কৃষ্টির টানে আগাগোড়াই বহু বিদেশি ভ্রমণপিপাসু ভিড় জমান এরাজ্যের পর্যটন কেন্দ্রগুলিতে। তবে বর্তমানে একটি নতুন ট্রেন্ড দেখা গিয়েছে। তা হল বাংলার রন্ধনশৈলী ও ঐতিহ্যবাহী হাজারো পদও বহু বিদেশি পর্যটককে টেনে আনছে বাংলার মাটিতে। সুদুর ইংল্যান্ড, স্পেন, জাপান, জার্মানির পর্যটকরাও মজে উঠছেন কলকাতার ‘স্ট্রিট ফুডের’ আনন্দে। ‘ইন্ডিয়া ট্যুরিজম ডেটা কম্পেন্ডিয়াম ২০২৫’-এর তথ্য অনুযায়ী, দেশের মধ্যে বিদেশি পর্যটক টানার ক্ষেত্রে এক নম্বর স্থানে রয়েছে মহারাষ্ট্র। যেখানে ৩০ লক্ষ ৭১ হাজার বিদেশি পর্যটক এসেছে। আর দ্বিতীয় স্থানে থাকা পশ্চিমবঙ্গে এসেছে ৩০ লক্ষ ২১ হাজার বিদেশি পর্যটক। প্রশাসনিক মহলের মতে, এই পরিসংখ্যান শুধু আকাশপথে আসা পর্যটকদের। ফলে পার্শ্ববর্তী দেশ থেকে সড়ক পথে আসা পর্যটকদের সংখ্যা জুড়লে বাংলার বিদেশি পর্যটক সংখ্যা আরও বেশি হওয়ার কথা। সেই কারণেই সঠিক তথ্য পাওয়ার জন্য প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে বলেও সূত্রের খবর।