Bartaman Logo
১০ জুন, ২০২৬
বর্তমান / কলকাতা

পোড়া বাড়ির মন্দির-পাখির বাসা, বিভিন্ন থিমে সেজেছে ফলতা থেকে আউশবেড়িয়া

ঠাকুরকে নতুন শাড়ি পরানোর জন্য সারারাত জেগে থাকেন গ্রামের মহিলা এবং পুরুষরা। কারও মানত পূরণ হয়েছে বলে সোনার টিকলি দেন।

পোড়া বাড়ির মন্দির-পাখির বাসা, বিভিন্ন থিমে সেজেছে ফলতা থেকে আউশবেড়িয়া
  • ৩০ অক্টোবর, ২০২৫ ০৪:০০
Prefer us on Google

সংবাদদাতা, বজবজ: ঠাকুরকে নতুন শাড়ি পরানোর জন্য সারারাত জেগে থাকেন গ্রামের মহিলা এবং পুরুষরা। কারও মানত পূরণ হয়েছে বলে সোনার টিকলি দেন। কেউ দেন কানের দুল। কেউ গলার হার। বুধবার রাত থেকে বৃহস্পতিবার ভোর পর্যন্ত ফলতার হাসিমনগরের শিবতলার স্কুলমাঠে দেবীর সামনে তাঁর সাজ চাক্ষুষ করা এবং নিজেদের জিনিসপত্র পরানোর জন্য অপেক্ষা করলেন গ্রামের এবং বাইরে থেকে আসা বহু ভক্ত। ঠাকুরমশাইয়ের হাত থেকে শয়ে শয়ে শাড়ি ও নতুন অলংকার নিলেন জগদ্ধাত্রী। দক্ষিণ ২৪ পরগনা এবং বাইরে থেকে আসা অসংখ্য মানুষের শ্রদ্ধার দেবী হলেন ‘বুড়ি মা’। ৫৮ বছর আগে হাসিমনগরে যুবগোষ্ঠীর উদ্যোগে এই পুজোর সূচনা। আজ, বৃহস্পতিবার নবমী। ফলতায় জগদ্ধাত্রী পুজোর শুরু। চলবে চারদিন ধরে। রবিবার পর্যন্ত। পুজো কমিটির সদস্য রামকৃষ্ণ কর বলেন, ১৮ ফুট উচ্চতার ডাকের সাজের বুড়ি মাকে দর্শনের পর মন ভরে যায়। 

Advertisement

২৫ বছর ধরে নিয়ম মেনে নিষ্ঠা সহকারে পুজোর আয়োজন করে আসছে জয়ধ্বনি ক্লাব। ক্লাবের কালচারাল সেক্রেটারি শান্তনু কর বলেন, ‘আগেকার দিনের রাজবাড়ির ঠাকুরদালানের আদলে মণ্ডপ হয়েছে। প্রতিমা সাবেক ঘরানার। মণ্ডলপাড়া পঞ্চাননতলার সহযাত্রী ক্লাবের ২৮ বছর হল। এবার পুজোয় থিম, পোড়া বাড়ির মন্দির। সহ সম্পাদক সমীরণ মণ্ডল বলেন, প্রতিমার সাজ থিম অনুযায়ী হয়েছে। কাঠের মন্দির করেছে করপাড়া ক্লাব।  সম্পাদক রঘুনাথ কর বলেন, এবার ২৭ বছরে পা দিল পুজো। প্রতিমা সাবেক ঘরানার। স্পোর্টিং ইউনিয়নের পুজো ২৬ বছরে পড়ল। কুতিপাড়ার সবুজ সংঘের পুজোর থিম হল গণেশ ও ঘণ্টা। মণ্ডপ ছোট আকারের গণেশ ও ঘণ্টা দিয়ে সাজানো, জানান অনুপম পোড়িয়া। এখানে দু’কুইন্টাল কাঠ ও কুড়ি কেজি ঘি দিয়ে যজ্ঞ হচ্ছে। নিউ ইয়ং ফাইটার ক্লাবের সম্পাদক দিব্যেন্দু কর বলেন, নিয়ম ও নিষ্ঠার সঙ্গে পুজো করে থাকি। ৪৫ বছরে পা দিল পুজো। পাত্রপাড়ার ২৭ বছরের পুজোয় ডালপালা দিয়ে মণ্ডপ হয়েছে। পুরনো বাড়ির আদল। ভিতরে অজস্র পাখির বাসা। উদোক্তা সুমন মৃধা বলেন, প্রাকৃতিক ভারসাম্য রক্ষার জন্য পাখিদের বাসস্থান বাঁচানো দরকার। সেই বার্তা দেওয়া হয়েছে। আউশবেড়িয়া সর্বজনীন আদি মা পুজো ১৯ বছরে পা দিল। থিম হল, গোত্রের সুর। আদিবাসীদের সংস্কৃতির উপর ভিত্তি করে স্থানীয় যুবকরাই মণ্ডপ ও আলোর সাজ করেছেন। এছাড়াও আউশবেড়িয়া সর্বজনীন পুজো এবং আউশবেড়িয়া নারায়ণতলা পুজোর যথাক্রমে ১৩ এবং ১২ বছর।

Advertisement
সম্পর্কিত সংবাদ