রাহুল চক্রবর্তী, কলকাতা: রাজনীতির পিচে ব্যাটিং করছেন তাঁরা। বিধায়ক হিসাবে। কারও ব্যাটে এসেছে চার। কেউ আবার ছক্কা হাঁকিয়েছেন। কেউ আবার চার এবং ছয় দুটো যোগ করে ব্যাটে তুলে নিয়েছেন ১০ রান। এহেন রাজনৈতিক ব্যক্তিত্ব ওরফে বিধায়কদের দিকেই এবার নজর। বিধায়ক হিসেবে রেকর্ড ভাঙার খেলায় ছাব্বিশের ভোটযুদ্ধে কে নয়া নজির তৈরি করতে পারেন, সেটাই দেখার।
বিধানসভা নির্বাচনের ঢাকে কাঠি পড়ে গিয়েছে অনেকদিন আগেই। রাজনৈতিক মহলে এখন একটাই কৌতূহল, ভোট ঘোষণা কবে? বলার অপেক্ষা রাখে না—কারা প্রার্থী হবেন, তার সম্ভাব্য খোঁজ-খবর ইতিমধ্যেই সবকটি রাজনৈতিক দলই শুরু করে দিয়েছে। প্রার্থী বাছাইয়ের ক্ষেত্রেও প্রস্তুতি চলছে। ঠিক এই প্রেক্ষাপটেই একটি তথ্য সামনে উঠে এসেছে, বর্তমান বিধায়কদের মধ্যে যাঁরা পাঁচবারের বেশি জিতেছেন, এমন ক’জন রয়েছেন। বিধানসভার সচিবালয় সূত্রের খবর, ইসলামপুরের বর্তমান তৃণমূল বিধায়ক আব্দুল করিম চৌধুরী মোট দশবারের বিধায়ক নির্বাচিত হওয়ার রের্কড অর্জন করে ফেলেছেন! এটাই এখনও পর্যন্ত সর্বকালীন রেকর্ড। অর্থাৎ ৫০ বছরের বেশি সময় ধরে তিনি বিধায়ক! এখন এমন নজির একমাত্র আব্দুল করিম চৌধুরীরই রয়েছে। আগামী নির্বাচনে তিনি টিকিট পাবেন কি না সেটা তৃণমূল নেতৃত্ব ঠিক করবেন। আর যদি তিনি টিকিট পান তাহলে আরও নয়া রেকর্ড গড়তে পারবেন কি না সেটাও এখন চর্চার বিষয়। তবে দশবারের বিধায়ক আরও দুজন ছিলেন। আব্দুর রেজ্জাক মোল্লা এবং সুব্রত মুখোপাধ্যায়। তাঁরা ইতিমধ্যেই প্রয়াত।
মন্ত্রী শোভনদেব চট্টোপাধ্যায় বিধায়ক হয়েছেন ন’বার। তৃণমূল প্রতিষ্ঠা হওয়ার পর তিনি ছিলেন প্রথম বিধায়ক। বারুইপুর পশ্চিম, রাসবিহারী, ভবানীপুর হয়ে খড়দহের বিধায়ক পদে আছেন শোভনদেববাবু। অন্যদিকে ন’বারের বিধায়ক ছিলেন সাধন পান্ডে এবং বিশ্বনাথ চৌধুরী। তাঁরা এখন আর বেঁচে নেই। আটবারের বিধায়ক ছিলেন জটু লাহিড়ী। তিনিও প্রয়াত হয়েছেন।
সাতবারের বিধায়ক পদে আছেন রাজ্যের মন্ত্রী মানস ভুঁইয়া। সবং কেন্দ্রের সঙ্গে মানস ভুঁইয়ার এক অবিচ্ছেদ্য সম্পর্ক। রাজনীতির দলিলে বলা হয়ে থাকে, সবং এবং মানস ভুঁইয়া কার্যত সমার্থক। প্রথমে কংগ্রেস এবং পরে তৃণমূলের টিকিটে এই কেন্দ্র থেকেই জিতে চলেছেন মানসবাবু। প্রাক্তন বিধায়ক শান্তিরাম মাহাত ও নর্মদাচন্দ্র রায় সাতবারের বিধায়ক ছিলেন। ছ’বারের বিধায়ক পদে আছেন বজবজের অশোক দেব এবং কাটোয়ার রবীন্দ্রনাথ চট্টোপাধ্যায়। দুজনই এখন তৃণমূলের বিধায়ক। তবে ছ’বারের বিধায়ক পদে ছিলেন ফরাক্কার মইনুল হক। তিনি কিছুদিন আগেই মারা গিয়েছেন। পাঁচবারের বিধায়ক আছেন অনেকেই। এমনকি তিন বা চারবার বিধায়ক হয়েছেন, এমনও অনেকে রয়েছেন। কিন্তু পাঁচের অধিক সংখ্যা ধরলে সেক্ষেত্রে হাতে-গোনা কয়েকজনই আছেন মাত্র। আগামী নির্বাচনে তাঁদের মধ্যে ক’জন তৃণমূল কংগ্রেসের টিকিট পাবেন কিংবা জিতে আসবেন, সেদিকেই নজর থাকবে রাজনৈতিক মহলের।