রঞ্জন চৌধুরি: সংযোজিত সময় চলছে। জার্মানি বনাম আইভরি কোস্ট ম্যাচ তখনও ১-১। ফেলিক্স মেহচার থ্রু খুঁজে নিল ডেনিজ আনডাভকে। চমৎকার হাফটার্ন করে বাঁ পায়ের চকিত শটে জাল কাঁপায় পরিবর্ত হিসাবে মাঠে নামা আনডাভ। তরুণ ফুটবলারের গোল ফুটবল মাঠের প্রাচীন প্রবাদ মনে করিয়ে দিল— জার্মানরা শেষ মুহূর্ত পর্যন্ত লড়তে জানে। জার্সির ভাঁজে লেপটে ইস্পাতকঠিন মানসিকতা। তবে আইভরি কোস্টের লড়াইও প্রশংসার দাবি রাখে। সুপার পাওয়ার জার্মানির কালঘাম ছুটিয়ে দিল দ্রোগবা, ইয়া ইয়া তোরের দেশ।
৩-৪-৩ ফর্মেশনে দল সাজিয়েছিলেন জার্মান কোচ নাগেলসম্যান। তিনি জানতেন, প্রতিপক্ষের রক্ষণ বেশ পোক্ত। তাই শুরুতে ঝটকা দিয়ে গোল তুলে নিতে চেয়েছিলেন জার্মান কোচ। তবে পাভলোভিচের গোল অফসাইডের জন্য বাতিল হয়। শুরুর ঝাঁকুনি সামলে এই পর্বে দারুণভাবে ম্যাচে ফেরে আইভরি কোস্ট। বিশেষ করে দুই উইং হাফ কেসি ও ওউলাই মুগ্ধ করল। ৩০ মিনিটে সুযোগসন্ধানী মনোভাবের পরিচয় দিয়ে জাল কাঁপায় কেসি। শুধু গোল করাই নয়, আইভরি কোস্টের রক্ষণ বিন্যাসও ছিল দারুণ। মুসিয়ালা, সানেদের পক্ষে ডাবল লেয়ার ডিফেন্স ভাঙা সম্ভব হয়নি। জার্মান ফুটবলাররা বল ধরলেই ধেয়ে এসেছে কড়া ট্যাকল। অনেকটা কাঁটা দিয়ে কাঁটা তোলার স্ট্র্যাটেজি নিয়েছিল আইভরি কোস্ট। আর তাতে পাওয়ার ফুটবলে বিশ্বাসী জার্মানিকেও রীমতমতো বিব্রত দেখায়।
বিরতির পর অবশ্য খোলস ছেড়ে বেরোয় জার্মান ব্রিগেড। কোচ নাগেলসম্যানের একসঙ্গে তিনটি পরিবর্তনই ম্যাচের টার্নিং পয়েন্ট। আমিরি, আনডাভ ও লিউয়েলিংকে মাঠে নামান তরুণ কোচ। লেরয় সানে, মুসিয়ালার মতো তারকা উঠে যাওয়ায় হয়তো খানিকটা রিল্যাক্সড হয়ে পড়েছিল আইভরি কোস্ট রক্ষণ। সদ্য নামা আনডাভকে কেউ পাত্তা দেয়নি। ৬৮ মিনিটে আমিরির চমৎকার ক্রস ট্যাপ করে জাল কাঁপায় আনডাভ। সমতা ফেরানোর পর চেনা মেজাজে জার্মানি। বেকেনবাওয়ারের দেশ তখন রক্তের স্বাদ পাওয়া বাঘ। শেষ মুহূর্তে আনডাভের লক্ষ্যভেদেই ২০১৪’র পর বিশ্বকাপের নক-আউটে জার্মানি। সামনে আরও কঠিন লড়াই। রক্ষণের ভুলত্রুটি নিশ্চয়ই নাগেলসম্যানের চোখ এড়ায়নি। ঘাটতি মেটাতে পারলে এই জার্মানি আরও ঝলমল করবে।