নিজস্ব প্রতিনিধি, চুঁচুড়া: দুর্গাপুজো আগেও বাঙালির সেরা উৎসব ছিল, এখনও আছে। তবে এখন সময়ের সঙ্গে তাতে লেগেছে চমকের পালা। দর্শক থেকে প্রতিদ্বন্দ্বী পুজো উদ্যোক্তাদের চমকে দেওয়ার সেই প্রবাহে এসে জুটেছে নানা উপাদান। প্রতিমা থেকে মণ্ডপসজ্জা, সবেতেই চিরাচরিত উপাদানের বাইরে বেরিয়ে চমকের পথ খুঁজছেন উদ্যোক্তারা। হুগলির এবারের পুজো তার ব্যতিক্রম নয়। তাই কোথাও টেরাকোটা ও মাটির মণ্ডপ তৈরি হচ্ছে, কোথাও আবার দেবী দুর্গা হয়ে উঠছেন বনদেবী বা বনদুর্গা। সনাতনী সাজ বা সজ্জার বাইরে দেবীর সেই অবস্থান। উদ্দেশ্য একটাই— চমক।
প্রাচীন সভ্যতাকে নিয়ে মণ্ডপসজ্জা খুব একটা অপ্রচলিত নয়। কিন্তু প্রাচীন সভ্যতার নিদর্শনগুলিকে যদি সেই সময়ের উপকরণ দিয়ে তৈরি করা হয়? তাতে একটা বাড়তি নতুনত্বের দিশা মেলে। সেই পথেই হেঁটেছে চুঁচুড়ার আজাদ হিন্দ ক্লাব। মহেঞ্জোদারো সভ্যতাকে অবিকল ফুটিয়ে তুলতে মাটি ও পোড়ামাটি দিয়ে তৈরি হচ্ছে মণ্ডপ এবং মণ্ডপসজ্জা। বাংলার সঙ্গে অবিচ্ছেদ্যভাবে জড়িয়ে আছে সেই সভ্যতা। রাখালদাস বন্দ্যোপাধ্যায়। বাংলার এই সুসন্তান হদিশ দিয়েছিলেন হারিয়ে যাওয়া সেই সভ্যতার। ফলে, মহেঞ্জোদারো নিয়ে বাড়তি উৎসাহ আছে আম জনতার। তাই দেবীকে এবার সেই মণ্ডপেই হাজির করছেন উদ্যোক্তারা। সঙ্গে পোড়ামাটির একাধিক নমুনায় সাজবে মণ্ডপ। যাতে আক্ষরিক অর্থেই এক হারিয়ে যাওয়া সভ্যতাকে ছুঁয়ে দেখা যাবে। প্রতিমাও মাটি দিয়ে তৈরি হবে। কিন্তু তাতেও থাকবে মহেঞ্জোদারো সভ্যতার ছোঁয়াচ। আজাদ হিন্দ ক্লাবের এবার ৭৫ বছর। এই আবহে পুজোকে ঘিরে মেগা প্রকল্প হাতে নিয়েছেন উদ্যোক্তারা। তাঁদেরই একজন বিশাল কাহার বলেন, এক টুকরো মহেঞ্জোদারোকে আমরা চুঁচুড়ার বুকে ফুটিয়ে তুলছি। এক বর্ণময় আয়োজনের ব্যবস্থা করা হচ্ছে।
মণ্ডপের গড়নে বা উপকরণে যদি বৈচিত্র্য থাকে চুঁচুড়ায়, তবে দেবীর গড়নে বৈচিত্র্য আনছে ব্যান্ডেল। ব্যান্ডেলের কেওটা উজ্জ্বল সঙ্ঘ বরাবরই বিগবাজেটের পুজোর জন্য পরিচিত। এবার তাদের দুর্গা পক্ষীপ্রেমী। কিছুটা বনদুর্গার আদলে ওই দেবীকে নির্মাণ করা হচ্ছে। নিজের এবং সন্তানদের যাবতীয় বাহনকে স্নেহদানরত দেবীকে দেখা যাবে মণ্ডপে। মহিষাসুর নিধনকর্ত্রী তিনি নন। দেবীর আরও কিছু ছায়া ও অবয়ব থাকবে। পাখি নিয়ে দেবীর ভালোবাসা প্রকাশ পাবে তাতে। থাকছে বড় আকারের পাখির বাসা। সেসব দিয়েই মণ্ডপসজ্জার কাজ অনেকটা হয়ে গিয়েছে। থিমের অনুসরণেরই তৈরি হবে মণ্ডপ। গড়ে উঠবে বনদুর্গার নিজস্ব ভবন। ক্লাবকর্তা শুভঙ্কর দাস বলেন, আমাদের থিম ‘বেলা শেষে নিজের দেশে আপন নীড়ে’। পাখির ভাবনাকে সামনে রেখেই এবার দেবীবন্দনার আয়োজন।
ইতিমধ্যেই সেজে উঠতে শুরু করেছে শহর। নয়া উন্মাদনার আবহ চুঁচুড়া থেকে ব্যান্ডেলে। পথের ধারে নানা উপকরণের বাহারি সজ্জার ইঙ্গিত। চমকের প্রস্তুতি তুঙ্গে।