Bartaman Logo
১০ জুন, ২০২৬
বর্তমান / কলকাতা

বাবা-মা বাড়িতে না থাকার সুযোগে বেপরোয়া তরুণী! উদ্দাম মদ্যপান ও যৌনতা, ২০ লাখের সোনা নিয়ে উধাও বন্ধুরা

স্ত্রীকে সঙ্গে নিয়ে তিনদিনের জন্য ব্যবসায়ী বাবা গিয়েছিলেন বসিরহাটের আদি বাড়িতে।

বাবা-মা বাড়িতে না থাকার সুযোগে বেপরোয়া তরুণী! উদ্দাম মদ্যপান ও যৌনতা, ২০ লাখের সোনা নিয়ে উধাও বন্ধুরা
  • ১৭ ডিসেম্বর, ২০২৫ ০৪:০০
Prefer us on Google

নিজস্ব প্রতিনিধি, বরানগর: স্ত্রীকে সঙ্গে নিয়ে তিনদিনের জন্য ব্যবসায়ী বাবা গিয়েছিলেন বসিরহাটের আদি বাড়িতে। সেই সুযোগকে কাজে লাগিয়ে ২৩ বছরের তরুণী কন্যা ‘উদ্দাম ফূর্তির মজলিশ’ বসিয়েছিল নাগেরবাজারের বাড়িতে। বন্ধু-বান্ধবীদের ডেকে এনে নেশার আসর বসানোর সঙ্গেই চলেছিল বেপরোয়া যৌনতা। ফূর্তিতে যখন ব্যস্ত বেপরোয়া তরুণী, সেই ফাঁকে বাড়িতে ডেকে আনা বন্ধুরা আলমারি খুলে লোপাট করে দিয়েছিল ১৫ ভরি সোনার গয়না। তিনদিন পরে বাড়ি ফিরে কার্যত মাথায় বাজ পড়ে ওই ব্যসায়ী ত্রিদিব ঘোষের (নাম পরিবর্তিত)। বাড়ি থেকে হাপিস ২০ লক্ষ টাকা মূল্যের গয়না। জিজ্ঞাসাবাদ করে ত্রিদিববাবু জানতে পারেন, তাঁদের অবর্তমানে বাড়িতে বসা ‘মেহফিলে’ আসা মেয়ের বন্ধুরাই চুরির ঘটনার সঙ্গে যুক্ত। অভিযোগ জানানো হয় পুলিশে। তদন্তে নেমে দেদার নেশা আর উদ্দাম যৌনতার বিষয়টির সঙ্গেই পুলিশ জানতে পারে, ওই তরুণীর ‘বন্ধু’ একবালপুরের দুই যুবক এই চুরির সঙ্গে যুক্ত। চলতি সপ্তাহে একবালপুর থেকে গ্রেফতার করা হয় ওই দুই বন্ধু সিদ্ধান্ত থাপা ও জেইন খানকে। আদালতে নির্দেশে তাদের হেপাজতে নিয়েছে পুলিশ। চুরির গয়না বিক্রি করেও যে তারা দেদার ফূর্তি করেছে, তার যাবতীয় তথ্য মিলেছে। বিক্রি হওয়া চুরির গয়না উদ্ধারের চেষ্টা চালাচ্ছেন তদন্তকারীরা।  

Advertisement

দক্ষিণ দমদম পুরসভার পূর্ব সিঁথি রোডের ঘোষ পাড়া এলাকার এক আবাসনের বাসিন্দা ইটভাটার মালিক ত্রিদিববাবু গত ৭ নভেম্বর স্ত্রীকে নিয়ে বসিরহাটের আদি বাড়িতে গিয়েছিলেন। তিনদিন পর ফিরে এসে দেখেন আলমারিতে থাকা নগদ ১০ হাজার টাকা ও প্রায় ২০ লক্ষ টাকা মূল্যের সোনার গয়না উধাও। তদন্তে নেমে পুলিশ জানতে পারে, বাবা-মা বসিরহাট যাবে জেনে ফূর্তির আগাম পরিকল্পনা সাজিয়েছিল মেয়ে। বাবা মা বেরিয়ে যাওয়ার পরই সে যাদবপুরের এক বান্ধবীকে বাড়িতে ডেকে নেয়। এরপর প্রথম দিন দু’জন, দ্বিতীয় দিনেও দু’জন এবং তৃতীয় দিন চারজন ছেলেকে বাড়িতে ডেকে এনেছিল। তাদের মধ্যে কয়েকজনের সঙ্গে  ইনস্টাগ্রামে পরিচয় হয়েছিল তরুণীর। তদন্তকারীরা বলছেন, কেনা হয়েছিল দামি মদ ও গর্ভনিরোধক পিল। সে সবের ফুটেজও তদন্তকারীরা পেয়েছেন। ওই তিনদিন দুই বান্ধবী ডেকে আনা বন্ধুদের সঙ্গে উদ্দাম ‘গ্রুপ সেক্সে’ ভেসেছিল। 
নাগেরবাজারের বাসিন্দা ওই ব্যবসায়ীর বাড়িতে আসা মেয়ের বান্ধবী সহ বাকি যুবকদের নোটিস দিয়ে থানায় ডেকে পাঠায় পুলিশ। জেরা করার পর দু’জনকে গ্রেফতার করা হয়। তদন্তকারীরা জানিয়েছেন, ধৃত সিদ্ধান্ত ও জেইন অপরাধ স্বীকার করেছে। তদন্তকারীরা জেনেছেন, নিম্নবিত্ত ঘরের ছেলে হলেও তাদের জীবনযাপন সেলেবদেরও হার মানাবে। মা ৮ হাজার টাকার মাসিক বেতনে সিকিউরিটি এজেন্সিতে কাজ করলেও, সিদ্ধান্ত ১ লাখ ৩০ হাজার টাকার আই ফোন ব্যবহার করে। মায়ের বেতন থেকে মাসে ছ’হাজার টাকা কিস্তি দেয়। চুরির সোনা বিক্রি করে সে নানান বহুমূল সামগ্রী কিনেছে। নামী-দামি ব্র্যান্ডের মদ সেবনের সঙ্গেই সিঙ্গিং ও হুক্কা বারে গিয়ে দেদার টাকাও উড়িয়েছে তারা।  

Advertisement
সম্পর্কিত সংবাদ