টরন্টো: পরপর দু’ম্যাচে গোল। তাও পরিবর্ত হিসাবে মাঠে নেমে। জার্মানির নতুন নায়ক এখন ডেনিজ আনডাভ। আইভরি কোস্টের বিরুদ্ধে তাঁকে জাল কাঁপাতে দেখে ভিআইপি বক্সে বসা টমাস মুলারও উচ্ছ্বাসে ফেটে পড়লেন। নাগেলসম্যান ব্রিগেডের তরুণ তুর্কি নিঃসন্দেহে এবারের বিশ্বকাপের অন্যতম সেরা আবিষ্কার। মিরোস্লাভ ক্লোজের জুতোয় পা গলানো মোটেও সহজ নয়। ক্লোজের পর প্রথম জার্মান ফুটবলার হিসাবে বিশ্বকাপের প্রথম দু’ম্যাচে জাল কাঁপালেন আনডাভ। জার্মান সুপার সাবকে ঘিরে সোশ্যাল মিডিয়ায় প্রবল চর্চা। তবে তাঁর জীবন কাহিনি রুঢ় বাস্তবকেও হার মানায়।
১৪ বছর বয়সে এই আনডাভকেই বাতিল করে দিয়েছিল ওয়েডার ব্রেমেন অ্যাকাডেমি। ভাবা যায়! ফুটবলার হওয়ার স্বপ্নে জোর ধাক্কা। তবে আশা ছাড়েননি তিনি। জার্মানির চতুর্থ ডিভিশনের ক্লাব হাভেলসেতে নাম লেখান আনডাভ। খরচ চালাতে ভরসা কারখানার চাকরি। ভোর চারটেতে ঘুম থেকে উঠে সোজা কারখানায়। ৮ ঘণ্টার হাড়ভাঙা পরিশ্রম। লেজার মেশিন চালানোর একঘেয়ে কাজ সেরে বাড়ি ফেরার পর সব ক্লান্তিই ভুলে যেতেন প্রিয় ফুটবলের ছোঁয়ায়। দিনের পর দিন একই রুটিন। ধন্যি ছেলের অধ্যাবসায়। গনগনে খিদে, অপমান, অপ্রাপ্তির জ্বালা উগরে দিয়েছেন বিপক্ষের জাল কাঁপিয়ে। আনডাভ এখন স্বপ্নের উত্তরণের নাম। অথচ তাঁর বিশ্বকাপ স্কোয়াডে থাকাই ছিল অনিশ্চিত। কোচ নাগেলসম্যানের সঙ্গে বচসায় জড়িয়ে পড়েছিলেন তিনি। একবার সুপার সাব হিসাবে মাঠে নেমে যথারীতি গোল করেন আনডাভ। ম্যাচের পর জোর গলায় জানান, ‘প্রথম একাদশে খেলার যোগ্যতা রাখি।’ ব্যাস! আর যায় কোথায়? চটে গিয়ে পালটা দেন জার্মান কোচও। কোনো বিশৃঙ্খলা বরদাস্ত করবেন না তিনি। শেষপর্যন্ত অবশ্য আনডাভকে রেখেই স্কোয়াড ঘোষণা করেন নাগেলসম্যান। ভাগ্যিস তাঁকে বাইরে রাখার ভুল করেননি কোচ। অন্যথায় হয়তো ছাইয়ের গাদায় চাপা পড়ত হিরের টুকরো প্রতিভা।
আইভরি কোস্ট ম্যাচের পর প্রতিপক্ষের ল্যাপটপে জ্বলজ্বল করবে জার্মান ফুটবলারের নাম। আনডাভকে রুখতে পেশাদার ভিডিও অ্যানালিস্টের দল কোচের হাতে তুলে দেবেন অব্যর্থ টোটকা। জীবন সংগ্রামকে টেক্কা দিয়ে বেড়ে ওঠা তরুণের সামনে নতুন চ্যালেঞ্জ হাজির। তবে জীবনের ময়দান হোক বা ফুটবল মাঠ, আনডাভও যে চ্যালেঞ্জ নিতে ভালোবাসেন।