Bartaman Logo
১ আগস্ট, ২০২৬
বর্তমান / চতুষ্পর্ণী

আত্মীয় নয় বন্ধুরাই আপন

বন্ধুত্ব ও আত্মীয়তার মধ্যে সম্পর্কের গুরুত্ব নিয়ে আলোচনা। বিপদে বন্ধুরা কি সত্যিই আপন? বিস্তারিত পড়ুন।

আত্মীয় নয় বন্ধুরাই আপন
  • ১ আগস্ট, ২০২৬ ০৪:০০
Prefer us on Google

পক্ষে

Advertisement

 অপূর্ব দাস
আত্মীয়ের সঙ্গে রক্তের সম্পর্ক থাকলেও আত্মার সম্পর্ক বোধহয় বন্ধুদের সঙ্গেই বেশি থাকে। আত্মীয়তা মানুষ তৈরি করতে পারে না। কিন্তু বন্ধুত্ব মানুষ নিজের হাতে গড়ে তোলে। তাই তার স্বাদ অনেক বেশি মধুর। বন্ধুরা সমবয়সি হওয়ায় বিনা সংকোচে সমস্ত আবেগ ভাগ করা যায়। বন্ধু অর্থাৎ বন্ধন, তা কোনো গণ্ডিতেই আবদ্ধ নয়। 
কলেজ ছাত্র

ভাস্বতী চৌধুরী
আত্মার সঙ্গে যোগাযোগ যার সেই হয় আত্মীয়। রক্তের সম্পর্কের লোকজনের থেকে জীবনপথে চলতে যে বন্ধু, সঙ্গীদের সঙ্গে চেনা জানা হয়, তাদের সঙ্গেই আত্মার যোগাযোগ থাকে বেশি। বেশিরভাগ ক্ষেত্রেই আত্মীয়রা চাওয়া পাওয়া, দেওয়া নেওয়ার ক্ষুদ্র গণ্ডি পেরতে পারেন না। যেখানে বন্ধুরা অনেক উদারতার পরিচয় দেন, গভীর সংকটে পাশে থাকেন। 
শিক্ষিকা

 পার্থ প্রতিম মণ্ডল
বন্ধুত্ব রক্ত বা প্রথাগত অনুশাসনের বেড়াজাল ছাড়িয়ে জীবনের এক পরম স্বস্তির সম্পর্ক। আত্মীয়তার কৃত্রিমতা ও প্রতিযোগিতার বিপরীতে বন্ধুত্বের জগৎ সম্পূর্ণ স্বচ্ছ ও অকৃত্রিম। বন্ধুরা নিঃস্বার্থভাবে আনন্দ ভাগ করে নেয়। একে অপরের উত্তরণে গর্ববোধ করে। চরম প্রতিকূলতার দিনে পরিবার মুখ ফিরিয়ে নিলেও, বন্ধুরা পাশে দাঁড়ায়। 
প্রধান শিক্ষক

শোভন সেন
যার সামনে মনের সব চিন্তাকে ছাঁকনিবিহীনভাবে উচ্চারণ করা যায়, তাকেই তো বন্ধু বলে। বর্তমান সময়ে পরিবারে ভাইবোনের সংখ্যা কমে গিয়েছে। কর্মসূত্রে মানুষ পৃথিবীর নানা জায়গায় ছড়িয়ে পড়েছে। তাই আত্মীয়, পরিবারের সঙ্গে সম্পর্ক ক্ষীণ হয়েছে। তাই বিপদে, সম্পদে বন্ধুরাই আপন হয়ে ওঠে। 
শিক্ষক

বিপক্ষে

 ছন্দা মণ্ডল
আত্মীয়রা পাশে থাকলে পারিবারিক ও সামাজিক শক্তি পাওয়া যায়। যে কোনো সংকটে আত্মীয়রাই প্রথম মানসিক ও আর্থিক সহযোগিতার হাত বাড়িয়ে দেন। আত্মীয়দের সঙ্গে সুসম্পর্ক সামাজিক বিচ্ছিন্নতা দূর করে, পারস্পরিক সহযোগিতার মনোভাব তৈরি করে। তাই যতই বন্ধু-বান্ধব থাকুক না কেন আত্মীয়দের মিলনেই পূর্ণতা পায় উৎসব, সামাজিক অনুষ্ঠান। মজবুত হয় সাংস্কৃতিক বন্ধন।
স্কুল শিক্ষিকা 

 সুনন্দা পাহাড়ী
এই স্বার্থপর দুনিয়ায় বন্ধু পাওয়া দায়। স্কুলে একই বেঞ্চে পাশে বসে থাকা, কলেজে একসঙ্গে ঘুরে বেড়ানো কিংবা অফিসে পাশের ডেস্কে বসে কাজ করে চলা ‘বন্ধু’ নামক প্রাণীটিকে চেনা বা ভরসা করা সহজ নয়। কখন যে পাশে বসেই আপনার নামে নিন্দার ঝড় তুলবে, টেরটিও পাবেন না। এদিকে আত্মীয়দের কিছুটা রক্তের টানে বা প্রকৃত মনের টানে কিছুটা পাশে পাওয়া যায়। ওদিকে ‘বন্ধু’ মানেই এক অযথা আতঙ্ক, নিজের পিঠ বাঁচাতে সদাই ব্যস্ত। বিপদের দিনে সবাইকে চেনা যায়।
দন্ত চিকিৎসক

 অনির্বাণ কার্ফা
আজকের যুগে সম্পদে-বিপদে-দৈন্যে-রাজদ্বারে শ্মশানে পাশে দাঁড়ানোর মতো বন্ধু কোটিতে গুটিকয়েক ভাগ্যবানের কপালেই জোটে। সেই তুলনায় আত্মীয়দের অনেক বেশি আপন মনে হয়। গভীর রাতে হঠাৎ রক্তের প্রয়োজনে, আর্থিক প্রয়োজনে ফোনের টাচ স্ক্রিনে আত্মীয়দের নম্বরগুলোতেই আঙুল আগে চলে যায়। কিছু ব্যতিক্রম বাদ দিলে এটা নিশ্চিত করে বলা যায় যে, রাতে ফোনটা রিসিভ আগে আত্মীয়ই করবে, বন্ধু নয়। 
সিভিল ইঞ্জিনিয়ার

 সৈয়দ সাদিক ইকবাল
জীবনে চলার পথে প্রচুর মানুষের সঙ্গে পরিচয় হয়, সেখান থেকে সম্পর্ক তৈরি হয়। অনেক সম্পর্ক বন্ধুত্বের আকার ধারণ করে। তবে কাছের কিছু মানুষ থাকেন যাঁরা রক্তের বন্ধনে আবদ্ধ। এদেরকে আমরা সাধারণত আত্মীয় হিসেবে চিনি। আত্মীয়তার বন্ধন দীর্ঘস্থায়ী। বিশেষ করে মানুষ যখন বিপদে পড়ে তখন নিকট আত্মীয়রা সাহায্যের হাত বাড়িয়ে দেন। 
সরকারি কর্মচারী 

Advertisement
সম্পর্কিত সংবাদ