Bartaman Logo
১০ জুন, ২০২৬
বর্তমান / রাজ্য

ফেসবুকে বন্ধুত্বের টান, উত্তরপ্রদেশ থেকে আউশগ্রামে এসে আশু শুনলেন বান্ধবী মৃত

ফেসবুকে বন্ধুত্বের টান, উত্তরপ্রদেশ থেকে আউশগ্রামে এসে আশু শুনলেন বান্ধবী মৃত
  • ৯ মে, ২০২৫ ০৪:০০
Prefer us on Google

সংবাদদাতা, কাটোয়া: ফেসবুকেই আলাপ, সেখান থেকেই বন্ধুত্ব দু’জনের। কিন্তু বান্ধবী আত্মহত্যা করায় টানা কয়েকদিন ফোনে যোগাযোগ করতে পারেননি। বন্ধুত্বের টানে সুদুর উত্তরপ্রদেশ থেকে প্রায় দু’হাজার কিমি রাস্তা পাড়ি দিয়ে পূর্ব বর্ধমানের আউশগ্রামের জঙ্গলমহলে এলেন বান্ধবী আশু কুমারী। বৃহস্পতিবার বাড়িতে এসে বান্ধবীর মৃত্যু সংবাদ পেয়ে চোখে জলও ফেলেন তিনি। গ্রামের বাসিন্দারা উত্তরপ্রদেশ থেকে আসা ওই বান্ধবীকে পুলিসের হাতে তুলে দেন। প্রায় ১২দিন আগে আউশগ্রামের বেলুটি গ্রামের মেয়ে টুম্পা খাতুন(২১) ট্রেনের সামনে ঝাঁপ দিয়ে আত্মঘাতী হন। ভেদিয়া ও পিচকুড়ি স্টেশনের কাছে তাঁর মৃতদেহ উদ্ধার হয়। টুম্পার সঙ্গেই তিন বছর ধরে ফোনে বন্ধুত্ব হয়েছিল আশু কুমারীর। তাঁরা কোনওদিন একে অপরকে দেখেননি। শুধুই ফোনে একে অপরের সুখ-দুঃখের কথা ভাগ করে নিতেন। মাসখানেক আগে টুম্পার সঙ্গে গ্রামেরই এক যুবকের বিয়ে হয়। কিন্তু টুম্পা মানসিক অবসাদে ভুগছিলেন। সেকারণে আত্মঘাতী হয়েছিলেন বলে পরিবারের দাবি। যদিও মৃত্যুর সঠিক কারণ এখন অজানা। ফোনে কয়েকদিন ধরেই বান্ধবীর খবর না পেয়ে দুশ্চিন্তায় ছিলেন উত্তরপ্রদেশের ওই বান্ধবী। 

Advertisement

এদিন সকালে আচমকা আউশগ্রামের টুম্পার বাড়িতে এসে হাজির হন বান্ধবী আশু কুমারী। তিনি উত্তরপ্রদেশে একটি বেসরকারি স্কুলের শিক্ষিকা। তিনি বলেন, আমি টুম্পাকে খুব ভালোবাসতাম। আমরা কেউ কাউকে ঠিকমতো চিনি না। তবুও হৃদয়ের টানে এসেছি। কিন্তু ও যে মারা গিয়েছে তা জানতে পারিনি। খুব খারাপ লাগছে। আমরা তিন বছর ধরে একে অপরের খোঁজ নিয়েছি। কিন্তু সামনাসামনি দেখা হল না। এটাই আফশোস। টুম্পার মা রসবা বেগম শেখ বলেন, আমরা ওই মেয়েটিকে পুলিসের হাতে তুলে দিয়েছি। পুলিস যা ভালো বুঝবে তাই করবে। আমাদের মেয়েটা কেন চলে গেল বুঝতে পারছি না। 
বন্ধুত্বের টানেই সুদূর উত্তরপ্রদেশ আর আউশগ্রামের জঙ্গলমহল মিশে গেল এক সুতোয়। কিন্তু বান্ধবীর সঙ্গে শেষ দেখা না হওয়ায় একরাশ হতাশা আর আফশোস নিয়েই বাড়ি ফিরতে হচ্ছে বছর তেইশের আশু কুমারীকে।

Advertisement
সম্পর্কিত সংবাদ