নিজস্ব প্রতিনিধি, বারাসত: জগদ্ধাত্রী পুজোয় ‘মিনি চন্দননগর’ নামে পরিচিত অশোকনগরের কল্যাণগড়। চারদিকে এখন সাজসাজ রব। তৈরি হচ্ছে আলোর তোরণ। মাইকে মৃদুস্বরে বাজছে গান বা ঢাকের বোল। একইসঙ্গে রকমারি থিম ভাবনার সঙ্গে দর্শনীয় মন্দির তৈরি করে দর্শনার্থীদের চমক দিতে চাইছেন উদ্যোক্তারা। কোথাও তৈরি হচ্ছে দীঘার জগন্নাথ মন্দির, আবার কোথাও থিম ‘মায়ের হেঁশেল’। কোথাও আবার কোভিড পরবর্তী সময়ে মানুষের দৈনন্দিন জীবনের চালচিত্র ফুটিয়ে তুলেছেন উদ্যোক্তারা।
কল্যাণগড়ের কয়াডাঙা দেশবন্ধু ক্লাবের ২৪ বছরের পুজোর থিম ভাবনা ‘মায়ের হেঁশেল’। দুই থেকে আড়াই কাঠা জায়গাজুড়ে তৈরি হচ্ছে বিশাল রান্নাঘর। জগদ্ধাত্রী মা এখানে বাংলার আটপৌরে রমণী গৃহবধূ। তাঁরই হেঁশেল তুলে ধরা হয়েছে মণ্ডপের মাধ্যমে। একটা হেঁশেলে যা যা থাকে, তার সব কিছুই অসাধারণ শিল্প নৈপুণ্যে ফুটিয়ে তোলা হয়েছে। থাকবে রকমারি মশলা থেকে রান্নার বাসনপত্র, কড়াই, হাঁড়ি, হাতা, খুন্তি, উনুন। এছাড়াও থাকছে বাটনা বাটার শিল-নোড়া থেকে বটি। মণ্ডপের ভিতরে রয়েছে কয়েকটি উনুন। তার উপর চড়ানো ভাতের হাঁড়ি। মায়ের মন্দিরটিও তৈরি হয়েছে উনুনের আদলে। মা জগদ্ধাত্রী এখানে বাংলার গৃহবধূ। তিনি জগৎ সংসার চালান। তিনি হেঁশেলও সামলান। সেই ভাবনা থেকেই এবার এই উপস্থাপনা পুজো কমিটির। পুজো কমিটির সম্পাদক সোমেন দাস বলেন, নারীশক্তিকে তুলে ধরতেই এ বছর আমাদের ভাবনা মায়ের হেঁশেল। একটা রান্নাঘরে যা যা থাকে, সবটাই মডেল আকারে এখানে রাখা থাকছে। আলোর সঙ্গে তা মানুষের নজর কাড়বে।
অশোকনগরের বেকারি মোড়ে ভ্রাতৃ সংঘের পুজো এবার ৩১ বছরের পড়ল। মণ্ডপসজ্জায় এবার তাদের আকর্ষণ দীঘার জগন্নাথ মন্দির। রথের দিন দীঘার জগন্নাথ মন্দিরের উদ্বোধন করেছিলেন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। এবার জগদ্ধাত্রী পুজোয় দর্শনার্থীরা অশোকনগরে দেখতে পাবেন জগন্নাথ মন্দির। ৭০ ফুট উচ্চতার মন্দিরটি প্লাই, প্যারিস, থার্মোকল ও রং দিয়ে তৈরি হচ্ছে। ভিতরে জগন্নাথ, বলরাম ও সুভদ্রার মূর্তি ছাড়াও বিষ্ণুর মূর্তি দেখা যাবে। মণ্ডপের সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখে তৈরি হয়েছে মাতৃ প্রতিমা। থাকবে চোখ ধাঁধানো আলোকসজ্জাও। এনিয়ে পুজো কমিটির সম্পাদক সুরোজ দে বললেন, অশোকনগরেরো বহু মানুষ দীঘায় গেলেও জগন্নাথ মন্দির দেখতে পারেননি। তাঁরা আমাদের মণ্ডপ দেখে উৎসাহিত হবেন। আমরা প্রতি বছর নিত্য নতুন থিম দিয়ে মানুষের মন জয় করি। জোরকদমে কাজ চলছে।
অন্যদিকে, কোভিডের সময়ে অনেক ছোটোখাটো কারখানা বন্ধ হয়ে গিয়েছে। বেরোজগার হয়ে পড়েছেন বহু মানুষ। তাছাড়া অনেক বাংলার ঐতিহ্যও হারিয়ে গিয়েছে। অনেকেই অন্য কাজে যুক্ত হয়ে সংসার সামাল দিয়েছেন। কোভিড পরবর্তী সময়ে সেই সব মানুষের দৈনন্দিন জীবনের চালচিত্র জগদ্ধাত্রী পুজো মণ্ডপের মাধ্যমে তুলে ধরার চেষ্টা করেছে কল্যাণগড়ের ফুটবল কোচিং সেন্টার। এবার তাদের পুজো ২৬তম বছরে পড়ল। কাপড়, বাঁশ, ফাইবার সহ অন্যান্য সামগ্রী দিয়ে তৈরি হচ্ছে প্যান্ডেল। পুজো কমিটির উদ্যোক্তা অমিত চক্রবর্তী বলেন, প্রতিবার নতুন ভাবনায় পুজো করে থাকি আমরা। এবারেও আশা করছি, আমাদের প্রচেষ্টা দর্শনার্থীদের মন ছুঁয়ে যাবে।